দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট
শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি

শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি

ছবি সম্পাদনায়ঃ লেখক নিজে

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ৪৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন— “সুজলা সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ার খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরীব। কারণ, যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।”
বঙ্গবন্ধু তাঁর এ উক্তির মাধ্যমে একটি সুশিক্ষিত জাতির কথাই বলেছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষার আলোকে আলোকিত করার তাগিদ অনুভব করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমাদের দেশের শিক্ষা এখনও সুদৃঢ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ প্রশ্নাতীত নয়। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষার অবস্থা তথৈবচ। শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রধান অন্তরায়। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনেকটাই উদাসীন বলে মনে হয়। এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলোও প্রায় নিস্ক্রিয় বলা যায়। যেটুকু তৎপরতা লক্ষ্যকরা যায় তা শুধু কাঁদা ছুড়াছুড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা আসবে। কিন্তু শিক্ষকরা আশায় বুক বাঁধলেও কোনরূপ আশার বাণী শুনতে পাচ্ছেন না।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা একদিকে সরকারের কৃপা দৃষ্টিলাভ এবং আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত অপরদিকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের তেলসমাতি নেতৃত্বের শিকার।। সংখ্যায় বেসরকারি শিক্ষকরা পাঁচ লক্ষাধিক এবং দেশের ৯৮ ভাগ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। সরকারি কর্মচারিরা ২০১৫ সাল থেকে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও রহস্যজনক কারণে তারা পেয়েছেন ২০১৮ সালে। তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একইভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বৈশাখী ভাতা পাপ্তির ক্ষেত্রেও। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। বাঙালি স্বভাবতই উৎসব প্রিয় জাতি। বেসরকারি শিক্ষকরা এর বাইরে নয়। তারা কোন ভিনগ্রহ থেকে আসেনি। সমাজের আট দশটা মানুষের মত তাদেরও স্বাদ-আহ্লাদ আছে। সন্তান-সন্ততি আছে। ঈদের কেনাকাটার শখ তাদেরও আছে। আমি নিজে একজন প্রধান শিক্ষক। আমার বেতন স্কেলের ২৫% ঈদবোনাস মাত্র ৮৭২৫/- টাকা। এ নামমাত্র টাকায় স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঈদের কেনাকাটা আদৌ সম্ভব কিনা এ প্রশ্ন জাতির কর্ণধার আপনার কাছেই রাখলাম। লজ্জাস্কর হলেও সত্য আমরা মাত্র ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাই যা দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই কোথাও নাই। আমাদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০/- টাকা, বদলী সোনার হরিণ, চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ!
পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার বেসরকারি শিক্ষকদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের একটাই দাবি অবিলম্বে জাতীয়করণ এবং জাতীয়করণ সময়সাপেক্ষ হলে যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়া। বিশেষ করে বদলি, যৌক্তিক বাড়ি ভাড়া ও শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান। হতাশার চাদরে আচ্ছ্বাদিত শিক্ষকরা এখন কোনরূপ ছলচাতুরি নয়, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়করণ আদায় করতে উম্মুখ হয়ে আছে। এর কোন বিকল্প চিন্তা শিক্ষদের স্বার্থে কুঠারাঘাতের শামিল।
পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক এখন হতাশায় ভূগছে। তারা কি চায় এটাও ঠিক করতে পারছেন না! হা-হুতাশ করে মূল্যবান সময় পার করছেন। এতে শুধু শিক্ষকরা নয়, সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চাওয়া-পাওয়ার এ ফোবিয়া আক্রান্ত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের একান্ত প্রয়োজন বোধ করছি। জাতির সংকটময় মুহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে দেখেছি কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে। শিক্ষাবান্ধব তকমাটিও আপনাকেই মানায়। বেসরকারি শিক্ষকরা কারো উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই শিক্ষকদের এ দুঃসময়ে আপনাকেই ত্রাণকর্তা হিসেবে কাছে পাবো এ প্রত্যাশা করছি। আপনি সবই জানেন এবং বুঝেন। তাই প্রত্যাশা করছি ২০২১ সাল হউক বেসরকারি শিক্ষকদের মুক্তির সোপান।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com