দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট
মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি

মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।। মোবাইল গেমস একটি আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম উপহার। বেকার মানুষের প্রিয় বন্ধু। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গী। আরও রয়েছে কত কি! তবে এত কিছুর পরেও আমরা এটাকে বলছি ‘ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি’। আর এটিই বাস্তবতা। বর্তমান সময়টা তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তি সবকিছু এনে দিয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। করে দিয়েছে সব কাজের সুযোগ-সুবিধা। মানুষের বিকল্প এখন আধুনিক প্রযুক্তি। স্বল্প সময়ে বৃহৎ কাজ আঞ্জাম দেয় তথ্য প্রযুক্তি। আর এ প্রযুক্তি ব্যবহারে একদিকে যেমন আমাদের সময়কে বাঁচাতে পারি, তেমনি অন্যভাবে আমাদের সময়কে নষ্টও করতে পারি। তথ্য প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় সবার হাতে হাতে নানা ধরনের ডিভাইস রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক ভিডিও গেমস অর্থাৎ গেমিং অ্যাডিকশন। বর্তমান সময়ে এমন তরুণ খুব দুর্লভ, যার কাছে স্মার্টফোন আছে; কিন্তু গেমস খেলে না। এটি আমাদের যেমন সাময়িক আনন্দ দিচ্ছে, ঠিক তেমনি কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান অনেক কিছু। মারা যাচ্ছে শিশু-কিশোরের সুপ্ত প্রতিভা। চুষে খাচ্ছে মহামূল্যবান সময়। নষ্ট করছে কোটি মানুষের অমূল্য জীবন। শেষ করছে মাতৃভূমির সুনাম ও যশ-খ্যাতি।
স্মার্টফোন হাতের মুঠোয় থাকায় দেশীয় খেলাধুলা দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের ঐতিহ্য খেলাধুলা বা শারীরিক ব্যায়াম। এখন আর দেখা যায় না স্কুল-মাদ্রাসা ছুটি হলে লাটিম নিয়ে মেতে ওঠা। মার্বেল নিয়ে খেলাধুলা। ঘুড়ি নিয়ে রৌদ্রভরা দুপুরে মাঠে দৌঁড়ানো। শিশু-কিশোররা আজ মেতে উঠেছে মোবাইল গেমসে। জেগে উঠেছে নেশা আসক্তিতে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মাঠে গিয়ে খেলার চেয়ে মোবাইল ফোনেই বিভিন্ন গেম খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সারাক্ষণ মোবাইল গেমস পাবজি, ফ্রি ফায়ারের মতো হিংস্র সব ভিডিও গেমস নিয়ে ব্যস্ত। ফলে তারা ঝুঁকে পড়ছে অশ্লীলতার দিকে। অবলোকিত হচ্ছে বিভিন্ন অপকর্মে। জড়িয়ে পড়ছে ধর্ষণ ও মদ্যপানসহ নানা অসঙ্গতিপূর্ণ সামাজিক ব্যাধিতে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানবতার বদান্যতা থেকে। সরে যাচ্ছে ইসলামের সুশীতল ছায়া থেকে। এভাবেই দিনের পর দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের একঝাঁক কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী।
ভিডিও গেমসের প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে আগের তুলনায় এখন শতগুণ বেশি। এ আসক্তিকে সম্প্রতি মানসিক রোগের তালিকায় অর্থাৎ সামাজিক ব্যাধিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, শিশুদের এসব ভার্চুয়াল গেম থেকে দূরে রেখে আবার মাঠের খেলায় ফেরাতে হবে। না হলে তরুণ প্রজন্ম মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কিছুদিন আগে একজন মা বলেছিলেন, ‘আমার সন্তান সারা দিন গেম নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের সঙ্গে কোনো দাওয়াতে যেতে চায় না। বন্ধুদের সঙ্গে মেশে না। গল্পের বই পড়ে না। ক্রিকেট বা অন্য কোনো খেলাও খেলে না। মোটকথা ডিজিটাল পর্দার গেম ছাড়া সে আর কোনো কিছুই বুঝতে চায় না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাসায় কিছুক্ষণের জন্য ওয়াইফাই বন্ধ থাকলে তার উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। শুরু হয়ে যায় ছটফট। আমরা রাগ করে তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করতেই আমাদের কটুবাক্য বলে। চিৎকার করে আবার তার মুঠোফোনটি নিজের কব্জায় নিয়ে আসে। মনোবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এসব ভিডিও গেম খেললে শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসারণ হয়। এতে শিশু সবকিছু নিয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে যায়। মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। তো আমরা এমন নানা আপত্তিকর সমস্যা থেকে কীভাবে রেহাই পেতে পারি। আমাদের সচেতনতায় হতে পারে মুক্তির পথ। যেমন;-
১. ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে নিজেকে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, তা আগে বিবেচনা করতে হবে।
২. ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিলে তার একটি সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং সময় মেনে চলতে উৎসাহিত করতে হবে।
৩. পিতা-মাতা বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে।
৪. বেশি বেশি বই কিনুন। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বই হোক নিত্যদিনের সঙ্গী। বইয়ের আলো জেমসের অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।
৫. ইন্টারনেট বা গেম আসক্তি কিন্তু মাদকাসক্তির মতোই একটি সমস্যা। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এ আসক্তি দূর করতে হবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামতগুলোর অন্যতম হলো ‘সময়’। যেটা একবার ফুরিয়ে গেলে আর পাওয়া যায় না। একবার চলে গেলে আর ফেরানো যায় না। সময়ের আবর্তনে সেকেন্ড-মিনিট-ঘণ্টা, দিন-সপ্তাহ-মাস-বছর এভাবেই হারিয়ে যায়। সময়ের ইতিবাচক ব্যবহারই জীবনের সফলতা। সময়ের অপচয় ও অপব্যবহার জীবনের ব্যর্থতা। সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করা বা অপব্যবহার করার জন্য জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর দরবারে। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর : ১-৩)। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে কিন্তু বৃহৎ সময়কে আমলহীন অতিবাহিত করেছে। (তিরমিজি : ২৩২৯)।
পরকালে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। তাই আমরা অযথা মোবাইল গেমস খেলে আমাদের মূল্যবান সময়কে নষ্ট না করি। জীবনকে গেমস আসক্তিতে তছনছ না করে আলোকিত-সুন্দর জীবন গঠন করি । আল্লাহ আমাদেরকে খারাপ আসক্তি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপক,কুমিল্লা। 01718-228446

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com