দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট
সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন

সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন

মো.সাজ্জাদ হোসেন।। শিক্ষক জীব না জড়? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর জীব। জড় বস্তু কখনও শিক্ষকতা করতে পারে না। কাউকে শিক্ষা দিতে পারে না। জ্ঞান দান করতে পারে না। কারণ জড় বস্তুর কোন প্রাণ থাকে না। শিক্ষক যদি জীব হয় তাহলে শিক্ষকের জীবন থাকবে, আবেগ অনূভূতি থাকবে, ঘর থাকবে সংসার থাকবে, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে থাকবে, বাবা মা থাকবে। কেননা জীবের মাধ্যমেই বংশ বিস্তার হয়। জড়র মাধ্যমে বংশ বিস্তার সম্ভব নয়। জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। মানুষ নামক জীবের লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক প্রয়োজন। অসুস্থতার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন। সন্তানের ভবিষ্যত গঠনের জন্য শক্ত আর্থিক ভিত প্রয়োজন।
বৃদ্ধ বাবামায়ের নিরাপদ আশ্রয় হলো তাদের সুশিক্ষিত সন্তান। সন্তান সুশিক্ষিত, সুশিক্ষক মর্যাদার কোন কমতি নেই। কিন্তু বৃদ্ধ বাবামায়ের সেবা করার মত আর্থিক সামর্থ্য কি একজন শিক্ষকের আছে? স্ত্রী সন্তানের জন্য ভালো পোশাক কেনার সামর্থ্য কি বর্তমান শিক্ষকদের আছে? বর্তমানে তিন বেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকার সমার্থ্যও সকল শিক্ষকের নেই। এমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষক হয়তবা সামান্য কিছু বেতনভাতা নিয়ে তিনবেলা খেয়ে পরে বেঁচে আছে। বেতনের বাইরে সামান্য যে ভাতা টুকু পাই সেটা দিয়ে বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ব্যয় কোনটাই সংকুলান হয় না। উৎসব ভাতার নামে যে ভাতাটুকু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেয়া হয় সেটা দিয়ে উৎসবের কোন কাজই সম্পন্ন হয় না। রাষ্ট্রকে স্বাবলম্বী করার জন্য অনেক শিক্ষক বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। এটা শিক্ষকদের মনের কষ্টের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্র শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মানী দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সামান্য সম্মানীটুকু নিয়ে শিক্ষক আর কত লজ্জিত হবে।
করোনা মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্ডার গার্টেন ও ননএমপিও শিক্ষকদের দুর্দশার অন্ত নেই। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছে মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ জানেনা। রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের কোন খবরই রাখে না। বিগত বছর সামান্য কিছু ভাতা দিয়ে তাদেরকে শান্তনা দেয়া হয়েছিল। মুজিববর্ষে আবারও সামান্য ভাতা দেয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সামান্য ভাতা দিয়ে ননএমপিও শিক্ষকদের কি হবে? দীর্ঘদিন পর এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করার পরেও ননএমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিকরণের কোন প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। কোন দিন শুরু হবে? না আদৌ শুরু হবে না সেটা কেউ বলতে পারে না। করোনা মহামারির কারণে মানুষের জীবন জীবিকা একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা খুব কষ্টকর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশান এবং অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার পাঠ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেখানে সফলতার হার কতটুকু? কাগজেকলমে যে সফলতার হার দেখানো হয় সেটার বাস্তবতার সাথে মিল কতটুকু আছে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। সাধরাণ খেটে খাওয়া মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। সেখানে স্মাটফোন,অ্যান্ডুয়েড ফোন কেনার সামর্থ্য কত জনের আছে। এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সচল রেখে টেলিভিশানের মাধ্যমে সকল ছাত্রছাত্রীর পড়ালেখা কি আদৌ সচল আছে? অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্বল এবং মধ্যম পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে। বেতনবিহীন শিক্ষকের স্মাটফোন, অ্যান্ডুয়েড ফোন আছে কিনা সে খবরও কেউ রাখে না। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতার মহান পেশাকে যারা গ্রহণকরেছে। জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব যারা কাঁধে নিয়েছে তাদের খবর কে রাখে? তাদের পরিবার পরিজন খেয়ে পরে কিভাবে বেঁচে আছে তাদের খবর কেউ নেয় না। মানুষ হিসেবে তাদের খবর রাখার প্রয়োজনীতা কেউ অনুভব করে না। রাষ্ট্র এতটা নির্দয় নির্মম হতে পারে কিভাবে? অসহায় শিক্ষকের খেয়ে পরে বেঁচে থাকার কি কোন অধিকার নেই? অধিকার যদি থাকে তবে বাস্তবায়ন হবে কি কোন দিন? অর্ধাহার অনাহার ও মানসিক অশান্তি নিয়ে অনেক শিক্ষক আত্মহত্যার পথ অনুসরণ করেছে। এগুলি আত্মহত্যা না হত্যা এর কি কোন জবাব আছে?ব ছরের পর বছর জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দেয়ার পরেও কি তারা তিন বেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পাবে না। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেশের মানুষ অনেক সফলতা ভোগ করতে শুরু করেছে। সেখানে অসহায় শিক্ষক কেন বঞ্চিত থাকবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেন বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত থাকবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন ননএমপিও শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে অসহায় শিক্ষকদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার সু ব্যবস্থা করা হোক।
লেখকঃ প্রভাষক, লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com