দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীকে সংসদে উপস্থাপনে এমপিদের প্রতি বাশিসের চিঠি

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীকে সংসদে উপস্থাপনে এমপিদের প্রতি বাশিসের চিঠি

কালপুরুষ রিপোর্ট।। মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখতে বঙ্গবন্ধূর শিক্ষাদর্শন (অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা) তথা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবী মহান সংসদে উপস্থাপনসহ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য “বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের” পক্ষ থেকে সকল এমপিকে পত্র দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম রনি
মোঃ নজরুল ইসলাম রনি এবং মেসবাহুল ইসলাম প্রিন্স স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমপিদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়, করোনার এ দুঃসময়ে আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে নিজ এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদেরকে যেভাবে আর্থিক ও ত্রাণ সহযোগিতা করেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ধন্যবাদ জানাই বিশ্বমানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন।
চিঠিতে এমপিদের উদ্দেশ্য আরও বলা হয়, আপনি রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কাজে জড়িত এবং শিক্ষক সমাজকে ভালোবাসেন বলেই শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আপনার নিকট আমাদের এ লেখা। আমরা মুজিব সেনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ও স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। জাতীয় সংসদে আপনার জোরালো বক্তব্য ও শিক্ষক সমাজের পক্ষে আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল বলেই ইতোমধ্যে ২৭৩০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, দেশে আরো প্রায় ৪ হাজার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও এবং প্রায় ২৬ হাজার এমপিওভুক্ত (স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঢাকা শহরের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে হাজার কোটি টাকার ফান্ড রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব ফান্ড ফেরত নিয়ে সকল ননএমপিও এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসাথে জাতীয়করণ করলে সরকারের রাজস্বের তেমন কোন ঘাটতি হবে না বলে আমরা মনে করছি। এমপিওভুক্তির টাকা দিয়ে সহজেই জাতীয়করণ করা সম্ভব এবং এমপিওভুক্তি এটা কোন ভালো প্রক্রিয়া নয়। সব জায়গায় শিক্ষক হয়রানি হয়। আপনি নিশ্চই অবগত আছেন, ১৯৭৩ সালে “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রথম ৩৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ ঘোষণা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ছিল অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা তথা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। কিন্তু পরবর্তীতে বিশেষ কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখতে বঙ্গবন্ধূর শিক্ষাদর্শন “অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা” তথা “শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ” এখন সময়ের দাবী। করোনার এই ভয়াবহ দুঃসময়ে এমপিওভুক্তসহ নন-এমপিও শিক্ষকগণ চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাই উপকৃত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন “অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা” তথা জাতীয়করণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। সর্বোপরি বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ) অর্জন সহজীকরণ হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা দীর্ঘ ১১ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে অন্যায়ভাবে ৪% কর্তন করা হচ্ছে। এতে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা টাকার চেকও ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫% ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৬ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। ঈদ এলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুঃখ-দুদর্শার সীমা থাকে না। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নসহ দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। প্রতিষ্ঠিত হবে বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা। তাই জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ নিম্নলিখিত কারনে করা উচিতঃ
১। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ছিল অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা তা বাস্তবায়িত হবে।
২। সরকারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজীকরণ হবে।
০৩। ছাত্র, শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকগণ এর সুবিধা পাবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবে রুপ নিবে।
০৪। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনসহ বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে।
০৫। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হবে।
০৬। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানী বন্ধ হবে।
০৭। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্যসহ নানাবিধ অসন্তোষ দূর হবে।
সুতরাং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মুজিববর্ষকে আলোকিত ও অবিস্মরণীয় এবং চিরঅম্লান করে রাখতে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীকে মহান সংসদে উপস্থাপনসহ কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আপনার নিকট শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com