দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বিষ্ময়, মানবতা ও শান্তির অগ্রদুত, বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা,
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আযহার প্রাক্কালে অবজ্ঞা ও বঞ্চনার শিকার মানুষ গড়ার কারিগরদের পক্ষে আজ একরাশ বেদনা নিয়ে আপনার সমীপে কিছু বলার উদ্দেশ্যে হাজির হয়েছি। সারা বাংলার সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত ও বেসরকারি শিক্ষকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ চলছে! আমরা চেয়েছিলাম জাতীয়করণ, উল্টো পাইলাম ৪% কর্তন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শুনতে কি পান আমাদের হৃদয়ের ক্রন্দন?
প্রিয় মমতাময়ী জননী,
আমরা আপনার দেয়া জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভূক্ত। আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু আমরা এমপিওভূক্ত। বেতনের পরিবর্তে আমরা লজ্জাস্কর অনুদানপ্রাপ্ত। আমাদের রাইফেল আছে গুলি নাই! আমরা ভারবাহী, ফলভোগী নই। সরকারি চাকরিজীবীরা মাসের ১ তারিখে বেতন পেলেও আমাদের অনুদান কখন আসবে তার কোন ঠিক নেই। ইএফটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ হয়েও হলো না! সরকারি চাকরিজীবীরা শতভাগ উৎসব ভাতা পেলেও আমরা পাই মাত্র সিঁকিভাগ।
হে মানবতার কান্ডারী,
সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও আমরা আপনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় তা পেয়েছি ২০১৮ সাল থেকে। একইভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে। শিক্ষকের সন্তান আপনা আপনি মানুষ হবে, তাই শিক্ষা ভাতা দেয়া হয় না। শিক্ষক সমাজ বেরসিক, তাই শ্রান্তি বিনোদন ভাতা দুঃস্বপ্ন। বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বদলি পদোন্নতি সোনার হরিণ।
হে বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী,
আমরা আশা করেছিলাম, আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, তাই বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন বৈষম ও শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় আপনি কুণ্ঠাবোধ করবেন না। কোনরূপ বৈষম্য আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আপনার নেতৃত্বাধীন সরকার আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেবেন। শিক্ষা জাতীয়করণ করে সকল বৈষম্যের অবসান ঘটাবেন। কিন্তু আমাদের দাবি মানা তো দুরে থাক ষড়যন্ত্রীদের পরামর্শে উল্টো আমাদের রিযিকে হাত দেয়া হলো। এতে আমরা বিচলিত নই তবে মর্মাহত। কোন ষড়যন্ত্রই আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। ঠকতে যখন শিখেছি আরও ঠকব। কিন্তু শিক্ষকতার আদর্শ থেকে একটুও পিছপা হবো না। আপনার প্রতি অবিচল আস্থা রেখেই আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের দিনেই আপনি বেসরকারি শিক্ষা জাতীকরণের ঘোষণা দিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আমাদের দুর্ভাগ্য তা হয়নি। কিন্তু আমরা আশাহত নই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি পেরেছেন, আপনি পারেন, আপনি পারবেন। ক্ষুদ্র জীবনে আপনাকে স্বচক্ষে দেখেছি ২৯ মিন্টু রোডে, দেখেছি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে, সুধাসদনে, দেখেছি গণভবনে, দেখেছি পল্টনে, পান্থপথে, দেখেছি বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে, দেখেছি আমার নিজ উপজেলা তিতাসের মঞ্চে খুব কাছ থেকে। আপনি দৃঢ়চেতা, সাহসী ও নীলকন্ঠী। আপনার সাহসী সিদ্বান্তেই আজ স্বপ্নের পদ্মাসেতু রূঢ় বাস্তবতা। তাই স্বপ্নের জাল বুনছি, মুজিববর্ষের কলেবর বাড়িয়ে যেহেতু ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে, তাই মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় করার মানসে আপনার আরেকটি সাহসী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তই শিক্ষাক্ষেত্রে এনে দিতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
দেশের পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকের হৃদয় নিংড়ানো শ্লোগান “এবারের সংগ্রাম আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম জাতীয়করণের সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন- বেসরকারি শিক্ষা করতে হবে জাতীয়করণ।” জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা, মোবাঃ ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com