দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট
♣♣♣ লালচাঁন ও কুসুমি’র প্রেমকাহিনী ♣♣♣ ( রম্যগল্প) শেষ পর্ব

♣♣♣ লালচাঁন ও কুসুমি’র প্রেমকাহিনী ♣♣♣ ( রম্যগল্প) শেষ পর্ব

ছবিঃ লেখক

পিয়ারা বেগম।। বুড়ি মায় বাড়িতে গিয়া দেহে চিলের নখের আঁচড়ে আমার পেটের কাছে একটু জখম অইছে, রক্ত বাইর অইছে। ব্যথায় আমি কোকাইতাছি। বুড়ি মায় তাড়াতাড়ি একটা চামুচে হলুদের গুড়া লইয়া পানিতে গোলাইয়া গরম কইরা জখমের জায়গায় লাগাইয়া দিল। আমি আরাম সে চুপ কইরা রইলাম। আমার মা ভাইবোন গো লাইগ্যা পরাণডা পুড়ছে। আহা রে! আমার মায় তো জানতেই পারল না তার অভাগা মুরগীর ছানাডা বাঁইচা আছি। সারা রাইত ছটফট করছি। থাকছি মায়ের পাখনার তলে আর আইজগা উদাম অইয়া শীতে থরথরাইয়া কাঁপছি। এমনি কইরা বুড়ি মার যত্নআত্তি-তে আমি গায়-গতরে বড় অইলাম। তয় দেখতে আহামরি না অইলেও মন্দ না, সুন্দরীই কয় সব্বাই। তাই তো পড়ছি সমস্যায়! আশেপাশে মোড়গগুলা ভালোবাসা করনের লাইগ্যা সারাদিন কুটকুট কইরা,পাখনা ঝাপটাইয়া পেরেম নিবেদন করে। আমি পাত্তা দিই না। ভয় লাগে। কারণ,বুড়ি মারে কইতে হুনছি, এহন কলির যুগ। ভুল পথে পাও বাড়াইলে জীবনে পস্তাইতে অইব। তাই মনডারে কোটরার বিতরে বইরা থুইছি। এতিমের আবার ভালোবাসা?
হঠাৎ বুড়ি মায় তার মাইয়ারে মোবাইলে কইল, আমারে জবাই করলে না কী দেড় কেজি গোশত অইব। তাই আগামীকালই ঢাহা লইয়া যাইব। সব্বাই মিইলা জবাই কইরা ভূনা খিচুরী খাইব। এত্ত যত্ন-আত্তি কইরা পাইল্যা শেষমেশ বুড়ি মায় আমারে গলায় ছুরি দিব! বুড়ি মার কী এট্টু মায়াও নাই আমার লাইগ্যা। আমি তো বুড়ি মার পালইক্যা মাইয়া! অ বুঝছি, ভুইলাই গেছিলাম আমি টোহাইন্যা, কুড়াইন্যা মুরগী। যাক, পড়ছি গোহালে যা আছে কপালে। তয়, এই কথা হুইন্যা মনে মনে কইলাম চিলের পেডে, বেজির পেডে গেলেই বালা আছিল। এখন চাক্কু দিয়া আমার গলা কাটবো! ভয়ে আমার ধরে আর প্রাণ নাইক্যা। রাইতে ঘুম অইল না। ফাঁসির আসামীর মতো সময় গুনতাছি। হায় রে জীবন!

