দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়করণ আমার অধিকার — মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বর্তমান সংসদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারাগারের রোজনামচা ও কাউয়া সমাচার সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।। প্রয়োজন লেজুরবৃত্তি পরিহার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জীবন-জীবিকা মখোমুখি! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।। আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই মানুষ গড়ার কারিগর বেসরকারি শিক্ষকরা! বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন
সম্পাদকীয়——————————-রাজনীতি এখন ত্যাগের নয় ভোগের! বাগাড়ম্বর সর্বস্ব

সম্পাদকীয়——————————-রাজনীতি এখন ত্যাগের নয় ভোগের! বাগাড়ম্বর সর্বস্ব

বৃহত্তর দাউদকান্দির রাজনৈতিক অঙ্গণের উজ্জ্বল নক্ষত্র সাবেক জনশক্তি মন্ত্রী প্রয়াত আবদুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ার বলেছিলেন, “Politics is an art. It goes on jig jag way .” রাজনীতি হচ্ছে শোভন বুদ্ধির লড়াই। এর গতিপথ অত্যন্ত বিচিত্র্য। এখন দেখছি ঠিক তাঁর উল্টোটি। রাজনীতি মানে শোভন বুদ্ধির লড়াই নয় কুবুদ্ধির লড়াই। রাজনীতির বিচিত্র্য গতিপথে চলমান রাজনীতি অনেকটা কুপথে ধাবিত। কালোটাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর, স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার, আখের গোছানোর মোক্ষম অস্ত্র, এক কথায় যেনতেন উপায়ে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণের পায়তারা। আমরা যেন ভুলেই গেছি রাজনীতি মানে ক্ষমতা দখল নয়, আখের গোছানো নয়, অযোগ্যদের উচ্চপদে বসানো নয়, গরীবের বুকে লাথি মারা নয়, ক্ষমতাসীনদের ধরাকে সরা জ্ঞান করার অবাধ লাইসেন্স নয়, জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ নয়, জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা নয়, মাদক ব্যবসা ও সেবনের মাধ্যমে যুব সমাজকে ধ্বংস করা নয়, ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর বসানো নয়, সিএনজি কিংবা বাসস্টেশন থেকে চাঁদা তোলা নয়, থানায় দালালী, টে-ারবাজি কিংবা সালিশির নামে প্রহসন নয়। অথচ তাই ঘটছে অহরহ। অপ্রিয় হলেও সত্য, এসব অপকর্ম সাধিত হচ্ছে কথিত রাজনীতিবিদদের দ্বারাই। বলার অপেক্ষা রাখে না ক্ষমতাসীন স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মাঝে এ প্রবনতা একটু বেশি। যখন যারা ক্ষমতায় যায় তাদের ঘাড়েই এ ভুত চেপে বসে।
রাজনীতি এখন তার নিজস্ব অবয়ব ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়ে রূদ্রমূর্তি ধারণ ও প্রতিপক্ষ ঘায়েলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মিথ্যার বেসাতি ও বাগাড়ম্বরে রাজনীতি এখন ঘৃণিত পেশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজার নীতি রাজনীতি এখন কক্ষচ্যুতির কারণে আদর্শহীনতার পাদপীঠ। প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় রাজনীতিবিদদের বাগাড়ম্বর চলছেই। কথায় ও কাজে কোথাও মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতায় অহরহ বলে বেড়াচ্ছেন সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এককথায় অপকর্মের হোতাদের দলে ঠাঁই হবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্নতর। বহুল আলোচিত জিকে শামীম কাদের সৃষ্টি দেশবাসী তা অবগত। লোকমানরা কখন কার মাথায় ছাতা ধরে তা বলা কঠিন। যারা রাজনীতির সাথে জড়িত কিংবা রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী দখল করে আছেন, তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা অপরাধকর্মে জড়িত কিংবা মদদ দিচ্ছেন। তাদের বিরূদ্ধে জনগণের টু-শব্দটি করারও সুযোগ নেই। এমনকি দলীয় উচ্চ পর্যায় থেকেও তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষণ দৃশ্যমান নেই। তবে আদর্শবান রাজনীতিক একেবারে নেই তা বলছি না। তাঁরা সংখ্যায় অতি নগন্য।
