দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। এটি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা এবং বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কি.মি. এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৪৭৯ মি.। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। কথিত আছে রাজা রাজবল্লভের সৃষ্ট কীর্তি সর্বনাশা পদ্মার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে ধ্বংস হয় বলে পদ্মার আরেক নাম কীর্তিনাশা।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক দেশের বৃহত্তর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মিত হলে অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে। এই চিন্তা চেতনা থেকেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণে কার্যক্রম শুরু করে। সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও দাতা সংস্থা জাইকা অর্থায়নে এগিয়ে আসে, পুরোদমে শুরু হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। কিন্তু পর্দার আড়ালে পদ্মার আরেক নাম কীর্তিনাশার যথার্থতা প্রমাণে স্বার্থান্বেষী আমেরিকা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনুসের নীলনক্সা বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে বিশ্বব্যাংক। ১২০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দানের কথা থাকলেও সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু এবং অর্থ ছাড়ের পূর্বেই কাকতালীয়ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক সড়ে দাঁড়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প থেকে। যদিও দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা ও অনুসন্ধানে কথিত দুর্নীতির অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি। বিশ্বব্যাংকের পথ অনুসরণ করে এ প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এডিবি ও জাইকা। এতে অনেকেরই ধারণা ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়বে। এমনকি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতেরও ধারণা ছিল আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণ করা খুবই দুরূহ। কিন্তু অদম্য সাহসী ও দুরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দমবার পাত্র নন। তিনি বিশ্বব্যাংকের দুরভিসন্ধি সহজেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই বিশ্ব দরবারে সরকারের ইমেজ রক্ষা এবং বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সেতুর কাজ শুরুর দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে প্রত্যাহার করে নেয়ায় দেশবাসী হতাশ হলেও শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় পদ্মার ওপারের জনগণতো বটেই সারা দেশের জনগণ আনন্দে উদ্বেলিত ছিল। পদ্মাসেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, রূঢ় বাস্তবতা। গত বৃহস্পতিবার বসেছে পদ্মাসেতুর সর্বশেষ স্প্যান। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। দেশব্যাপী মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। যেন তর সইছে না কখন পদ্মার উপর দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে এপার থেকে ওপারে যাবে। ধন্য শেখ হাসিনা, ধন্য বাংলার জনগণ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল দেশবাসীর অন্যতম প্রত্যাশার পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। ৬.১৫ কি. মি. দীর্ঘ দেশের সর্ববৃহৎ এ সেতুর কাজ নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র, হরতাল, অবরোধ, বৈরী আবহাওয়া আর প্রমত্ত পদ্মার ভয়াল ভাঙ্গণসহ নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মুল ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর কাজ এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। এ নিয়ে পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ, বইছে আনন্দের জোয়ার। এ সেতু নির্মিত হলে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার তথা সারাদেশের যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। উম্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন পদ্মা সেতুর মূল কাজ এবং নদী শাসন প্রকল্পের কাজ। ৬.১৫ কি. মি. দীর্ঘ এ সেতু নির্মিত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নব দিগন্ত উম্মোচিত হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণিত হবে। তাই শেখ হাসিনার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আজ সারা বাংলায় একই আওয়াজ বাংলাদেশ পারে এবং পারবে।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রতিশ্রুত অর্থ বাতিল করার পেছনে যে দুরভিসন্ধি ছিল তা এখন দিবালোকের মত পরিস্কার। এক্ষেত্রে বহুমাত্রিক প্রতিভাধর লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর দৈনিক ইত্তেফাকে ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত পদ্মা সেতু প্রকল্প এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা’ শীর্ষক লেখার কিয়দংশ এখানে বিশেষ প্রণিধানযোগ্য।“পদ্মা সেতু প্রকল্পটি যদি হাসিনা সরকার তাদের এবারের ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেশের অর্থে শেষ করতে পারেন, তা শুধু এ সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্য হবে না, হবে একটি বিরাট বিজয় স্তম্ভও। মার্কিন চক্রান্ত ও বাধাদানের মুখে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসের নীল নদের উপর আসোয়ান বাঁধ নির্মাণ করে মিশরের মানুষের কাছে চিরকালের জন্য হিরো হয়ে গিয়েছিলেন। আসোয়ান বাঁধে অর্থ সাহায্যদানে আমেরিকা বিভিন্ন শর্ত জুড়ে পিছিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিল সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়ন। আসোয়ান বাঁধ নির্মাণে সোভিয়েট ইউনিয়ন শুধু অর্থ সাহায্য নয়, কারিগরি সাহায্যও দিয়েছিল। বর্তমানে সেই সোভিয়েট ইউনিয়ন নেই। সাবেক তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশের আর্থিক সাহায্য লাভের প্রয়োজনীয়তার সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ যে চক্রান্ত করে তা ব্যর্থ করার জন্য পাল্টা অর্থ ভান্ডারটিও নেই।