সহালেই আমারে নিয়া রওয়ানা দিয়া আইল বুড়ি মার বইনের পোলা গো বাইত। ঢাহা যাওনের পথেই হেগ বাড়ি। আমারে পায়ে দড়ি বাইন্দা ঝুপড়ী দিয়া আটকাইয়া থুইল। ওমা, দেহি ঐ বাড়িতে একদম লাল টুকটুইক্যা একটা মোড়গ! এক্কেবারে টগবগে যোয়ান!! হ্যান্ডস্যাম!!! আমার ঝুপড়ীর চারপাশে কুটকটু কইরা পাখনা ঝাপড়াইতেছে। আর আড়ে আড়ে চায়। কী কমু শরম লাগে যে, আমারও তানিরে মনে ধরছে। আমিও আড় চোখে চাইয়া চাইয়া মুচকী মুচকী হাসতাছি। বুঝছি, এইডারেই ভালোবাসা কয়! তানি দেখতে আমার চাইতেও সুন্দর তাই আমি তানির নাম দিলাম লালচাঁন। লালচাঁনও খুশি অইয়া আমারে একটা নাম দিল, কুসুমি। আমি না-কী গোলাপ ফুলের মতন। তাই আমি সুরভিত সৌরভে, সুবাসিত চমকে আর চোহের ঠমকে তানিরে না কী পাগল বানাইছি। আমি লেহাপড়া জানি না বইল্যা এই গুলানের অর্থ বুঝি না। তানি আবার লেহাপড়ায় বড় পাশ দিছে। তানি কয়, ফুলের আরেক নাম কুসুম তাই আমারে সোহাগ কইরা তানি কুসুমি ডাহে! আহা কী আনন্দ আকাশে-বাতাসে !!!”””!????
আর লালচাঁন সারাদিন খালি আমার ঝুপড়ীর চারদিকে ঘুরঘুর করে আর কুটকুট কইরা খাওনডা মুখে লইয়া আমারে ডাহে, কুসুমি কাছে আহ না? আমি পুলকিত অইতাম। আমার ভেতরডা শিহরিত অইয়া তোলপাড় কইরা ওঠত! আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা! আর আমার ভালোবাসা, আমার পরাণপাখী লালচাঁনের স্পর্শ যে কী তাও পাইলাম না, মরার ঝুপড়ীর লাইগ্যা। আমি ঝুপড়ীর ভেতরে, লালচাঁনে বাইরে। কন তো? কী কষ্টে কাটানো আমাগো ভালোবাসার রোমান্টিক মুহূর্তগুলা! আস্তে আস্তে দুজনে আরো ঘনিষ্ট অইলাম। কিন্তু আমারে যে ঢাহা লইয়া যাইব জবাই করনের লাইগ্যা হেই কথাডা জানাই কেমনে? জানি, হুনলে লালচাঁনে ঠিকই পাগল অইয়া যাইব। হায় রে পোড়া কপাল! জন্ম থাইক্যাই জ্বলছি!!! ভেতরে কষ্টটা চাইপ্যা দুই জনেই রংতামাশা করতাছি। ভাবছি, এত্ত সুখ আমার সইবেতো? যহন হুনছি বুড়ি মায় দিন চারেক থাকব এই খানে তহন মনডা আনন্দে লাফালাফি করতাছে। কিন্তু জবাই করনের কথা মনে অওনে বুকটা আবার ধড়াস কইরা ওঠে! তয়, মায় কিন্তু কইছে, “মারে ডরাইছ না। জবাই অওনের আশংকা মাথায় লইয়াই আমরা সন্ধ্যার পর খোয়ারে ঢুকি রে মা! এডাই আমাগো নিয়তি! আর আমাগো জন্মডাই অইছে মানষেরে খাওনের লাইগ্যা!!” বিপদে আল্লাহরে বেশি কইরা ডাকবি রে মা! দেখবি, কষ্টডা কম অইব। যাউকগা, কষ্টের কথা মনে কইরা লালচাঁনের সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলা নষ্ট করতাম না।

ও আল্লাহ! রাইতে হুনি, বুড়িমার বইন পুতের বউয়ে কয়, আমারে হের পছন্দ। তাই আমার বদলে লালচাঁনেরে দিয়া দিব। আগে জবাই অইতাম আমি আর অহনে জবাই অইব আমার লালচাঁনে। দেখছুনি কারবারডা? মাইনষের কেমন মতলবি কাজ। আমাগো দুই জনরে ছাড়া আর কাগ্গরে ঠুলি চোহে দেহে না! নাহ! এ দুনিয়ায় আমাগো আর মিলন অইব না। রাইতে দুই চোহের পাতা এক করতে পারলাম না। তার পরের দিন লালচাঁনের ভোরেই আটকাইল! আর আমারে দিল ছাইড়্যা। কন চান দেহি কেমনডা লাগে? আহারে বেচারী! লালচাঁনের দুইপাও মোডা দড়ি দিয়া পিছমোড়া বাইন্দা আটকাইছে। লালচাঁনে আমার দিকে চাইয়া রইল একদৃষ্টিতে! আমিও ঠাডামরা মানষের মতো ঠায় খাড়াইয়া রইলাম। এখন লালচাঁনে ধাপড়াইয়াতাছে ছোডনের লাইগ্যা। আর গলা ফাডাইয়া কো কো করতাছে। কষ্টে বুকটা আমার ফাইট্টা যাইতাছে। কারোরে কিছুই কইতে পারলাম না! ধইরা ছুডাইয়া রাহনের ক্ষেমতাও নাইক্যা। চক্ষের সামনে আমার ভালোবাসার মোড়গের এমন মরণ দশা দেইখ্যা ভাবছি, কেন যে, চিলের পেডে গিয়া হজম অইলাম না। হায় রে জীবন!! গেলগা বুড়িমায় লালচাঁনের লইয়া আমার বুকে চাক্কু মাইরা। আমি বুক চাপরাইয়া কানতাছি আর চাইয়া চাইয়া দেখতাছি। বুক থাইক্যা জোরে নিঃশ্বাস ছাইড়্যা কইলাম, আল্লাহ গো, আমাগো কেন বোবা কইরা এই দুনিয়ায় পাখি বানাইয়া পাডাইলা?

