দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন!

২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন!

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। মরণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন একটি কার্যকর ব্যবস্থা। গত বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে দফায় দফায় লকডাউনসহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হলেও জনগণ কতটুকু আমলে নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকারের পক্ষ থেকে কখনও জোরালো পদক্ষেপ আবার কখনও ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে জনগণ আরও উদাসীন হয়ে পড়েছে। লকডাউন চলাকালে যদি দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করা যায়, তবে এটিকে আর যাই হোক সর্বাত্মক লকডাউন বলা যায় না। তাছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে লকডাউন কি তাহলে শুধু খেটে খাওয়া মানুষের জন্য? কেউ গাড়িতে চড়ে, কেউ পায়ে হেঁটে ঘরের বাইরে যাচ্ছেই। তাহলে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। যৌক্তিক প্রয়োজনে বের হওয়ার বিষয়টিও এখন অযৌক্তিকায় পরিণত হয়েছে।
আশার কথা সরকার সবকিছু উপলব্ধি করে এবার সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সরকার ঘোষিত লকডাউনের সময় গার্মেন্টসসহ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। আজ শনিবার আবারও তিনি এ ঘোষণা দিলেন। এর আগে ঈদুল আযহা উপলক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করলেও আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে লকডাউনের সময় সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের স্বার্থে কোভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই ৯ দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হল। ঈদুল আযহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। তবে এ সময়েও জনগণকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি গৃহিত পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণকেও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্ক হতে হবে। শারীরিক দুরূত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরিধান অত্যাবশ্যক। কিন্তু হাটবাজার, শপিংমল, গণপরিবহন, বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে বিশেষ করে কুরবানির পশুরহাটর দিকে তাকালে এর কোন বালাই আছে বলে মনে হয় না। এ দৃশ্য দেখে অনেকে রসিকতা করে বলেন, দেশে করোনা বলতে কোন কিছুই নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় ইন্দোনেশিয়া এখন মৃত্যুপুরি। ঘরে ঘরে শুধু লাশ আর লাশ। ঈদকে ঘিরে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন হয়ে যাই, তবে ইন্দোনেশিয়ার ভাগ্য আমাদেরকেও বরণ করতে হতে পারে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন, ‘লজ্জা নিবারণের জন্য আমাদের যেমন পোশাক পরতে হয়, তেমনি জীবন বাঁচানোর জন্যও মাস্ক পরতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মানতে হবে। এর মাধ্যমেই করোনাকে মোকাবিলা করতে হবে।’ সুপ্রিয় বিদগ্ধ পাঠক সবার আগে জীবন। একদিন স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবেই। বেঁচে থাকলে সবকিছুই আগের মতো উপভোগ করা যাবে। তাই সরকারি নির্দেশনা বা কঠোরতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমরা নিজেরাই লকডাউনকে সফল করে তুলি। সবাই ঘরে থাকি, করোনাকে দুরে রাখি।
লেখকঃ সম্পাদক, সাপ্তাহিক কালপুরুষ, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: weekly kalpurush@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com