দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
বেসরকারি শিক্ষা।। জাতীয়করণেই চূড়ান্ত সমাধান

বেসরকারি শিক্ষা।। জাতীয়করণেই চূড়ান্ত সমাধান

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ খাদের কিনারে। একটু ধাক্কা খেলেই তলিয়ে যেতে পারে অতল গহ্বরে। শিক্ষাক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিরাজমান পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার বেসরকারি শিক্ষকদের হতাশাগ্রস্থতা, শ্রেণিকক্ষে দায়সারা শিখন-শিক্ষণ মহড়া, রহস্যাবৃত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে অনৈতিকতার মহোৎসব, ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, সংসারের অপ্রতুল চাহিদা মেটাতে শিক্ষকদের প্রাইভেট-কোচিং এর প্রতি অত্যাধিক আসক্তি, পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানোর অশুভ প্রতিযোগিতায় শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজ করছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা।

বিবেকের দংশনে আজ সত্য প্রকাশে ব্রতী হই। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য রেখে এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অসম্ভব। দেশের ৯৮ ভাগ শিক্ষা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এবং শিক্ষকরা সুবিধাবঞ্চিত। এবার আসা যাক আমরা কেন হতাশায় নিমজ্জিত? গোটা জাতি জানে আমরা সরকার থেকে শতভাগ বেতন পাই। কিন্তু বেতনের বদলে স্বীয় বেতন স্কেলের চেয়ে কম অনুদান পাই তা ক’জনই বা জানে। সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও আমরা পেয়েছি ২০১৮ সালে। তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে। এখন আবার বোঝার উপর শাকের আটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে  অতিরিক্ত ৪% কর্তনের মাধ্যমে। পৃথিবীর কোথাও ২৫% উৎসব ভাতার রেওয়াজ না থাকলেও আমারা পাচ্ছি। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার কথা বলতেও লজ্জা লাগে। বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতার তো কোন বালাই নেই। নিজের সঞ্চিত অবসর কল্যাণের টাকা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই। বদলি সেতো সোনার হরিণ। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ!

এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজপথে অন্দোলন করে আসছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় ৫% ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতা পেলেও শিক্ষকরা তাদের প্রাণের দাবি বদলি, উচ্চতর স্কেল, কাঙ্খিত বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, কল্যাণ ও অবসর ভাতার নামে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বাতিল সর্বোপরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত আছে। বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু আমি মনে করি, জাতীয়করণেই সব সমস্যার সমাধান নিহিত আছে। প্রতিষ্ঠান সরকারি হলে বদলি, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, উৎসবভাতা, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদির জন্য আর কখনও আন্দোলন করতে হবে না।

বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রাম ছিল বৈষম্য ও শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাই তিনি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনওি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে একযোগে সকল রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। প্রত্যাশা করছি শিক্ষার বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অচিরেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাস্তর জাতীয়করণ করে দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনি পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন। ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ তার বাস্তব উদাহরণ। হে বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী এখনই সময় এ মহতি উদ্যোগটি বাস্তবায়নের।
লেখক,
প্রধান শিক্ষক
পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়
মুরাদনগর, কুমিল্লা।
০১৮১৮৬৬৪০৩৪
E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com