প্রায় অর্ধশত বছর আগে নাসেরের মিশরের সঙ্গে আমেরিকা যে খেলা খেলেছে, এবার বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে হাসিনা সরকারের সঙ্গে প্রায় একই খেলা খেলেছে আমেরিকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থ দেয়ার আগেই তাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ বরাদ্ধ বাতিল করে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংকের অনেক শর্ত পুরণ করে তাদের মনোতুষ্টির জন্য অনেক সাধ্য সাধনা করেন। কিন্তু পারেননি। বিশ্বব্যাংকের শর্তের দফা বাড়তে থাকে এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থ সাহায্য প্রদানের বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা চলতে থাকে। বিশ্ব ব্যাংকের এই চাতুরির আসল উদ্দেশ্য কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বোঝা গেল দুর্নীতির অভিযোগটা অজুহাত মাত্র। আসল চাপটার রাজনৈতিক। আমেরিকাকে বাংলাদেশে আরো সামরিক সুযোগ-সুবিধা দানে আরো নতি স্বীকার করাতে চায় এই একক পরাশক্তি। সেই সঙ্গে তাদের কাঁধে সওয়ার হয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের ড. ইউনুস। সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এই ড. ইউনুসকে আবার গ্রামীণ ব্যাংকের কর্তৃত্বে বসানোর জন্য বাংলাদেশকে প্রচন্ড চাপ দিয়েছিল আমেরিকা। অভিসন্ধিটি ছিল দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর আর্থিক সাহায্য বাতিল করে হাসিনা সরকারকে ডিসক্রেডিট করা এবং সরকারের বিরোধী পক্ষের হাতে প্রচারণার এই অস্ত্র তুলে দেয়া যে, দুর্নীতির জন্য শেখ হাসিনা সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিদেশের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দুরদর্শিতার বলে শুরু থেকেই আমেরিকা ও বিশ্বব্যাংকের অভিসন্ধিটা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি বিশ্বব্যাংকের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণে দৃঢ় প্রত্যয়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।”
দু’টি বিশেষ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পটিকে গুরূত্ব দিয়েছিল। প্রথমতঃ এর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের সঙ্গে সরকারের তিক্ততার সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল। এটাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। পাশাপাশি সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতাকেও তুলে ধরতে চায়। দ্বিতীয়তঃ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ লক্ষ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন ভিশন-২০২১। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিকল্প নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না পদ্মা সেতু বদলে দেবে দেশের অর্থনীতির চেহারা।
এটা জোর দিয়ে বলা যায়, গোটা দেশের মানুষই পদ্মা সেতুর দিকে তাকিয়ে আছে। অত্যন্ত সুখবর যে, ২০২২ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি ও ট্রেন চলবে। স্বপ্নের এ সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারিত হবে। বাড়তে থাকবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার।
পদ্মা সেতুর কাজ চলমান অবস্থাতেই পদ্মার দু’পাড়ে শিল্প কারখানা নির্মাণের ধুম পড়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমূখী সেতুর দুই পাড়ে রীতিমত জমি কেনার ধুম পড়েছে। আবাসন প্রকল্পসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতমধ্যেই অনেক উদ্যোক্তা জমি কেনা শুরু করেছেন। বিক্রি হয়ে গেছে শত শত একর জমি। যত দিন যাচ্ছে, জমি কেনাবেচা বাড়ছে। চাহিদা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জমির দামও। আশার কথা যে, দেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপগুলোও মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে। শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করছেন, দেশের বৃহৎ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক মহাযজ্ঞ শুরু হবে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে। চট্রগ্রাম বন্দরের উপর চাপ হ্রাস পাবে এবং গতিশীল হবে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য। এ সুযোগে পটুয়াখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির কাঠামো চূড়া স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।
পদ্মাসেতুকে নিয়ে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। আশায় প্রহর গুণছেন, কবে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ট্রেনে চড়ে পাড়ি দেবে পদ্মা নদী। অবশ্য শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় সরকার পদ্মা সেতু সফল বাস্তবায়নের ব্যাপারে যেভাবে বদ্ধপরিকর তা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশের মাটিতে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উত্তাল সমাবেশে আবেগাপ্লুত কন্ঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে কবিগুরু আপনি বলেছিলেন, সাতকোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি’। আপনার এ উক্তি আজ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। আমার বাঙালি মানুষ হয়েছে, দেশকে স্বাধীন করেছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন শেষে শেখ হাসিনা মরমী গায়ক আবদুল আলীম এর সেই বিখ্যাত গানের কলি ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে সুধাই, বল আমারে তোর কিরে আর কূল কিনারা নাই, ও নদীর কুল কিনারা নাই’ এর জবাব দিয়ে বলতে পারেন, “আমি দেশবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসার বিনিময়ে পদ্মার দু’তীরের মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন স্বরূপ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উপহার দিলাম।Ó

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com