দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে খোলাচিঠি।। রাইফেল যখন দিয়েছেন গুলিটাও দিয়ে দিন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে খোলাচিঠি।। রাইফেল যখন দিয়েছেন গুলিটাও দিয়ে দিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন। আপনাকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খাটো করতে চাই না। আপনি খ্যাতির চূড়ায় আসীন। আপনার অর্জন পাহাড়সম। আপনার ঋণ বাঙালি জাতি কি দিয়ে শোধ করবে তা আমার জানা নেই। সারা বাংলার ৫ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারির মাঝে এ উপলব্ধি আজ মর্মে মর্মে ধ্বনিত হচ্ছে। তাদের ভালোবাসায় আজ আপনি সিক্ত। আপনি জাতির জনকের কন্যা। তাই জনগণের মনের আকুতি শুনতে পান, বুঝতে পারেন মনের ভাষা। তাই ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষকদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে ৫% ইনক্রিমেন্ট ও ২০% বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন । আপনার এ ঘোষণায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের পরিবারে বইয়ে দিয়েছেন আনন্দের বন্যা।
হে বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দেশরত্ন। আপনি পেরেছেন, আপনি পারেন, অঅপনিই পারবেন দেশকে এগিয়ে নিতে। দেশকে উন্নত বিশ্বে পরিনত করার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। আপনি শিক্ষক বান্ধব, শিক্ষকদের দুঃখ দুর্দশায় আপনি মর্মাহত। আপনার আন্তরিকতায় আমরা জাতীয় স্কেলের অন্তর্ভূক্ত হয়েছি। আপনার সুচিন্তিত উপলব্ধির কারণেই আমরা ৫% ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতা পেয়েছি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় রাজপথের আন্দোলন ছাড়া কোন দাবীই আদায় হয়নি। আপনি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই আমাদের অভিভাবক। আপনার কাছে আমাদের আবদারও বেশি। আমরা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিরা গন্তব্যের একেবারেই দারপ্রান্তে। আমরা ইতমধ্যে আপনার কাছ থেকে রাইফেল পেয়েছি। তাই আকুল আবেদন শুধু গুলিটা দিন। কথা দিচ্ছি লক্ষ ভেদ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আপনার প্রত্যাশিত আধুনিক শিক্ষা বাস্তবায়নে আমরা অগ্রসৈনিক হিসেবে নিজেদের উৎসর্গ করব। মমতাময়ী জননীর কাছে আমাদের শেষ আবদার মাধ্যমিক শিক্ষার জাতীয়করণ।
হে বিশ্বশান্তি ও মানবতার অগ্রদুত,
আপনি বিশ্বের বিষ্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। আপনি বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মধ্যম আয়ের দেশের তকমা অর্জন করেছে। প্রত্যাশার জাল বুনছি এজন্যে যে, আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত স্বত্ত্বেও আপনার দুরদর্শী ও সাহসী ভূমিকায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রায় ১লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু বৃহদাকার ফ্লাইওভার। নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে। মোদ্দাকথা আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়েছে তা রীতিমত ঈষর্ণীয়। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে হেন কোন শ্রেণিপেশার মানুষ নেই যারা আপনার দুরদর্শী ও সময়োচিত সিদ্বান্তে সরাসির উপকৃত হয়নি। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের তো পোয়াবারো। দফায় দফায় বেতন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি। স্বল্প সুদে ৭৫ লক্ষ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। একসঙ্গে ২৬ হাজার রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ আপনার অনন্য কীর্তি। যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে একই সাথে ৩৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। আপনি জাতির জনকের কন্যা। আপনিও পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন।
হে বিশ্ববরেণ্য রাষ্ট্রনায়ক,
আপনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা ও ভরসার স্থল, আপনি দীর্ঘ ১৫ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দুর এগিয়ে। বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশকে সমীহ করে। আপনি নিজেও স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতাবলে খ্যাতির চূড়ায় আসীন। অথচ আপনারই আস্থাভাজন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ অর্ধাহারে, অনাহারে কিংবা উৎসব-পার্বণে মলিনমুখে থাকবে তা নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত নয়। তাই আমরা যে মহানব্রত নিয়ে এ সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করেছি তা যেন স্বার্থক ও সফল হয় তার কাণ্ডারী একমাত্র আপনিই হতে পারেন। আপনার একটি সাহসী সিদ্বান্তই বদলে যেতে পারে আমাদের ভাগ্যের চাঁকা। শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধিত হতে পারে বৈপ্লবিক উন্নয়ন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জাতির জনকের রক্ত যাঁর শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে প্রবাহিত, তিনি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে একদিন না একদিন জাতীয়করণ করবেনই। আশার কথা যে, আপনি ইতমধ্যেই দেশের বিভন্ন উপজেলায় কিছু প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। এজন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই। লক্ষ যেহতু শিক্ষার মানোন্নয়ন তাই বিচ্ছন্নভাবে নয়, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষকের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেবেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে রাখবেন এ প্রত্যাশায় এ কিঞ্চিৎ আখ্যায়িকার ইতি টানছি।
ইতি
আপনারই গুণমুগ্ধ
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা, প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুমিল্লা। E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com