দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে বিরোধীতার কোন সুযোগ নেই।। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মনোভাব ইতিবাচক

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে বিরোধীতার কোন সুযোগ নেই।। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মনোভাব ইতিবাচক

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দই শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা জাতীয়করণের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি এটি। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং মুজিবাদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) এর উদ্যোগে মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় এবং চিরঅম্লান করে রাখার মানসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এ সমাবেশকে ঘিরে সারা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকদের মধ্যে জাতীয়করণের দাবিটি আরো জোড়ালো হয়ে উঠে। সমাবেশকে সফল করতে সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি ইতমধ্যেই সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে উক্ত সমাবেশে অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকার সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তৎসত্ত্বেও কিছু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেতা এবং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জাতীয়করণের দাবিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশে সাধারণ শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে বিরোধীতা করার কোন সুযোগ নেই। কেননা সাধারণ শিক্ষকরা জেগে উঠেছে। তাছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষা দিবস-২০২০ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ভাবনা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পচাঁত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে বহু আগেই বাংলাদেশে বৈষম্যহীন শিক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হতো। শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে খুব আন্তরিক। তাই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ খুব বেশি দুরে নয়।”
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। জাতির মেরুদন্ড ঠিক রাখার দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে শিক্ষা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। প্রয়োজনটা যে রাষ্ট্রেরে এতেও কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সর্বোপরি সরকার।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০১৯ এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তরুণ শিক্ষকরাই পেশার ভবিষ্যৎ’। বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা বিবেচনার দাবি রাখে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় খুব একটা আসে না বললেই চলে। যদিও বা কেউ আসে, কিছুদিন যেতে না যেতেই এ পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশার দিকে ধাবিত হয়। এর মূল কারণ শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষকরা পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার। তাই মেধাবী ও তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য নিরসন এবং শিক্ষা জাতীয়করণ অত্যাবশ্যক।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন শিক্ষা জাতীয়করণ। কিন্ত এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরকার ইতমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ জাতীয়করণ করেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে জাতীয়করণ করে তেমন কোন সুফল পাওয়া যাবে না। এতে শিক্ষকদের মধ্যে আরও ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে। একটু গভীরে চিন্তা করলে দেখা যায় শিক্ষা জাতীয়করণে লাভ বহুমাত্রিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এদেশের ভূখানাঙ্গা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো। তাদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি লড়াই করেছেন, জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় জেলে অন্তরীণ থেকেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন একটি বৈষম্যহীন ও সুখী সম্মৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। জাতীয়করণ হলে বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে সরকারি স্কুল-কলেজের সংখ্যা অতি নগণ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ সুবিধা বেশি থাকলেও সাধারণ জনগণের ছেলেমেয়েরা ভর্তির সুযোগ পায় না বললেই চলে। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানেরা স্বল্প খরচে সরকারি স্কুল কলেজে লেখাপড়া করার সুযোগ পেলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা উচ্চহারে বেতন দিয়ে বেসরকারি স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যয় অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। কিন্তু শিক্ষা বেসরকারি রেখে এ লক্ষমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় লক্ষমাত্রা অর্জনে শিক্ষা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলো বিবেচনায় সার্বিকভাবে বলা যায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই অনতিবিলম্বে শিক্ষা জাতীয়করণ করা উচিত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ছাড়া এদেশে কোন কিছুই হয় না। সবকিছু আপনাকেই করতে হয়। কথাটি আপনার মনঃপুত না হলেও দেশবাসির মনের কথা এটি। আপনি সবই জানেন ও বুঝেন। বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তিও আপনাকে ছাড়া হবে না। তাই আপনার একজন সুহৃদ হিসেবে এ অধমের মিনতি ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী মুজিববর্ষে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে তাদের চোখের পানি মুছে দিন। প্রত্যাশা করছি আপনার ঐতিহাসিক আরও একটি সিদ্বান্ত জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দুর। আপনি পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন। আপনার কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আপনি নিজেও খ্যাতির চূড়ায় আসীন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com