দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়করণ আমার অধিকার — মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বর্তমান সংসদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারাগারের রোজনামচা ও কাউয়া সমাচার সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।। প্রয়োজন লেজুরবৃত্তি পরিহার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জীবন-জীবিকা মখোমুখি! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।। আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই মানুষ গড়ার কারিগর বেসরকারি শিক্ষকরা! বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন
মূল্যবোধের ধ্বস: নতুন উপসর্গ কিশোর গ্যাং

মূল্যবোধের ধ্বস: নতুন উপসর্গ কিশোর গ্যাং

মাহবুবুল আলম

মূল্যবোধের অবক্ষয় বর্তমানে আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। ব্যক্তির যেমন চাহিদা আছে, তেমনি সমাজেরও চাহিদা আছে। সমাজ মানুষ থেকে সব সময় সামাজিক আচরণ প্রত্যাশা করে। প্রত্যেক সমাজে তার সদস্যদের আচরণ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি থাকে। নীতিহীন সমাজ উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর ও অনিশ্চিত। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ে মানুষের হৃদয়বৃত্তিতে ঘটছে যতসব অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন। সমাজ ও পরিবারে বেজে উঠছে ভাঙনের সুর। নষ্ট হচ্ছে পবিত্র সর্ম্পকগুলো। চাওয়া পাওয়ার ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে অনেক বেশি। ফলে বেড়ে চলেছে আত্মহত্যাসহ অন্যান্য অপরাধপ্রবণতা। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব সম্পর্কের এমন নির্ভেজাল জায়গাগুলোতে ফাটল ধরেছে। ঢুকে পড়েছে অবিশ্বাস। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। কিছুদিন আগে বড়গুনায় পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে রিফাত নামের এক যুবককে। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিপক্ষ তাকে কুপিয়ে হত্যা করে, এ ঘটনা সমগ্র দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

এ পর্যায়ে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়টি ওপর একটু আলোকপাত করা যাক। নৈতিকতা (Morality) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন (Moralitas) শব্দ হতে। Moralitas অর্থ হলো ধরণ, ভাল আচরণ, চরিত্র  নৈতিকতা হলো কতিপয় বিধান, যার আলোকে মানুষ তার বিবেকবোধ ও ন্যায়বোধ ধারণ করে এবং প্রয়োগের চর্চা করে। নৈতিকতা হলো এক ধরণের মানসিক অবস্থা যা কাউকে অপরের মঙ্গল কামনা করতে এবং সমাজের প্রেক্ষিতে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেয়। যেমন সত্য বলা, গুরুজনকে মান্য করা, অসহায়কে সাহায্য করা, চুরি , দূর্নীতি থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। এগুলো মানুষের নৈতিকতার বহিপ্রকাশ। সমাজ বিজ্ঞানী জনাথন হ্যাইট বলেন “ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানবআচরণ এ তিনটি হতে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে। মূল্যবোধ  হচ্ছে মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাববিস্তারকারী ধারণা বা আদর্শ। সামাজিকভাবে বাস করতে গিয়ে মানুষ কতগুলো আদর্শ বা মানদ- সাধারণভাবে গ্রহণ করে নেয়। সমাজে মানুষের যা কিছু করা উচিত, যা কিছু মঙ্গলজনক মনে করে তার আদর্শ রূপই হচ্ছে মূল্যবোধ।”

যাক মূল বক্তব্যে ফিরে আসি। সাম্প্রতিক সময়ের শিশুহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, সন্ত্রাস, নকলপ্রবণতা, খাদ্যে ভেজাল, নকল ঔষধ ইত্যাদি সমাজের করুণ রূপ। আর দুর্নীতির দুষ্টচক্রতো সমাজ ও রাষ্ট্রের পরতে পরতে ঢুকে পড়েছে।  সমাজের মানুষ কেউ কারো বন্ধু নয়। প্রত্যেকে পরোক্ষ ভাবে একে অপরের ক্ষতিসাধনে মগ্ন। সামান্য মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বয়োবৃদ্ধ থেকে শিশু-শিশোরকে পিটিয়ে বা গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কোমলমতি শিশু, কিশোর ও কিশোরীরা শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এছাড়াও তরুণী ঐশী কর্তৃক নিজ পিতা-মাতাকে হত্যা, সাংবাদিক দম্পতি সাগর রূনি হত্যাকা-, ও পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা হত্যাকা- সমাজকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলছে। যা সামাজিক অবক্ষয়ের খ-, খ- চিত্র। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর চরম আঘাত। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ক্রান্তিলগ্নে সমাজরক্ষার চিন্তায় চিন্তিত দেশের সকল বিবেকবান মানুষ। যথার্থ জীবন আদর্শের অভাবে পরিবারগুলো এখন ভোগবিলাস ও পরশ্রীকাতর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা ও ধনবাদী ধ্যান-ধারণায় গড়ে উঠেছে ভারসাম্যহীন সমাজ। আমাদের আজকের সমাজ পরিচালিত হচ্ছে  নৈতিকতার ভিত্তিতে নয় বরং স্বার্থের মোহে।

