দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়করণ আমার অধিকার — মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বর্তমান সংসদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারাগারের রোজনামচা ও কাউয়া সমাচার সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।। প্রয়োজন লেজুরবৃত্তি পরিহার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জীবন-জীবিকা মখোমুখি! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।। আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই মানুষ গড়ার কারিগর বেসরকারি শিক্ষকরা! বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন
বেসরকারি শিক্ষকরা মনে হয় জাতির গলার কাঁটা

বেসরকারি শিক্ষকরা মনে হয় জাতির গলার কাঁটা

—— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাপ্য সুবিধাদি পেতে তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকতে হয় সরকারের করুনার ওপর। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। ৫% ইনক্রিমেন্ট আটকিয়ে ছিল দীর্ঘ তিন বছর। সরকারি চাকুরিজীবীরা ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা পেয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে। বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ঈদ বোনাস ২৫% যা শুধু হাস্যকরই নয় অমানবিকও বটে। আগে বেতনের সরকারি অংশ বলা হলেও এক শ্রেণির চতুর আমলা নতুন শব্দচয়ন করে এর নাম দিয়েছেন অনুদান সহায়তা। সরকার স্বীকৃত বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে চাকরি করে বেতনের নামে অনুদান সহায়তা কেন? মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদেরকে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার যৌক্তিক কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না। বেসরকারি শিক্ষকদের নিকট থেকে প্রতিমাসে বেতনের ৪% অবসর সুবিধা বাবদ এবং ২% কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কেটে নেয়া হলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় প্রাপ্য সুবিধা পেতে। অনেকে মৃত্যুর আগে এ সুবিধা ভোগ করে যেতে পারেন নি! বর্তমানে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৭৫ হজার। বিষ্ময়কর ব্যাপার, এখন ৪% অারও অতিরিক্ত কর্তনের পরিপত্র জারি করে বোঝার উপর শাকের অাটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার গুণগত মানের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। তাই বেসরকারি শিক্ষকদের গলার কাঁটা ভাবার কোন সুযোগ নেই। তাহলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসুরি গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ জাতীয়করণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কতিপয় প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে সার্বিক সুফল অাশা করা দুরূহ। বাস্তবতার নিরিখে বলতে চাই, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ভঙ্গুর অর্থনীতি স্বত্তেও বঙ্গবন্ধু একসাথে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন যা এখনও গোটা জাতির নিকট অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। পিতার পদান্ক অনুস্মরণ করে আপনিও ২৬ হাজার রেজিঃ ও কমিউনিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষায় এনেছেন ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হতে বিশ্ববাসীর নিকট উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন। আাপনি দাতা সংস্থাগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হজার কোটি টাকা (নিজস্ব অর্থায়নে) ব্যয় করে স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ করছেন। আপনার উদ্যোগেই প্রায় ১লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে। আপনি এখন বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ। প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক – কর্মচারি আমার মতো আাপনার দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছে। আাপনার চিন্তাপ্রসূত একটি সিদ্বান্ত ঘুরিয়ে দিতে পারে বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্যের চাঁকা। তাই জাতির জনকের কন্যার নিকট আামাদের করুণ আকুতি অচিরেই জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে ভুক্তভোগী বেসরকারি শিক্ষকদের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিবেন এবং প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করবেন।

লেখকঃ
প্রধান শিক্ষক
পীরকাশিমপুর অার এন উচ্চ বিদ্যালয়
সম্পাদক, সাপ্তাহিক কালপুরুষ
E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com