দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আমরাও আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা বিস্তরণ করতে চাই

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আমরাও আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা বিস্তরণ করতে চাই

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষানির্ভর এবং সনদসর্বস্ব। একইসঙ্গে আনন্দহীন। সেটি প্রাক্–প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। সুতরাং সংখ্যায় নয়, শিক্ষার গুণ ও মানের দিকে নজর দিতে হবে। সনদসর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তনের পাশাপাশি গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের আনন্দেই জ্ঞান অর্জন করবে, বাধ্য হয়ে নয়। ১৪ নভেম্বর শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ রাসেল জিমনেসিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য সত্যিই প্রশংসনীয়।
আমরা যারা শিক্ষকতা পেশায় জড়িত লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং বিজ্ঞানমনস্ক। শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং শিখন-শিক্ষণ কাজটি ফলপ্রসু করতে শিক্ষাবান্ধব তথা আনন্দঘন পরিবেশের কোন বিকল্প নেই। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় কানেক্টিং ক্লাসরুম প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাজ্যে স্কুল ভিজিটে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের স্কুল ভিজিটের সময় আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি। সত্যিই তাদের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং আনন্দঘন। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অত্যন্ত সচেতন এবং শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের মাঝেই শিখন-শিক্ষণের ক্ষেত্রে সাচ্ছন্দবোধ কাজ করে।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা শিক্ষকরাও আনন্দময় পরিবেশেই শিক্ষা দিতে চাই। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি। শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তথা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নেও ব্যবস্থা গ্রহণ আশু প্রয়োজন। দেশের প্রায় আটানব্বই ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনই বেসরকারি। এগুলোর মধ্যে কোনটা এমপিওভূক্ত আবার কোনটা নন-এমপিওভূক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষাদান কতটা সম্ভব তা বিবেচনায় আনা জরুরি বলে মনে করছি।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, সাড়ে পাঁচলক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা আজ হতাশায় নিমজ্জিত। গোটা জাতি জানে আমরা সরকার থেকে শতভাগ বেতন পাই। কিন্তু বেতনের বদলে স্বীয় বেতন স্কেলের চেয়ে কম অনুদান পাই তা ক’জনই বা জানে। সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় আমরা পেয়েছি ২০১৮ সালে। তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে। এখন আবার বোঝার উপর শাকের আটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়তি কোন সুবিধা প্রদান ছাড়াই অতিরিক্ত ৪% কর্তনের মাধ্যমে। পৃথিবীর কোথাও ২৫% উৎসব ভাতার রেওয়াজ না থাকলেও আমারা পাচ্ছি। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার কথা বলতেও লজ্জা লাগে। শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতার তো কোন বালাই নেই। নিজের সঞ্চিত অবসর কল্যাণের টাকা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই। বদলি সেতো সোনার হরিণ। চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এখন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সুবিধাদিও বন্ধ রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লক্ষাধিক কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও বেসরকারি শিক্ষকরা এর আওতাভূক্ত নন।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, এমপ্রিভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রত্যাশা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ ঘোষণা দেবে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে দাবিটি আরও জোড়ালো হয়ে উঠে। কিন্তু ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করলেও জাতীয়করণের কোন ঈঙ্গিত না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকরা বেশ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আমি মনে করি হতাশার কোন কারণ নেই। বাজেটে থাক বা না থাক শিক্ষা জাতীয়করণে আপনাদের আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে আপনি উদ্যোগ নিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন।
আমরা পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি এমপিওভূক্ত শিক্ষক আপনার বৃহৎ পরিবারভূক্ত। আমাদের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা হতাশার অথৈ সাগরে নিমজ্জিত। আমাদের হৃদয়ের হাহাকার ও তপ্ত হৃদয়ের কান্নায় আকাশ বাতাস কেঁপে উঠছে। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব। বেসরকারি শিক্ষকরা এখন ভালো নেই। মানুষ গড়ার কারিগরদের জীবনমানের উন্নয়ন ব্যাতিরেকে শিক্ষাক্ষেত্রে আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি কতটা সুফল বয়ে আনবে তা ভেবে দেখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুমিল্লা, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪
E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com