দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত।। দাওয়াই আপনাকেই দিতে হবে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন! স্বাস্থ্যবিধি উধাও সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বোপরি সরকার আগে জীবন পরে জীবিকা- ওবায়দুল কাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে।। পিছিয়ে যেতে পারে আরো দু’মাস লকডাউনে নতুন ৬ শর্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারে মতো শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী মার্কেট ও শপিংমলে ভিড়ের দৃশ্য দেখে মনে হয় না দেশে করোনা মহামারি চলছে! খাল খনন প্রকল্পের নামে নয়-ছয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবধান বাণী
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (ফাইল ফটো)

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার ।। এ পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণি যারা হাসতে পারে। আর হাসি হচ্ছে মনের খোরাক। দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে হাসির কোন বিকল্প নেই। কিন্তু দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত শিক্ষকের মুখে আজ হাসি নেই। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে। সকল সরকারি চাকরিজীবী এমনকি সরকারি স্কুল–কলেজের শিক্ষকরা শতভাগ উৎসব ভাতা পেলেও এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছেন সেই ১৭ বছর আগে গৃহীত সিদ্ধান্ত মেতাবেক ২৫%! যা রীতিমত বিষ্ময়কর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মাস শেষে ১ তারিখে বেতন পেলেও আমরা পাই অনুদান। তাও আবার কখন পাবো নির্ধারিত কোন সময় নেই। লজ্জাস্কর হলেও সত্য যে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি সকলেরই বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০/- টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০/- টাকা। সন্তানের শিক্ষা ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা কখনই দেয়া হয় না। বদলি সেতো সোনার হরিণ। চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ। আবার চাকরি নির্ভর করে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি কিংবা গভর্ণিং বডির ইচ্ছে অনিচ্ছার উপর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ থেকে এক দশক আগে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ছিল না বিধায় আমরা সকল বৈষম্যকে মাথা পেতে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আপনার গতিশীল নেতৃত্বে রাষ্ট্র অনেক দুর এগিয়েছে। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ইতমধ্যেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশের তকমা অর্জন করেছি। প্রতিষ্ঠানের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিয়ে জাতীয়করণ করলে সরকারের ব্যয় তেমন বৃদ্ধি পাবে না। বরং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যয় হ্রাস পাবে। যে দেশে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয় সেখানে সামান্য ক’টা টাকার জন্য মানুষ গড়ার কারিগররা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হোক কিংবা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হোক তা নিশ্চয়ই আপনি চান না। আপনি বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। শুধু বদলায়নি ১৭ বছর আগে দেয় এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের ২৫% উৎসব ভাতা। জানি না কোন অদৃশ্য কারণে এমনটি হচ্ছে। তাই আর নয় সিঁকি আধুলি, এবার শতভাগ উৎসব ভাতা দিয়ে ঈদের আনন্দটা একটু বাড়িয়ে দিন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হাসলে বাংলাদেশ হাসে, শুধু আমরাই ব্যতিক্রম। চাইলেও হাসতে পারি না। চোখের জল গাল বেয়ে অঝর ধারায় পড়তে থাকে। আপনার পাহাড়সম সাফল্য নিয়ে “খ্যাতির চূড়ায় আসীন শেখ হাসিনা” নামে আমার নিজের লেখা একটি গ্রন্থ ইতমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। তাই আপনার একজন সুহৃদ হিসেবেই বলছি, প্লিজ আমাদের মুখেও হাসি ফোঁটান।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন সকল স্তরের বেসরকারি শিক্ষকরা চলমান করোনা মহামারিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা এখন জাতীয়করণ ফোবিয়ায় ভূগছেন। তাদের একটাই ভাবনা জাতীয়করণ চাই চাই। বলার অপেক্ষা রাখে না জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি এমপিওভূক্ত শিক্ষক আপনার বৃহৎ পরিবারভূক্ত। আমাদের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা হতাশার অথৈ সাগরে নিমজ্জিত। আমাদের হৃদয়ের হাহাকার ও তপ্ত হৃদয়ের কান্নায় আকাশ বাতাস কেঁপে উঠছে। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব। অবাক হচ্ছি পরিবারের কর্তা হিসেবে আপনি মনে হয় এ বিষয়ে অবগত হয়েও সন্তর্পণে এড়িয়ে যাচ্ছেন। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে গ্রামীণ ভাষায় একটি কথা বলছি, “উঠোন তাতলে পিড়াও তাতে।” সঙ্গত কারণেই আমরা ভালো থাকলে পরিবারের কর্তা হিসেবে আপনিও ভালো থাকবেন। আর আমাদের দুরাবস্থায় রেখে ভালো থাকা কঠিন।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আমরা মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষকতা সেবাব্রত, মহান পেশা এসবই ঠিক আছে। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে আমরাও মানুষ। আমাদেরকেও সমাজে বসবাস করতে হয়। স্বাদ আহলাদ আমাদের না থাকলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তো আছে। একটা সময় ছিল রাষ্ট্রের সক্ষমতা ছিল না। তখন আমাদের কিঞ্চিৎ প্রাপ্তিতেও আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের সক্ষমতা বেড়েছে, তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা কেঁটেছে। এখন ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হলে হতাশ না হয়ে উপায় কী? তাই পরিবারের অভিভাবক হিসেবে একটা কিছু করুন। আমরা সবাই আপনা পানে তাকিয়ে আছি। দেশের সকল এমপিওভূক্ত শিক্ষক জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। তাদের এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দাওয়াই আপনাকেই দিতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি চাইলে পারবেন। কেননা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব দুটোই আপনার হাতে। আপনি একদিকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, অপরদিকে শাসকদল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনি খুবই আস্থাভাজন। তাই প্রত্যাশা করছি একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষকের সন্তান হিসেবে আপনি শীঘ্রই শিক্ষকদের ভাগ্যেন্নয়নে এবং টেকসই শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষা জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষকদের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি উদ্যোগ নিলে জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিবেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীরকাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুমিল্লা, ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com