দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ খুব বেশী দূরে নয়-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রমাণ করে বেশিকদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োচিত

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ খুব বেশী দূরে নয়-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রমাণ করে বেশিকদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োচিত

ছবিঃ সংগৃহিত

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পচাঁত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে বহু আগেই বাংলাদেশে বৈষম্যহীন শিক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হতো। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষা দিবস-২০২০ উপলক্ষে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) কর্তৃক ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ভাবনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান।
সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে প্রতিফলিত হয়েছিল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে স্বাধীনতাবিরোধীরা এবং একদল উশৃঙ্খল সেনাসদস্য যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কারণে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তা নাহলে অনেক আগেই শিক্ষায় বৈষম্য দুর হতো। আমাদের মহান প্রধানমন্ত্রীও নিঃসন্দেহে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন তার বাস্তব প্রমাণ। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। মাধ্যমিকেও শুরু করেছেন। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণও খুব বেশী দূরে নয়। ১০ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি করায় তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অচিরেই বাদ পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এমপিওভূক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা দেশের সুনাগরিক গড়ার কারিগর। দেশপ্রেমিক নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা শিক্ষকদের কাজ। তিনি পাওয়া না পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।
শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। প্রতিটি শিক্ষক সংগঠননের নেতৃবৃন্দই শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা জাতীয়করণের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের এ কথা শুনার যেন কেউ নেই। কথায় আছে, “যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া পড়শীর ঘুম নেই।” শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। জাতির মেরুদন্ড ঠিক রাখার দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। অথচ বেসরকারি শিক্ষকরা শিক্ষা জাতীয়করণে যতটা হাহুতাশ করছে, সরকার ততটা আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে না। সরকারের উচ্চমহলে কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয়করণ নিয়ে তেমন আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে শিক্ষা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। প্রয়োজনটা যে রাষ্ট্রের এতেও কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সর্বোপরি সরকার। তবে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রমাণ করে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে বেসরকারি শিক্ষকদের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োচিত।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মহোদ্বয়, আপনারা দু’জনেই দেশবরেণ্য দু’টি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। দু’জনের পিতাই মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি ছোটবেলা থেকেই আপনারাও তা রপ্ত করেছেন। আমার এ বিশ্বাসে চির ধরুক এমনটি প্রত্যাশা করছি না। আমরা আশান্বিত যে আপনারা দু’জনে আজ শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক। এমপ্রিভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রত্যাশা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ ঘোষণা দেবে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে দাবিটি আরও জোড়ালো হয়ে উঠে। কিন্তু ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করলেও জাতীয়করণের কোন ঈঙ্গিত না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকরা বেশ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আমি মনে করি হতাশার কোন কারণ নেই। বাজেটে থাক বা না থাক শিক্ষা জাতীয়করণে আপনাদের আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে আপনারা উদ্যোগ নিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন। অবাক হচ্ছি এ ভেবে যে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণকে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন হিসেবে বাস্তবায়নের তাগিদ অনুভব করলেও পরিবারের কর্তা হিসেবে আপনারা মনে হয় এ বিষয়ে অবগত হয়েও সন্তর্পণে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদ্বয়, আমরা মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষকতা সেবাব্রত, মহান পেশা এ সবই ঠিক আছে। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে আমরাও মানুষ। আমাদেরকেও সমাজে বসবাস করতে হয়। একটা সময় ছিল রাষ্ট্রের সক্ষমতা ছিল না। তখন আমাদের কিঞ্চিৎ প্রাপ্তিতেও আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের সক্ষমতা বেড়েছে, তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা কেঁটেছে। এখন ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হলে হতাশ না হয়ে উপায় কী? তাই পরিবারের অভিভাবক হিসেবে আপনারা একটা কিছু করুন। আমরা সবাই আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি। দেশের সকল এমিপিওভূক্ত শিক্ষক জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। তাদের এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দাওয়াই আপনারকেই দিতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা চাইলে পারবেন। কেননা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব দুটোই আপনাদের হাতে। আপনারা একদিকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপমন্ত্রী অপরদিকে শাসকদল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসীন। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনারা দু’জনেই খুব আস্থাভাজন। তাই প্রত্যাশা করছি প্রতিথযশা রাজনীতিবিদের সন্তান হিসেবে আপনারা শীঘ্রই শিক্ষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং টেকসই শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষা জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষকদের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা উদ্যোগ নিলে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখবেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুমিল্লা, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪
E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com