মনে পইরা গেল সন্ধ্যা মুখার্জির সেই গানের কলি –
চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে,
চেয়ে চেয়ে দেখলাম।
আমার বলার কিছু ছিল না, না গো আমার বলার কিছু ছিল না।
এমনি বিরহ-যাতনায় সময় পার করলাম কতডা বছর। সেই থাইক্যা এ বাড়িতেই আছি। বয়স বাড়ছে, তয় এইডাই কষ্ট, একেক বারে পনেরো-ষোলোডা বাচ্চা বড় করি। মেহমান আইলে মালিক চোখের সামনে বাচ্চাগুলারে ফটাফট ধইরা জবাই করে। কী করুম, আমাগো আশ্রয়দাতা বলে কথা! তাই নীরবে সন্তানের জবাই অওয়া দেইখ্যা বুকে পাথরচাপা দেই। আর ভালোবাসা? হ, এতদিনেও লালচাঁনেরে ভুলতে পারি নাই। মনে অইলে কইলজাডা ফানাফানা অইয়া যায়। তয়, করোনাকালে আফনেগো ব্যাপার-স্যাপার দেইখ্যা এখন ভাবছি, আমরা পাখি অইলেও আফনেগোতে বালাই আছি। হুনলাম, ইতালী প্রবাসী স্বামী দেশে আওনের তারিখ হুইন্যা বউ সোনাদানা লইয়া পগারপার! মায়েরে করোনার রোগী মনে কইরা সন্তানেরা জঙ্গলে ফালাইয়া আইল। বাপে করোনার রোগী দেইখ্যা পরিবারের লোকেরা লাশ ধরে না। পুলিশরা আইয়া কবর দিল। টেলিভিশনের খবরে দেহি, ত্রাণের মাল চুরি কইরা গোলাজাত করতে গিয়া মানুষ ধরা পড়তাছে। তাইলে মায়া-মমতা, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব, মানবিকতা এসবের কী কোন মূল্য আছে এই দুনিয়াতে? নাইক্যা! এদিকে দুনিয়াজোড়া করোনার মরণ ছোবলে চারদিকে লাশের মিছিল আর মিছিল! তাই বিজ্ঞানীরা প্রাণঘাতী করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করনের লাইগ্যা দিনরাত গলদঘর্ম অইয়া নিরন্তর কী কষ্টটাই না করতাছেন কেবল মানষেরে বাঁচানোর লাইগ্যা। অথচ আফনে গো বেয়াকুব মানুষগুলা নিজেরে নিরাপদে রাহনের লাইগ্যা,পরিবারকে করোনামুক্ত রাহনের লাইগ্যা সাধারণ নিয়মগুলা মানতে কষ্ট লাগে। এমন তো না, এর লাইগ্যা বেশি খরচাপাতি লাগে? লকডাউন মানতে কষ্ট, ঘরে বইয়া থাকব তাও কষ্ট, হাত ধুইতে কষ্ট, সামাজিক দূরত্ব? এইডাতেও কষ্ট। কিন্তু বাইরত্তনে হাওয়া খাইয়া, হুদাহুদি আড্ডা মাইরা করোনারে নিজে ঘরে আনতাছে, এইডাতে কষ্ট লাগে না। এতে নিজেও আক্রান্ত অইতাছে, ভাইরাসও ছড়াইতাছে। আর দেশ শুদ্ধা মাইনষেরে, রাষ্ট্রকে টেনশান রাখতাছে। দেশও রসাতলে যাইতাছে। আবার হুনি করোনারে বলে ডরায়? হাসমু না কান্দুম। তাই পাষান মনডারে কই, লালচাঁনের বিরহের মনোবেদনায় আমি কষ্টে কাডাইলেও বালাই আছি। পাখি অইয়া পাখিই আছি, অপাখী অই নাই। কিন্তু মানুষ অইয়া, বেয়াকুব কিছু অমানুষগুলার কামকাইজ দেইখ্যা আবারো মনে পইড়া গেল এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া গানের কলিঃ

হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস!
তবুও ভাই কারোরই নাই একটু খানি হুশ!!!
হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস, রঙিন ফানুস হায় রে মানুষ!!!

আসুন, সময় থাকতে করোনা প্রতিরোধে মুখে নয়, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি। নিজ নিজ পরিবারের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনে সচেতনতার প্রতি বেশি মনোযোগী হই। এতে বেঁচে যাব সবাই, বাঁচবে দেশ। আমরা আবার হাসি আনন্দে থাকব বেশ! গড়ব মোরা ডিজিটাল বাংলাদেশ!

আল্লাহর দরবারে করোনামুক্ত বাংলাদেশ কামনায় করজোড়ে প্রার্থনা করছি! আমিন!!

♦♦♦ঘটনার পটভূমি সত্য। তবে ঘষামাজা করে পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেছি।

লেখকঃ কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com