দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা।। সভাপতি তুষার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ৫ অক্টোবর শুভদিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন কমেছে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে শনাক্তের হার! শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন।। মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ দুঃসংবাদের ভিড়ে সুসংবাদ।। ভ্যাকসিন থেকে কেউ বাদ যাবে না-প্রধানমন্ত্রী বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার ২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন! বঙ্গবন্ধু পরিষদ তিতাস উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা ও মাস্ক বিতরণ শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!
শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!

শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!

ছবিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো))

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। আজ ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আজকের এ দিনে ধানমন্ডিস্থ সুধা সদনের বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা যে বাঙালির হৃদয়ের মাঝে স্থায়ী আসন পেতে বসে আছেন তা বুঝতে পারেনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অরাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশবাসীর ক্রমাগত প্রতিরোধ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু কন্যার আপোষহীন ও দৃঢ় মনোভাব এবং দেশবাসীর অনড় দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দিনটি ‘শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকে।
সত্যিই শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক। আপনজন হারিয়ে পিতার স্বাধীন দেশে ফিরে আসাও সম্ভব হয়নি অর্ধযুগ। একমাত্র বোন শেখ রেহানা এবং নিজের দু’সন্তান জয় ও পুতুলকেও রেখে আসতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে। শৈশব কাল থেকেই প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্যের সাথে রয়েছে তাঁর নিবিড় সখ্যতা। গ্রামীণ জনপদের প্রতি তাঁর নাড়ির টান অতুলনীয়। পিতার দীর্ঘ সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবন, কারাভোগ, নির্যাতন, দুঃখ কষ্ট সবকিছুরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। পিতার জীবদ্দশায় তাকে বহুবার কাঁদতে হয়েছে চোখের সামনে পিতার কারাবরণ দেখে। পঁচাত্তরের পর অহর্ণিশি কাঁদতে হচ্ছে মা-বাবা-ভাই-ভাবী ও স্বজনদের হারিয়ে, বারবার কেঁদেছেন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলণে সহকর্মীদের হারিয়ে, চোখের জ্বলে বুক ভাসিয়েছেন ২১ আগস্টে গ্রেণেড হামলার শিকার হয়ে নিজে সহর্মীদের মানবঢালে প্রাণে বেঁচে গেলেও অনেক প্রিয়জনকে হারিয়ে। মানুষের দুঃখে তাঁর প্রাণ কাঁদে। করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ কষ্ট তাঁকে কাঁদায়। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে তাঁকে বহুবার কাঁদতে দেখেছি। কান্না যেন শেখ হাসিনার পিছু ছাড়ছে না। এ কান্না বাঙালির হৃদয় ছুয়ে যায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য উত্তরসূরি গণতন্ত্রের মানসকন্যা খ্যাত সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অত্যন্ত দুরদর্শীপূর্ণ সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্বনেতৃত্বের আসনে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। তার আদর্শবাদ, চিন্তা-চেতনা, কল্যাণধর্মী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সংগ্রাম, মানবতাবোধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সাহসী ভূমিকা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তিনি বাংলার অসহায় নিপীড়িত, নির্যাতিত, গরীব-দুঃখী মানুষের নিকট আর্ত-মানবতার মূর্ত প্রতীক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার, এশিয়ার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, শান্তির অগ্রদূত। দুরদর্শিতা, বাগ্মিতা, প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের কারণেই তিনি খ্যাতির চূড়ায় আসীন। দেশের এবং নিজের জন্য বয়ে এনেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি বিশ্বের বিষ্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা অর্জন করেছে। প্রত্যাশার জাল বুনছি এজন্যে যে, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত স্বত্ত্বেও তার দুরদর্শী ও সাহসী ভূমিকায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রায় ১লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু বৃহদাকার ফ্লাইওভার। নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে। মোদ্দাকথা তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়েছে তা রীতিমত ঈষর্ণীয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন এবং জাতিকেও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তিনি পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন। তাকে ছাড়া এদেশে কোন কিছুই হয় না। সবকিছুতেই তার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ে। কথাটি তার মনোপুত না হলেও দেশের মানুষ তাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। এর বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটময় মুহুর্তে, ক্রান্তিকালে, জরুরি প্রয়োজনে।
প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক ড. এ এইচ খান তাঁর এক প্রবন্ধে শেখ হাসিনাকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম কিংবদন্তী নায়িকা আখ্যায়িত করে লিখেছেন, এত দুঃখ আর ট্যাজেডি যাঁর জীবনের প্রতি পদে পদে, বাংলা সাহিত্যে এত ট্যাজেডি, কষ্ট, অভিমান নিয়ে কল্পনায়ও রবীন্দ্রনাথ, শরৎ, নজরুল, সুলতান, জয়নুল আবেদীন, মকবুল ফিদাও আঁকতে পারেননি এমন দুঃখী নায়িকার চিত্র। দিগন্তহীন আকাশের সীমার চেয়েও যার দুঃখের সীমা বেশী। সাগরের জলের চেয়েও যার কান্নার জল বেশী। ষড়যন্ত্র, বিষাদ আর যন্ত্রণার আগুনে পুড়ে যে আজ ক্লান্ত- সে হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার কন্যা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা। অলি-আউলিয়াদের দোয়ায় লাখো কোটি বাঙালির মুক্তির লক্ষ্যে স্বয়ং দেবী মহামায়ারূপে তিনি অসুরের হিংস্রতার থাবা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এবং বাংলার মানুষের অধিকার, স্বাধীকার ফিরিয়ে আনতে বাংলার লাল-সবুজের মানচিত্রে আসীন হন শেখ হাসিনা।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail:alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com