দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা।। সভাপতি তুষার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ৫ অক্টোবর শুভদিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন কমেছে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে শনাক্তের হার! শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন।। মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ দুঃসংবাদের ভিড়ে সুসংবাদ।। ভ্যাকসিন থেকে কেউ বাদ যাবে না-প্রধানমন্ত্রী বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার ২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন! বঙ্গবন্ধু পরিষদ তিতাস উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা ও মাস্ক বিতরণ শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!
শিক্ষকদের মর্যাদা এখন তলানীতে।। উত্তরণে প্রয়োজন বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন

শিক্ষকদের মর্যাদা এখন তলানীতে।। উত্তরণে প্রয়োজন বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের শিক্ষাগুরু জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে সম্মানিত করে এ গুণেধরা সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে। তিনি কার্পেট মোড়ানো পথে নিজে না হেটে শিক্ষাগুরুকে ছেড়ে দিলেন, শিক্ষাগুরুর গায়ের চাদর নিজেই ঠিক করে দিলেন, এ এক অনন্য নজির।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা।। শিক্ষকতা পেশা নয় একটি মহান ব্রত। যিনি নৈতিকতার আদর্শে সমুজ্জ্বল, যিনি শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জ্ঞান তৃষ্ণা জাগিয়ে, মনের সুকুমার বৃত্তিগুলোর পরিচর্যা করে শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষে পরিণত করেন তিনিই তো শিক্ষক। সততা, নৈতিকতা, উদারতা, আধুনিকতা, ব্যক্তিত্ব তথা সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ একজন আদর্শ শিক্ষকের চারিত্রিক ভূষণ। শিক্ষকতা হচ্ছে সম্মানজনক একটি মহান পেশা এবং পৃথিবীর সকল পেশার সেরা পেশা। শিক্ষক হচ্ছেন সভ্যতার ধারক-বাহক। শিক্ষক স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিশুদ্ধ জ্ঞান, মানবিক আর নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত এবং দীক্ষিত করে গড়ে তুলেন দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে। ন্যায়-বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষা আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার আর শিক্ষকরা হলেন তার সুনিপুণ কারিগর।
ছাত্রজীবনে শিক্ষককে আদর্শ ও মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অন্তরে লালন করেছি। সমাজে তাদের সম্মান বিরল তা নিজ চোখে দেখে মনে মনে সংকল্প এঁটেছি বড় হয়ে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেব। তাই সকল লোভ লালসাকে পেছনে ফেলে সরকারি লোভনীয় চাকরির সকল যোগ্যতাকে ছাপিয়ে শিক্ষকতার ন্যায় মহান ব্রতে আত্ননিয়োগ করি। ১৯৯২ সালে ইঞ্জিন ক্যাডেট হিসেবে সমুদ্র যাত্রা শিপিং লাইনসের একটি জাহাজে যোগদান করি। অল্পদিনের ব্যবধানেই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করি। এতদিনে হয়তো চীফ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যেতাম এবং টাকার কুমির বনে যেতাম। সমুদ্রের তর্জন গর্জন ভালো লাগেনি। চলে আসলাম মুক্ত বিহঙ্গে। ছাত্রজীবনে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলাম এবং ক্লাসে কখনো দ্বিতীয় হইনি। সেই সুবাধে প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যক্ষ সায়েদউল্লাহ খানের পরামর্শে প্রিয় বিদ্যাপীঠ গাজীপুর খান হাইস্কুল এণ্ড কলেজে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি ১৯৯৫ সালে। দুর্ভাগ্য প্রতিষ্ঠানটি এখন সরকারি হলেও আমি নেই। যদিও সরকারিকরণে আমার কিঞ্চিত হলেও ভূমিকা রয়েছে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সে সুযোগ থেকে আমি বঞ্চিত। ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাইলাম। এবার আসল কথায় আসা যাক।