রাজনীতি শোভন বুদ্ধির লড়াই হলেও এখন তা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপকৌশলে পরিণত হয়েছে। হোক সেটা বিরোধী কোন রাজনৈতিক দল কিংবা নিজ দলের প্রতিপক্ষ। একক আধিপত্য বিস্তারে মারামারি, খুনোখুনি, রাহাজানি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নৃশংসতা, হামলা-মামলা ও কুৎসা রটনা রাজনীতির নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। যতদিন যাচ্ছে এ প্রবনতা ক্রমশঃ বাড়ছে। রাজনীতির বলয় থেকে ত্যাগী, পোড়খাওয়া, সৎ ও যোগ্য লোকেরা নিজেদেরকে ঘুটিয়ে নিচ্ছেন। ফলে রাজনীতির মাঠ দখলে নিচ্ছে অবৈধ টাকার মালিক, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর একটি বক্তব্য ”রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই” এরই সাক্ষ্য বহণ করে।
শৃধুমাত্র ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতায় আরোহন করা রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। যদিও একটি রাজনেতিক দলের প্রধান লক্ষ্য এটিই। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতা লাভের হাতিয়ার হওয়া উচিত জনসেবার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় জনগণের রায়ের বাস্তব প্রতিফলন, যেনতেন উপায়ে নয়। জাতির কল্যাণে সরকারিদল মূখ্য ভূমিকায় একথা যেমন সত্য, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সঠিক পথে ধাবিত করতে, গণতন্ত্র বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে বিরোধীদলেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ন বিপরীত। বিরোধীতা পরিণত হয়েছে কৃৎসা রটনায়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা কিংবা হেয়প্রতিপন্ন করাই যেন মূখ্য উদ্দেশ্য। সরকার ও বিরোধীদল পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান নয়, একই মেরুতে অবস্থান করে একে অপরের পরিপূরক হয়ে আদর্শিক রাজনীতি বজায় রাখতে পারলেই জনকল্যাণ নিশ্চিত হবে।
আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক দাবি করেন। এটাই স্বাভাবিক, করতেই পারেন। সবকিছু বিসর্জন দিয়ে জনসেবাকে অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়ে এটুকু দাবি করা অন্যায় কিংবা অযৌক্তিক নয়। স্যামুয়েল জনসন একদা বলেছেন, ’দেশপ্রেম পাজি লোকের শেষ অবলম্বন’। তাহলেতো বলতেই হয়, জর্জ ওয়াশিংটন, চার্চিল, লিঙ্কন, গান্ধী, জিন্নাহ, ভাসানী, শেখ মুজিব, সোহরাওয়ার্দী সবাই দুষ্ট লোক ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এরা সবাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছিলেন। তাঁদের কথায় ও কাজে মিল ছিল। জনকল্যাণে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তারা কেউ সুযোগসন্ধানী ছিলেন না। কিন্তু দেশপ্রেমের আড়ালে কিংবা মুখোশ পড়ে অসৎকাজে ধাবিত হলে দেশপ্রেমের নামে ভ-ামী বৈ আর কিছুই বলা যাবে না। রাজনীতিতে মনোনয়ন ও পদ বাণিজ্য এ ভ-ামী ও ভাগাড়ম্বরের স্বাক্ষ্যই বহণ করে।
ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা কে। তিনি একাই লড়াই করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ দলের অপকর্মের হোতাদের পাকড়াও করে প্রমাণ করেছেন তিনি রাজনীতিতে সুস্থু ধারা ফিরিয়ে আনতে চান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com