দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা হতাশ–করছে হাহুতাশ!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা হতাশ–করছে হাহুতাশ!

—— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার

দেশের আটানব্বই শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা বিস্তরণে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক। কিন্তু তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ চলছে। তাঁরা সবাই চাওয়া পাওয়ার ফোবিয়ায় আক্রান্ত। শিক্ষক নেতারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত, সাধারণ শিক্ষকরা বিভ্রান্ত। একেক গ্রুপের দাবি একেক রকম। কেউ চায় জাতীয়করণ, কেউ চায় বদলি, কেউ বাড়িভাড়া, কেউ উচ্চতর স্কেল, কেউ বা শতভাগ ঈদ বোনাস। আবার কেউ অবসর ও কল্যাণের নামে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বাতিল।

গোটা জাতি জানে বেসরকারি শিক্ষকরা সরকার থেকে শতভাগ বেতন পায়। কিন্তু বেতনের বদলে স্বীয় বেতন স্কেলের চেয়ে কম অনুদান পায় তা ক’জনই বা জানে। সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও শিক্ষকরা পেয়েছে ২০১৮ সালে। তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে। এখন আবার বোঝার উপর শাকের আটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে  অতিরিক্ত ৪% কর্তনের মাধ্যমে। পৃথিবীর কোথাও ২৫% উৎসব ভাতার রেওয়াজ না থাকলেও বেসরকারি শিক্ষকরা পাচ্ছেন। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার কথা বলতেও লজ্জা লাগে। বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতার তো কোন বালাই নেই। নিজের সঞ্চিত অবসর কল্যাণের টাকা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই। বদলি সেতো সোনার হরিণ। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা এখন হতাশায় ভূগছে। তারা কি চায় এটাও ঠিক করতে পারছেন না! হাহুতাশ করে মূল্যবান সময় পার করছেন। এতে শুধু শিক্ষকরাই নয়, সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চাওয়া-পাওয়ার এ ফোবিয়া আক্রান্ত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন বোধ করছি। জাতির সংকটময় মুহুর্তে আপনাকে দেখেছি কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে। শিক্ষাবান্ধব তকমাটিও আপনাকেই মানায়। তাই বেসরকারি শিক্ষকদের এ দুঃসময়ে আপনাকেই ত্রাণকর্তা হিসেবে কাছে পাবে এ প্রত্যাশা হতাশাগ্রস্থ শিক্ষকদের।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, “আপনি সবই জানেন এবং বুঝেন। তাই প্রত্যাশা করছি ২০২০ সাল হউক বেসরকারি শিক্ষকদের মুক্তির সোপান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে শিক্ষকরা উপহার হিসেবে পেতে চায় বহুল প্রত্যাশিত জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা। মুজিববর্ষ বয়ে আনুক আলোকবর্ষ।”

লেখক,
প্রধান শিক্ষক
পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়
মুরাদনগর, কুমিল্লা।
০১৮১৮৬৬৪০৩৪
E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com