দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা।। সভাপতি তুষার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ৫ অক্টোবর শুভদিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন কমেছে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে শনাক্তের হার! শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন।। মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ দুঃসংবাদের ভিড়ে সুসংবাদ।। ভ্যাকসিন থেকে কেউ বাদ যাবে না-প্রধানমন্ত্রী বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার ২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন! বঙ্গবন্ধু পরিষদ তিতাস উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা ও মাস্ক বিতরণ শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!
বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা।। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গোটাবিশ্ব এখন মৃত্যুপূরী। বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশেই করোনার নিষ্ঠুর থাবা। বাংলাদেশে এখন চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডবলীলা। কোথাও কোন ভালো খবর নেই। প্রিন্টিং ও ইলেকট্রণিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার যেদিকে চোখ রাখি শুধু আক্রান্ত আর মৃত্যু সংবাদ। ভালো সংবাদ যেন সোনার হরিণ। ভালো খবরের জন্য মানুষ আজ তৃষ্ণার্ত। করোনার হিংস্র থাবায় অচল জীবনজীবিকা ও অর্থনীতির চাকা, বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি, চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দুর্দশার অন্ত নেই।
করোনা মহামারি হতে দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে সরকারকে। এ লক্ষে হাসপাতাল শয্যা, আইসিউ, অক্সিজেন ইত্যাদির ব্যবস্থা করলে মানুষের প্রাণ বাঁচবে। দোকানপাট, শপিংমল, শিল্পকারখানা খোলা রাখলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। কিন্তু শিক্ষা? জাতিকে বাঁচাতে হলে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। করোনার হিংস্র থাবায় যেমন অচল জীবন জীবিকা ও অর্থনীতির চাকা, তেমনি বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দুর্দশার অন্ত নেই। একদিন করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে যাবে, জনজীবন আবার স্বাভাবিক হবে, অর্থনীতির চাকাও সচল হবে। কিন্তু শিক্ষার যে অপুরণীয় ক্ষতি হলো তার রেশ থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
করোনা মহামারির কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছে শিক্ষা প্রশাসন। একদিকে ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়ার আয়োজন চলছে, অন্যদিকে পরীক্ষার বিকল্প নিয়েও ভাবছেন সংশ্নিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। এমনি এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ১৫ জুলাই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী নভেম্বরের ২য় সপ্তাহে এসএসসি ও ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিতি হবে।। শিক্ষামন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিষয় ও নম্বর কমিয়ে দু’টি পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ আবশ্যিক বিষয়গুলোর কোন পরীক্ষা হবে না। আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হবে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার বিষয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে। শুধুমাত্র গ্রুপভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার) অর্থ্যাৎ নৈর্বাচনিক ৩টি বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী উভয় পদ্ধতিতে অর্ধেক নম্বর ও সময়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি পরীক্ষা নেয়া কোনক্রমেই সম্ভব না হয় তাহলে অ্যাসাইনমেন্ট ও বিষয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। অথবা শুধু বিষয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমেও মূল্যায়ন হতে পারে। সেটি পরে জানানো হবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলা বা সরাসরি শ্রেণি পাঠদান শুরু হবে বলে মনে হচ্ছ না। ফলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে এখনও সংশয় কাঁটছে না। আগামী আগস্টের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব না হলে সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে। দফায় দফায় তারিখ দিয়ে এবং প্রস্তুতি নিয়েও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ আরেক দফা ছুটি বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাই ছুটির মেয়াদ যে আরেক দফা বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, মে-জুন মাসের মধ্যে করোনার সংক্রমণ কমে যাবে এবং স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিন ক্লাস করিয়ে এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ জন্য পৃথক দুটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। তাই এসএসসির জন্য ১২ সপ্তাহে ২৪টি এবং এইচএসসির জন্য ৩০ টি এ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে চলে গেছে শিক্ষাবর্ষের ৭ মাস। আগস্ট মাসের মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব না হলে ২০২১ সালের জেএসসি/জেডিসি/পিইসি পরীক্ষা নেয়াও অসম্ভব হতে পারে। রূঢ় বাস্তবতা হলো ২০২১ সালের জেএসসি/জেডিসি/পিইসি পরীক্ষার্থীরা একদিনের জন্যও সরাসরি শ্রেণিপাঠদান পায়নি। পূর্ববর্তী শ্রেণিতেও তারা অটোপ্রমোশন পেয়েছে। ২০২১ সালে যারা ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে তারা নিজের ক্লাসরুম চিনেই না। একইভাবে ২০২১ সালে যেসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়েছে তারাও নিজের কলেজ চিনে কিনা সন্দেহ রয়েছে! সরাসরি শ্রেণি পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় সরকার তাই পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে এ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিখনফল মূল্যায়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম ও এ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন কতটুকু সফল হবে এ টানপোড়েনে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে এসএসসি ও এইচএসসির প্রায় ৪৪ লাখ পরীক্ষার্থীসহ দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চলেছে। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষায় একটি গতি এসেছিল। শহর এবং গ্রামের মধ্যে শিক্ষায় ব্যবধান কমে এসেছিল। সেটি এখন প্রচন্ড হোঁচট খাবে। শ্রমজীবী অনেক পরিবারের সন্তানদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা আছে। বেড়ে যেতে পারে বাল্যবিবাহের হার। আরও নানা সমস্যা হবে যা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমখি করে তুলবে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করে বাস্তবতার নিরিখে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে শিক্ষাপঞ্জিকে।
করোনায় শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং সুদূরপ্রসারী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা চরম নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। তাই সার্বিক শিক্ষা পুনরুদ্ধারে সুচিন্তিত পরিকল্পনা নেয়া খুবই জরুরি।
কীভাবে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়ে সব উন্নয়নশীল দেশই হিমশিম খাচ্ছে। এটি আমাদের জন্যও বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশে মূল্যায়ন হয় শ্রেণিকক্ষে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু করোনার কারণে সব থমকে গেছে। এখন এ ধকল কাটিয়ে উঠতে উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব প্রয়োজন ও বাস্তবতার নিরিখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের জন্য অনলাইনে ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে বিকল্প পাঠদান পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব শিক্ষার্থীর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিজস্ব কক্ষপথ থেকে অনেকটাই বিচ্যুত। কবে আবার দৈনন্দিন শিখন-শিক্ষণ কর্মসূচিতে ফিরিবে, বলা কঠিন। শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও তা এখন সর্বজনবিধিত নয়। যার স্মার্টফোন আছে, ইন্টারনেট সংযোগ আছে, সর্বোপরি ইন্টারনেট-সংযুক্ত এলাকায় যে শিক্ষার্থীর বসবাস, তার জন্যই শিক্ষা অধিকার। ডিজিটাল সুবিধায় তারতম্যের জন্য গ্রাম ও শহর, সরকারি বিদ্যালয় ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভেও হেরফের পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৈষম্যের যাঁতাকলে এখন শিক্ষার্থীরাও।
সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মাঝে বিরাজমান বৈসম্যের কারণে এমনিতেই শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজ করছে নাজুক পরিস্থিতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা করোনাকালে প্রাপ্য সুবিধাদি ষোল আনা পেলেও বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, স্বল্প বেতনভোগী বেসরকারি শিক্ষকরা সাধারণত প্রাইভেট টিউশনী ও কোচিংয়ের এর উপর নির্ভর করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে থাকেন। যা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে কিছু বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বন্ধ থাকায় এখন এটাও নেই বললেই চলে। বিশেষ করে নন-এমপিও এবং কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকরা আছেন চরম বিপাকে। মোদ্দাকথা বেসরকারি শিক্ষকরা এখন মোটেও ভালো নেই। তারা না পারছে কইতে না পারছে সইতে। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। শিক্ষা ও শিক্ষককে বাঁচাতে না পারলে জাতিকে কঠিন মাশুল গুণতে হবে।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com