তদুপরি বর্তমান বিশ্বে মানুষের সঙ্গে মানুষের অসম প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মানুষে মানুষে দূরত্ব। ব্যক্তিজীবনে কমে আসছে ধৈর্যশীলতা। নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কিংবা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভও বিরাজ করছে মাত্রাতিরিক্ত। দেশ, জাতি, সমাজ, পরিবার ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একজন মানুষের চরম নৈতিক মূল্যবোধের ধাক্কায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে অন্য মানুষ । তৈরি হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়। এককথায় দিন দিন মানুষের মানসিক বিকৃতি বাড়ছে। হতাশা বা অস্থিরতা বিরাজ করছে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার প্রতিটি ধাপে। হৃদয়ের মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে মানুষ পাশবিক হয়ে উঠছে। সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা সমাজে সংঘটিত হচ্ছে না। স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, মা-বাবা নিজ সন্তানকে, ভাই ভাইকে অবলীলায় হত্যা করছে। সমাজে সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ে, মা-মেয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। প্রেমের কারণে অর্থ সম্পত্তির লোভে সমাজে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যদিকে হতাশা নিঃসঙ্গতা বঞ্চনা অবিশ্বাস আর অপ্রাপ্তিতে সমাজে আত্মহননের ঘটনাও বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে না পেরে ছেলে খুন করছে বাবা মাকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে।

অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য কিংবা কাউকে ফাঁসিয়ে দেবার নিমিত্তে নিজের সন্তানকে হত্যা পর্যন্ত করছে। আর যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যা নিত্যদিনের ব্যাপার। পারিবারিক বন্ধন স্নেহ ভালোবাসা মায়া মমতা আত্মার টান সবই যেন আজ স্বার্থ আর লোভের কাছে তুচ্ছ। কেবল তাই নয়, সমাজের উচ্চবিত্তের তরুণরা বিপথগামী হয়ে পড়েছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে খুন, ধর্ষণ ও মাদকাসক্তিসহ নানা অপরাধে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খানের মতে, যে সন্তানরা তাদের মা-বাবার হত্যাকা-ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে কিংবা যে অভিভাবকরা তাদের সন্তান-হত্যা করছেন, তাদের অনেকেই আর্থিক কারণে এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকরা পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পারিবারিক কলহ থেকে সন্তানকে হত্যা করছেন। এ ক্ষেত্রে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে নিতে হত্যাকারী কোনো বাধা পেলেই ক্রোধের বশবর্তী হয়ে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। অনৈতিক লোভ, প্রতিযোগিতা, পরচর্চা ও পরকীয়ার কারণেই পারিবারিক এ হত্যাকা-ের ঘটনাগুলো ঘটছে। মূলকথা, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষ দিন দিন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠছে। নিজের একক কর্তৃত্ব ও জিদকে প্রাধান্য দিয়ে প্রিয়জনকে হত্যা করার মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে। মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিষন্নতা ও মাদকাসক্তি সমাজের এই ন্যক্কারজনক হত্যাকা-গুলোর জন্ম দিচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এক ধরনের মানসিক বিকৃতির লক্ষণ। সচেতনতা ছাড়া সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি যে কোন অপরাধ বিশেষ করে শিশু, কিশোর বা কিশোরীদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই অস্থির, নিয়ন্ত্রণহীন বিরূপ সমাজ ব্যবস্থার দায় কারো একার নয়, বরং সমগ্র নাগরিকের। প্রত্যেক ভূমিকা পালন করতে হবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায়, সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে। সপ্তদশ শতকের দার্শনিক হব্স (Hobbes) হলেন Civil society বা নাগরিক সমাজ ধারণার প্রবর্তক। এ ধারণার সমর্থনকারীরা হলেন সভ্যসমাজের সমর্থক। তাদেরকেই ভূমিকা নিতে হবে দেশের কল্যাণে। দায়িত্ব নিতে হবে –যথার্থ দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার; রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার; সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার; সমাজের সংকটময় মূহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর; সমাজের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা ইত্যাদি বিষয়ে।

