দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
৫ অক্টোবর শুভ দিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন

৫ অক্টোবর শুভ দিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়। তবে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিভিন্ন দেশে শিক্ষকরা সারম্বরে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন শুরু করেন। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল (ইআই) ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে। দিবসটি উপলক্ষে ইআই প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষকতা পেশার অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেয়।
Every year World Teachers Day is celebrated with a specific theme that focuses on issues related to teaching and teachers. Last year the theme of world teachers day 2019 is “Young Teachers: The future of Professions” This year the theme of World Teachers Day 2020 is- “Teachers: Leading in crisis, reimagining the future.”
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গোটাবিশ্ব এখন মৃত্যুপূরী। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সবক’টি দেশেই করোনার নিষ্ঠুর থাবা। কোথাও কোন ভালো খবর নেই। প্রিন্টিং ও ইলেকট্রণিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার যেদিকে চোখ রাখি শুধু আক্রান্ত আর মৃত্যু সংবাদ। করোনার হিংস্র থাবায় অচল জীবনজীবিকা ও অর্থনীতির চাকা, বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই শিক্ষা কার্যক্রম বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবস হয়তো সারম্বরে পালন করা সম্ভবপর নয়। কিন্তু আমি মনে করি মুজিববর্ষের কারণে এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবুর রহমান ছিলেন একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ যাঁর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল একটি শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। রাজনীতির বাইরেও বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত বিভিন্ন ভাষণ, আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি, ১৯৭০ এর নির্বাচনী ইশতেহার, বায়াত্তরের সংবিধানে ঘোষিত শিক্ষা সম্পর্কিত ধারা এবং কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন থেকে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মমত্ববোধের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ফুটে উঠে। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমুহের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ছিল বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ করা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোটা জাতি বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় মুজিববর্ষ উৎযাপনের ক্ষণগণনায় মত্ত ছিল। কিন্ত মরণঘাতী করোণা সংক্রমণের কারণে মুজিববর্ষ উদযাপনে ছেদ পড়ে যায়। সরকারি নির্দেশে অনুষ্ঠানমালায় ভাটা পড়লেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের ভালোবাসা একটুও হ্রাস পায়নি। কেননা বঙ্গবন্ধু বাঙালির হৃদয়ের শ্লেটে অমর, অবিনশ্বর, চির অম্লান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা ও ভরসার স্থল, আপনি দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দুর এগিয়ে। বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশকে সমীহ করে। আপনি নিজেও স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতাবলে খ্যাতির চূড়ায় আসীন। অথচ আপনারই আস্থাভাজন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ অর্ধাহারে, অনাহারে কিংবা উৎসব-পার্বণে মলিন মুখে থাকবে তা নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত নয়। তাই আমরা যে মহানব্রত নিয়ে এ সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করেছি তা যেন স্বার্থক ও সফল হয় তার কাণ্ডারী একমাত্র আপনিই হতে পারেন। আপনার একটি সাহসী সিদ্বান্তই বদলে যেতে পারে আমাদের ভাগ্যের চাকা। শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধিত হতে পারে বৈপ্লবিক উন্নয়ন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জাতির জনকের রক্ত যাঁর শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে প্রবাহিত, তিনি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে একদিন না একদিন জাতীয়করণ করবেন। আশার কথা যে, আপনি ইতমধ্যেই দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কিছু প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। এজন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই। লক্ষ যেহেতু শিক্ষার মানোন্নয়ন তাই বিচ্ছিন্নভাবে নয়, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ করে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষকের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেবেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে মুজিববর্ষের সাথে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে রাখবেন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক এখন জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। একজন শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার শিক্ষকরা আপনা পানে তাকিয়ে আছে। জাতির সংকটময় মুহুর্তে আপনাকে দেখেছি কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে। শিক্ষাবান্ধব তকমাটিও আপনাকেই মানায়। তাই আমাদের এ দুঃসময়ে আপনাকেই ত্রাণকর্তা হিসেবে কাছে পাবো এ প্রত্যাশা করছি। আপনি সবই জানেন এবং বুঝেন। তাই প্রত্যাশা করছি আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখুন। মুজিববর্ষই হউক বেসরকারি শিক্ষকদের মুক্তির সোপান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা উপহার হিসেবে পেতে চাই বহুল প্রত্যাশিত জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা। মুজিববর্ষ বয়ে আনুক আলোকবর্ষ।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com