অপ্রিয় হলেও সত্য, শিক্ষকতা পেশার কাঙ্খিত মর্যাদা আজ আর নেই, বলা যায় একেবারেই তলানীতে। এ পেশায় ২৬ বছর অতিক্রান্ত করেছি, অনেক দেখেছি, বুঝেছি। শিক্ষকরা আজ নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী কিংবা সরকারি আমলা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমনকি স্থানীয় হোমরা চোমরা কর্তৃক শিক্ষককে অপমান অপদস্ত করার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। সম্প্রতি লকডাউন চলাকালে বাগমারা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) মাহমুদুল হাসান আবদুল আজিজ নামে এক প্রভাষককে তার নিজ বাসার সামনেই পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন। লকডাউন চলাকালে চট্টগ্রামে এক প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিদ্যালয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না দেয়ায় নাজেহাল করা হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গরিমসি খুবই বেদনাদায়ক।
দেশের সিংহভাগ শিক্ষা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এবং শিক্ষকরা সুবিধাবঞ্চিত। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সেবাব্রত নিয়ে এ মহান পেশায় যোগদান করলেও আর্থিক দীনতা ও প্রাপ্য সম্মান না পেয়ে পেশার স্বকীয়তা হারিয়ে অনেক শিক্ষকই অনৈতিক পথ অবলম্বন করছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিরেকে অন্যান্য স্তরে শিক্ষকতা পেশা গ্রহণে মোটেও আগ্রহী নয়। দেশের মানুষ জানে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন পায়। কিন্তু ক’জনাই বা জানে শিক্ষকরা বেতনের নামে শুধুমাত্র অনুদান পায়। আবার সে অনুদান থেকে ১০% কেটে নেয়া হয় কল্যাণট্রাস্ট ও অবসর তহবিলে। শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা ২৫%। সন্তানের শিক্ষা ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতার কোন বালাই নেই। বদলি নেই, চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ!
সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাপ্য সুবিধাদির মধ্যে বৈষম্য আকাশ-পাতাল। আমি বেসরকারি শিক্ষক হলেও সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি এমপিওভূক্ত এবং বেতনের নামে লজ্জাস্কর অনুদানপ্রাপ্ত। আমার রাইফেল আছে গুলি নাই। আমি জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত হলেও আমার নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। আমার চাকরি স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির মর্জির উপর নির্ভর করে। পান থেকে চুন খসলেই চাকরিচ্যুতি। তাই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত মহান পেশায় আত্মনিয়োগ করেও শুধুমাত্র বেসরকারি উপাধির কারণে আমরা আজ নিগৃহিত। কিন্ত আমার বড় পরিচয় আমি শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। আমি বেসরকারি শিক্ষক এ নহে মোর অপরাধ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুগে যুগে অত্যাচারী শাসকও নত শিরে গুরুর সামনে দাঁড়িয়েছেন। গুরুকে অসম্মানের দৃষ্টতা কেউ দেখাননি। চানক্য শ্লোকে আছে, “এক অক্ষরদাতা গুরুকেও যে গুরু বলিয়া মান্য করে না, সে শতবার কুকুরের যোনিতে জন্মগ্রহণ করিবে।”
শিক্ষা গুরুকে কীভাবে মর্যাদা দিতে হয় তা বাদশা আলমগীর বিশ্ববাসীকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন। ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শিক্ষক ইউনিয়নের উদ্দেশে দেয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, শিক্ষকদের জন্য শুধু প্রশংসা নয়, তাঁদের মজুরি বৃদ্ধিও জরুরি।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিজের শিক্ষাগুরু জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে সম্মানিত করে এ গুণেধরা সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে। তিনি কার্পেট মোড়ানো পথে নিজে না হেটে শিক্ষাগুরুকে ছেড়ে দিলেন, শিক্ষাগুরুর গায়ের চাদর নিজেই ঠিক করে দিলেন, এ এক অনন্য নজির। প্রত্যাশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ অনন্য দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জাতি শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় ব্রতী হবেন এবং শিক্ষকরাও তাদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবেন।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতির পিতার রক্ত যাঁর শিরা উপশিরায় প্রবাহিত, তিনি একদিন না একদিন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্যের অভিশাপ মুক্ত করবেন। ইতমধ্যে করোনা পরিস্থিতির কারণে মুজিববর্ষের কলেবর বাড়িয়ে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অবধি করা হয়েছে। তাই প্রত্যাশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় করে রাখার মানসে বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে ব্রতী হবেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail:alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com