দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
রত্নগর্ভা মা দেশরত্ন শেখ হাসিনা

রত্নগর্ভা মা দেশরত্ন শেখ হাসিনা

ছবিঃ সন্তানদের সাথে রত্নগর্ভা মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাস এক লাইনে লিখতে গেলেও সর্বাগ্রে চলে আসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের সামরিক ও স্বৈরশাসনকে হঠিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি সম্পর্কে লিখতে হলে শেখ হাসিনার নামটিই চলে আসে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা প্রসার, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষা, সাহিত্যকর্ম সর্বক্ষেত্রেই তাঁর অবাধ বিচরণ এবং গৌরবময় সাফল্য অর্জন। তিনি এখন প্রজাতন্ত্রের প্রধান, একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিশ্ব দরবারে একজন পলিসি মেকার, স্লোবাল থিংকিং ট্যাংক। অকল্পনীয় প্রতিভাধর ও হাজার গুণাবলীর অধিকারী শেখ হাসিনা সম্পর্কে লিখা সত্যিই দুরূহ কাজ। চারিত্রিক দৃঢ়তা, দুরদর্শিতা, বাগ্মিতা, অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একাগ্রতা সর্বোপরি সাফল্যের পরিধি এতো ব্যাপক যে, তা রূপায়নে উন্নত রচনা শৈলী ব্যতিরেকে আদৌ সম্ভব নয়।
সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় গুরূত্বপূর্ণ কাজে শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁকে আমরা দেখতে পাই মমতাময়ী মায়ের ভূমিকায়। নিজ হাতে রান্না করে সন্তানদের খাওয়ানো বাঙালি নারীদের প্রতিভূ হিসেবে। পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে ভালোবাসা ও স্নেহধন্য বোনের একমাত্র অবলম্বন এবং আদর্শ স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনেও অনন্য, অসাধারণ দৃষ্টান্ত। পঁচাত্তর পরবর্তী অসহায়ত্বকে জয় করে দু’সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতলকে গড়ে তুলেছেন মনের মাধুরী দিয়ে। তারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। স্বীয় কর্মগুণে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন বিশ্বব্যাপী। তাই তো শেখ হাসিনা আজ সন্তানের আলোকেও আলোকিত। শুধু দেশরত্নই নন রত্নগর্ভা মাও বটে।
শেখ হাসিনার দু’সন্তান আজ মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবায় আত্ননিয়োগ করেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন অটিজম বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট শিশু মনোবিজ্ঞানী। স্লোবাল অটিজম, পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ এর জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের উপদেষ্টা এবং অ্যাক্রিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। শেখ হাসিনার দু’সন্তান আজ তাঁর দু’টি বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যোগ্যতার ছাপ রেখে অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন দু’টি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর সন্তানদের নিকট অনেক কিছু জেনেছেন এবং শিখেছেন। শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ বা আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সজীব ওয়াজেদ জয় এর ভূমিকা অনন্য, অসাধারণ। অপরদিকে প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়। সজীব ওয়াজেদ জয় বাঙালির কাছে এখন তিনি এক অতি পরিচিত নাম। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আইটি বিশেষজ্ঞ তথা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সুনামের সাথে কাজ করে এখন তিনি কেবল তরুণ প্রজন্মকেই নয়, স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন পুরো বাংলাদেশকেই। রাজনীতি সচেতন অনেক মানুষই এখন প্রত্যাশা করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার রাজনীতিতেও আনুক ব্যতিক্রমী সব পরিবর্তন। সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতের বাঙ্গালোরের সেন্ট জোসেফ কলেজে ম্যাথমেটিকস, ফিজিকস ও কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর, টেক্রাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর এবং সর্বশেষে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন এফ কেনেডি স্কুল অব গভর্ণমেন্টে ইনোভেশন ইন গভর্ণ্যান্স কোর্সে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। এর সুবাদে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সজীব ওয়াজেদ জয়কে ২৫০ বিশ্ব ইয়ং নেতার একজন নির্বাচিত করে। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর সেন্ট জোসেফে ম্যাথমেটিকস, ফিজিকস, কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সময় থেকেই তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি তিনি তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশীদের জন্য কিছু একটা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সুযোগ দেখতে পান। তাই ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সজীব ওয়াজেদ জয় পর্দার অন্তরালে থেকে নিজের মেধা ও শিক্ষা দিয়ে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগে সাবমেরিন কেবলে বাংলাদেশকে যুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেটেলাইট তাঁর অনন্য উপহার। কমিউনিকেশন অ্যান্ড কানেকটিভিটির মাধ্যমে সজীব ওয়াজেদ জয় বিশ্বকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগঞ্জের মানুষের দোঁরগোড়ায় নিয়ে আসেন। ধনী লোকের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন দেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসে নামমাত্র মূল্যে। কিন্তু ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ার পর থমকে যায় ডিজিটাল বাংলাদেশের কাজ। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিশ্ব থেকে আবারও পিছিয়ে পড়তে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সজীব ওয়াজেদ জয় তার মা শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগানকে সামনে নিয়ে আসেন এবং ঘোষণা করেন ‘দিনবদলের সনদ’। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘দিনবদলের সনদ’ দেশের তরুণ সমাজকে আকর্ষণ করে এবং নির্বাচনে বিপুল বিজয়ে সহায়ক হয়। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করার পরপরই সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমন অনেক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন, যা কেউ ভাবেনি আগে।
ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন সজীব ওয়াজেদ জয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এমন অনেক কিছুই হবে, যা কেউ ভাবেনি আগে। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন করছে বাংলাদেশ। সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর তিনি শুধু দিয়েই গেলেন, প্রাপ্তির খাতায় পেলেন ডিজিটাল প্রজন্মসহ সকল আপামর জনগনের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, যা আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জয়তু সজীব ওয়াজেদ জয়।
একজন মাহাথির মোহাম্মদ বদলে দিয়েছেন পুরো মালয়েশিয়াকে। মাহাথির মোহাম্মদের মালয়েশিয়া আজ বিশ্বের বুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা ‘ডটার অব পিস’ নামে খ্যাত প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনার পুত্রও একদিন তার শিক্ষা, মেধা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বদলে দেবেন বাংলাদেশকে।
প্রত্যেক মানুষেরই জন্মগতভাবে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। অটিস্টিকসহ সমাজের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এ মর্যাদা ভোগের সমান অধিকার প্রাপ্য। আমাদের সংবিধানেও সকল নাগরিকের সমানাধিকার, মানবসত্তার মর্যাদা, মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে। আশার কথা যে, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আর এ কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের এক আলোচনা সভায় নিজেই বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে পুতুল আমার চোখ খুলে দিয়েছে। শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “প্রতিবন্ধীরা কিন্তু সমাজের বোঝা নয়। একটা সময় ছিল প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের জন্য
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার আদর্শ লালন করে দেশকে এগিয়ে নিতে নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এখন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং নাতনী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে ধ্রুবতারার মতো আলোক ছড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বীয় মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ও দুরদৃষ্টি চিন্তা-চেতনায় পাহাড়সম খ্যাতি অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি নিজের দু’সন্তান এবং ছোটবোন শেখ রেহানার তিন সন্তান টিউলিপ, ববি ও রূপন্তীর স্বর্ণোজ্জ্বল সাফল্যে উদ্ভাসিত।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com