দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার-সময় এখন বেশিকদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার

সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার-সময় এখন বেশিকদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। দেশের বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ। অস্বীকার করার উপায় নেই পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার বেসরকারি শিক্ষকদের এ দাবি আজ যৌক্তিক ও সময়ের দাবিতে রূপ লাভ করেছে। ‘সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার-সময় এখন বেশিকদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ এ শ্লোগান ও মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত সাধারণ শিক্ষকরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে মুখিয়ে উঠলেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত শিক্ষক নেতা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। তাই ভূক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগের তীর এখন সরকারের দিকে নয়, বরং নেতা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দিকেই। এ অভিযোগটি আগে আমি একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে বিশ্বাস করতাম না। কেননা আমি মনেপ্রাণে চাই জাতীয়করণ হোক। কিন্তু যখন দেখি নেতাদের কোন তৎপরতা নেই, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কোন আগ্রহ নেই, তখন বিশ্বাসে চির ধরা ছাড়া উপায় কী?
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠনগুলোও তাদের জৌলুস এবং মাহাত্ম্য হারিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে শিক্ষক সংগঠনগুলোর করুণ অবস্থা এবং বিভক্তি চোখে পড়ার মত। রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তিই এর মূল কারণ। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের আচরণ এখন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে হুবুহু মিলে যাচ্ছে। মনে হয় একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। সবাই যেন উঠে পড়ে লেগেছে স্বীয় স্বার্থ হাসিলে। সংগঠনের নীতি আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে আখের গোছাতেই ব্যস্ত। ফলশ্রুতিতে পেশাজীবীরা সংগঠনের প্রতি ক্রমশ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। সংগঠনগুলোও দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনে তেমন কোন গতি নেই বললেই চলে।
আমার এ নিবন্ধের উপলক্ষ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক সংগঠন নিয়ে। ইতমধ্যেই সংখ্যায় হাফসেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলন কিংবা ফেসবুকে ঘোষণার মাধ্যমেও সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটছে। নেই কোন সাংগঠনিক তৎপরতা, নেই কোন কর্মসূচি! অনেকে আবার স্বঘোষিত নেতা বনে বিবৃতি দিয়েই খালাস। তবে ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো শিক্ষক সংগঠনগুলোতে এখনো অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক নেতৃত্ব আগলে ধরে রেখেছেন। যার ফলে শিক্ষকদের স্বার্থ সম্বলিত কোন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে তাদেরকে কদাচিৎই দেখা যায়। তাদের নেতৃত্বে শিক্ষকদের চেয়ে কর্তৃপক্ষের স্বার্থ রক্ষার সুষ্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিজেদের আখের গোছাতে সরকার তোষণনীতিই তাদের কাছে মূখ্য। অপরদিকে সরকার বিরোধী পেশাজীবী সংগঠনগুলো একেবারেই নিষ্ক্রিয় বলা যায়। অথচ নব্বইয়ের দশকে প্রতিটি শিক্ষক সংগঠনই দলীয় লেজুর বৃত্তি ছেড়ে শিক্ষকদের স্বার্থে রাজপথে সভা-সমাবেশ করতে দেখা গেছে। দাবি আদায়ে প্রতিটি সংগঠনই ছিল সোচ্চার।
সহকারি শিক্ষকরা প্রায়শই অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জাতীয়করণে আন্তরিক নন। তাদের অভিযোগ অমূলক নয়। আমার ধারণাও তাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পঁচিশ সহস্রাধিক প্রধান শিক্ষক একযোগে সোচ্চার হলে জাতীয়করণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। মনে রাখবেন ভারবাহী হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। তাই সময়ের কাজ সময়ে করাই শ্রেয়। ঘোষণা দিয়ে একদিন অন্তত ঢাকায় জড়ো হন। প্রশ্ন আসতে পারে আমরা কার ডাকে সাড়া দিব? এক্ষেত্রে আমি বলব, সকল সংগঠনের নেতাই প্রতিষ্ঠান প্রধান। যে ডাক দিতে ব্যর্থ হবেন, তাকেই বয়কট করা হোক। প্রয়োজনে নতুন নেতৃত্ব। আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকল সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঢাকায় শিক্ষক মহাসমাবেশের আয়োজন করি। এক কাতারে শামিল হই। এতে কর্তৃপক্ষের অবশ্যই টনক নড়বে। আমি বর্তমান সময়ে বেশ তৎপর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এ কারণে যে তিনি সকল শংকা ও ভয়কে জয় করে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক সমাবেশ আহবান করেছেন। আমি তাকে অনুরোধ জানাই আপনি সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিনি। আমি মনে করি মুজিববর্ষই জাতীয়করণের মতো গুরূত্বপূর্ণ দাবি আদায়ের যথার্থ সময়।
দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত শিক্ষকের হদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলনরত। সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে প্রাপ্য সুবিধাদির মধ্যে চলমান বৈষম্য আকাশপাতাল। সকলেই জানে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা শতভাগ বেতন সরকারি কোষাগার থেকেই পান। ক’জনই বা জানেন যে, শিক্ষকরা আসলে বেতনই পান না! যা পান তা বেতনের নামে অনুদান মাত্র। তাও আবার বেতন স্কেলের শতভাগ থেকে ১০% অনুদান অবসর ও কল্যাণের নামে কেটে রাখা হয়। বাড়িভাড়া নামমাত্র ১০০০/- টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০/- টাকা, উৎসব ভাতা খণ্ডিত, মাত্র ২৫%। বদলি নেই, যেখানে শুরু সেখানেই শেষ।
পরিশেষে এটুকু বলতে চাই, বেসরকারি শিক্ষকদের স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়ন হবেই ইনশাল্লাহ। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব একথা দিবালোকের মতো সত্য। তবে একথাও সত্য যে, শিশু না কাঁদলে মাও নিজ সন্তানকে দুধ দেয় না। তাই শিক্ষকদেরকে চাওয়ার মতো চাইতে হবে। তাদের দাবির যৌক্তিকতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভূত হতে হবে। আর এ কাজটিই ঠিকমত হচ্ছে কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবির প্রতি সদয় হয়ে অচিরেই শিক্ষা জাতীয়করণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। মুজিববর্ষই হোক বেসরকারি শিক্ষকদের মুক্তির সোপান।
লেখকঃ সম্পাদক, সাপ্তাহিক কালপুরুষ ও প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com