শত সমস্যার বাংলাদেশে আর একটি সামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, সে সমস্যাটি হলো ‘কিশোর গ্যাং’। সমস্যাটি দিন দিন প্রকট এবং সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কিশোর গ্যাং ছিনতাই, চাঁদাবাজী, অপহরণ, মাদক ব্যবসাসহ নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু তা ই নয় খুন খারাবীর মতো সমাজবিরোধী নানাবিধ কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছে ওরা। শুধু শহর নয় গ্রাম-গঞ্জেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজে এরা এতটাই বেপড়োয়া হয়ে ওঠেছে যে এদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করতে আইন শৃংখলা বাহিনীকেও হিমসিম খেতে হচ্ছে। সবার ধারণা সময় মতো এদের দমন করতে না পারলে এরাই একসময় বড় সন্ত্রাসী হয়ে ওঠতে পারে। যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের হুমকী হয়ে ওঠতে পারে বলে আইন-শৃংখলা বাহিনী ও দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদেরকে ধরে সংশোধনাগারে পাঠালেও আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে এসে আরও বেসামাল হয়ে পড়ছে। ঢাকার সব অলিগলিতেই কমবেশি কিশোর গ্যাং আছে তবে এদের পদচারণা সবচেয়ে বেশি নগরের বস্তিগুলোতে। পুলিশ মনে করছে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, হুমকি-ধমকি দেয়া, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কাউকে গুলি করে মেরে ফেলার জন্যই এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং গড়ে তোলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছে পিস্তল রিভলবারের মতো মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে, ফলে আগ্নেয়াস্ত্রের জোরে এরা দিনকে দিন বেসামাল হয়ে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমানের মতে পারিবারিক ও সামাজিক কারণ ছাড়াও শিক্ষাগত কিছু কারণও কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার জন্য দায়ী। পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় নিন্ম আয়ের পরিবারের কিশোররা নানা কারণে শিক্ষা থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হয়ে হতাশায় ভোগে। এসব কিশোরই এক সময় মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরে টাকার জন্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কাজেই দেশকে সমুহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখনই জরুরী। 

শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প ও প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বসভ্যতা। আধুনিক সভ্যতার দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। ক্রমশই বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ছিন্ন হচ্ছে সামাজিক সম্পর্ক। অস্থির হয়ে উঠছে সমগ্র সমাজব্যবস্থা। বর্তমানে চলছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। এই প্রেক্ষাপটে পরিবার-সমাজ, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিন্তা-চেতনায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাস প্রায় শূন্যের কোঠায়। পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমাজকে সক্রিয় হতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে জাগ্রত করতে হবে সমাজকে। সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজন সামাজিক স্থিতিশীলতা। প্রয়োজন নৈতিকতা, মূল্যবোধের চর্চা ও বিকাশ সাধন। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উপাদান তথা সততা, কর্তব্য, ধৈর্য, শিষ্টাচার, উদারতা, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমত্ববোধ, জবাবদিহিতা, সহমর্মিতা, আত্মত্যাগ ইত্যাদি মানবীয় গুণের চর্চা বর্তমান সমাজে নেই। সমাজ চলছে বিপরীত স্রোতধারায়। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি বা সুবিচার না হওয়ার কারণে কিংবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা দিন দিন যেন আরও সাহসী হয়ে ওঠছে। এটাও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তাই এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একযোগে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রকে যথার্থ ভূমিকা পাল করে যেতে হবে। তবে এ কথা সত্য কোন সমাজ বা রাষ্ট্রই নৈতিকতা ও মূল্যাবোধের অবক্ষয় থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। কেননা সমাজ বা রাষ্ট্রে বিভিন্ন ও বিশ্বাসের লোক বাস করে, এদের একেক জনের চরিত্র অন্য জনের সাথে মিলে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য তাই সর্বাগ্রে পরিবারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: কবি-কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com