দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সৃজনশীল পদ্ধতি ও বইয়ের ভারে নাকাল শিক্ষার্থীরা বোঝার উপর শাকের আটি নোট, গাইড ও সহায়ক বই

সৃজনশীল পদ্ধতি ও বইয়ের ভারে নাকাল শিক্ষার্থীরা বোঝার উপর শাকের আটি নোট, গাইড ও সহায়ক বই

 মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা

চলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সৃজনশীল পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই। সঙ্গত কারণেই এর পক্ষে আমার অবস্থান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ পদ্ধতির সাথে নিজেদেরকে কতটুকু খাপ খাওয়াতে পেরেছেন। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বর্ণনায় বিজ্ঞ পাঠকদের পিলে চমকে উঠতে পারে। বাস্তবতাকে এড়িয়ে চলা কিংবা ধামাচাপা দেয়া বিজ্ঞ লোকের পরিচয় বহন করে না। এ উপলব্ধি থেকে কিছু অপ্রিয় সত্যকথন আপনাদের সমীপে তুলে ধরতে চাই।এতে অনেকের চক্ষুশুল হতে পারি তবে মানসিক যন্ত্রনাবোধ কিছুটা হলেও দুর হবে।
সৃজনশীল পদ্ধতি অবলম্বনে শিক্ষাক্ষেত্রে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজমান। পদ্ধতিটি সমালোচনার উর্ধ্বে হলেও এর প্রায়োগিক দিকটি প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথমতঃ আমাদের দেশের শিক্ষকরা এ পদ্ধতির সাথে কতটা পরিচিত কিংবা নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন এ প্রশ্নের উত্তর আজ জাতির নিকট পরিস্কার। খোদ সাবেক শিক্ষামন্ত্রীকেই বলতে শুনেছি, শিক্ষকরাই সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে বুঝেন না। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবস্থা যে কতটা নাজুক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
একদিকে সৃজনশীল পদ্ধতির চাপ অপরদিকে মাত্রাতিরিক্ত বইয়ের বোঝায় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা। পঞ্চম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীকে ৬টি বই অধ্যয়ন করতে হয়। মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে তাকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১৪টি বইয়ের চাপ সহ্য করতে গিয়ে নিশ্চিত হিমসিম খেতে হচ্ছে। শুধু কি তাই! বোঝার উপর শাকের আটি হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে নোট, গাইড ও বাংলা – ইংরেজী ব্যকরণ ও সহায়ক বই। তাছাড়া প্রতিটি বিষয় দৈনন্দিন শ্রেণি কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করাও জটিল। ফলশ্রুতিতে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে শিক্ষার্থীরা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে অবলীলায়।
কেউ বা আবার পা বাড়াচ্ছে অন্ধকার জগতে।
এমন এক সময় ছিল যখন মুখস্থ বিদ্যা এবং নোট গাইডের ওপর নির্ভরশীলতা শিক্ষার্থীদের উপকারে আসত। কিন্তু সৃজনশীল পদ্ধতিতে নোট গাইডের ব্যবহার অকার্যকর। অথচ বাজার সয়লাব হরেক রকমের নোট, গাইড ও সহায়ক বইয়ে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, শিক্ষকরাই নোট ও গাইড বইয়ের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। খোদ জেএসসি পরীক্ষায় প্রথিতযশা বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকরাও গাইড বই থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন প্রনয়ন করে গোটা জাতিকে হতাশ করেছে। এ লজ্জা শিক্ষা ব্যবস্থার, এ লজ্জা শিক্ষকদের। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে এটি প্রতারণা বই আর কিছুই না।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রায়শই বলে থাকেন, নোট, গাইড বলতে কোন কিছুই থাকবে না।  কিন্তু বাস্তবতা সম্পুর্ণ উল্টো। প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট-গাইড। পাবলিশারদের সাথে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নোট গাইড ও ব্যকরণ বই পাঠ্যকরণে এবং শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য করে মূলতঃ শিক্ষকরাই যা এখন ওপেন সিক্রেট।
এখনও সময় আছে জাতিকে ঘুরে দাঁড়াবার। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে, এমনকি অদুর ভবিষ্যতে জাতিকে মেধাশুন্য করার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করতে হলে এ ব্যাপারে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। শিক্ষা প্রশাসনকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, নোট- গাইড না সৃজনশীল পদ্ধতি থাকবে? বইয়ের বোঝা থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে মুক্ত করবে নাকি শারিরীক ও মানসিকভাবে তাদেরকে বিকলাঙ্গ করবে? মেধা চাই নাকি জিপিএ-৫ চাই? এ প্রশ্নগুলোর মিমাংসা জাতি দ্রুত দেখতে চায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com