দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
শিক্ষা জাতীয়করণ না হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষাব্যয় আকাশচুম্ভী

শিক্ষা জাতীয়করণ না হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষাব্যয় আকাশচুম্ভী

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষক আছেন দুই হাজারের অধিক। বিদেশি ডেলিগেটরা এলে তারা যখন শোনেন ১২ ও ১৫ টাকায় শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ে, তখন তারা অবাক হয়ে বলেন, ইটস অ্যামাজিং! এটা আমাদের রেকর্ড।’
ধন্যবাদ ঢাবি উপাচার্যকে একটি চমকপ্রদ তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গলাকাটা সেশনচার্জ ও ফি আদায় করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যয় এতটা কম তা আমারও জানা ছিল না। সত্যিই গিনেস বুক রেকর্ডে ঠাঁই পাওয়ার মতো। কিন্তু এটা তো আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের খবর। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এবং কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষা ব্যয় যে আকাশচুম্ভী এর খবর কে রাখে? দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে থাকে। এদের সিংহভাগই মফস্বল এলাকায় যেখানে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা লেখাপড়া করছে। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই মাসিক বেতন ১৫০-২০০ টাকা। শহরাঞ্চলে এ হার আরও অনেক বেশি। কিন্ডার গার্টেনগুলোতেও উচ্চহারে বেতন নেয়া হয়। সেশন ফি, পরীক্ষা ফি বাবদও অভিভাবকদের গুণতে হচ্ছে অনেক টাকা। অথচ শিক্ষা জাতীয়করণ হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। তাদের সন্তানের শিক্ষা ব্যয় হ্রাস পাবে। বাড়বে শিক্ষার হার, কমবে ঝরে পড়ার হার, রোধ হবে বাল্যবিবাহ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এদেশের ভূখানাঙ্গা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো। তাদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি লড়াই করেছেন, জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় জেলে অন্তরীণ থেকেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন একটি বৈষম্যহীন ও সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ছিল বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ করা।
বঙ্গবন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগের ম্যানিফেস্টোতে শিক্ষানীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা ছিল-
“রাষ্ট্রের প্রত্যেকের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে। শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ট্রের হাতে থাকিবে এবং প্রত্যেক নারী–পুরুষের পক্ষে শিক্ষা বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। দেশের সর্বত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করিয়া শিক্ষা সহজলভ্য করিতে হইবে। উচ্চতর শিক্ষা বিশেষ করিয়া কারিগরি শিক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্র খুলিতে হইবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি বৃত্তির সাহায্যে উচ্চতর শিক্ষা উৎসাহিত করতে হবে। মাতৃভাষাকে শিক্ষার বাহন করিতে হইবে।”
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু বেতার ভাষণে শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর দর্শন তুলে ধরে বলন, “সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাখাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হইতে পারে না।”
১৯৭২ সালে সংবিধান প্রনয়নের পূর্বে শাসনতন্ত্রের বৈশিষ্ট সম্পর্কিত এক আলোচনায় বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্টভাবে বলেন, “আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যাতে শিক্ষকতা পেশার প্রতি আকৃষ্ট হন সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে। এজন্য কেবল তাদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি ও বৈষয়িক সুবিধা দিলে চলবে না, সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের ন্যয্য মর্যাদা এবং সম্মানও দিতে হবে।”
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড একথা সর্বজনবিদিত। সঙ্গত কারণেই জাতির মেরুদন্ড ঠিক রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই অনতিবিলম্বে শিক্ষা জাতীয়করণ করা উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ছাড়া এদেশে কোন কিছুই হয় না। সবকিছু আপনাকেই করতে হয়। কথাটি আপনার মনঃপুত না হলেও দেশবাসির মনের কথা এটি। আপনি সবই জানেন ও বুঝেন। শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান বৈষম্য নিরসন এবং বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তিও আপনাকে ছাড়া হবে না। তাই আপনার একজন সুহৃদ হিসেবে এ অধমের মিনতি ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী মুজিববর্ষে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে তাদের চোখের পানি মুছে দিন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যয় হ্রাস করে তাদের সন্তানদের শিক্ষার দ্বার অবারিত করুন। প্রত্যাশা করছি আপনার ঐতিহাসিক আরও একটি সিদ্বান্ত জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দুর। আপনি পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন। আপনার কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আপনি নিজেও খ্যাতির চূড়ায় আসীন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪ E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com