দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়করণ আমার অধিকার — মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বর্তমান সংসদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারাগারের রোজনামচা ও কাউয়া সমাচার সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।। প্রয়োজন লেজুরবৃত্তি পরিহার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জীবন-জীবিকা মখোমুখি! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।। আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই মানুষ গড়ার কারিগর বেসরকারি শিক্ষকরা! বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন
বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন

বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা।। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি পেশাজীবী সংগঠন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মিরপুর সিদ্ধান্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি এমপওিভূক্ত এবং ননএমপিও শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায় এবং শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষা বিস্তরণ এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এ সংগঠনের প্রতিটি সদস্যই নিবেদিতপ্রাণ। বাশিস এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। তার মূল লক্ষ মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ আদায়। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, এতে একদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষাদর্শন বাস্তবায়ন হবে অন্যদিকে শিক্ষকদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এ লক্ষে তিনি অহর্ণিশি কাজ করে যাচ্ছেন।
নজরুল ইসলাম রনির সাথে আমার পরিচয় খুব একটা বেশি দিনের নয়। এমপিওভূক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে জাতীয়করণ আমার স্বপ্ন। কারণ সরকার আমাদের রাইফেল দিয়েছে গুলি দেয়নি। আমরা ভারবাহী ফলভোগী নই। কেননা আমরা সরকারি বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত, কিন্তু এমপিওভূক্ত। আমরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভূক্ত কিন্তু বেতনের পরিবর্তে অনুদানপ্রাপ্ত। আমরা আমাদের চেয়েও কম বেতন স্কেলের কর্মকর্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমাদের বেতন ও প্রাপ্ত সুবিধাদির ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারির মধ্যে বৈষম পাহাড়সম। এসকল বিষয়ে লেখালেখির বদৌলতে সম্ভবত বছর দু’য়েক আগে একদিন তিনি আমাকে টেলিফোন করে কুশলাদি জানতে চান। পাশাপাশি জাতীয়করণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। জাতীয়করণ আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষে লেখালেখির পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য নজরুল ইসলাম রনির আহবানে অবচেতন মনেই সাড়া দেই। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরামর্শ করতেন এবং এখনও করেন। যতদুর দেখেছি তার একটিই চাওয়া জাতীয়করণ আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপদান। এ লক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্মারকলিপি প্রদান, জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ অনুষ্ঠান, এমনকি জাতীয়করণের লক্ষে একটি প্রস্তাবিত বাজেট বইও প্রণয়ন করেছেন। বাহ্যিকভাবে যতটুকু অবলোকন করেছি জাতীয়করণের প্রশ্নে তিনি আপোষহীন।
অতিসম্প্রতি নজরুল ইসলাম রনির বিরূদ্ধে কিছু ষড়যন্ত্রের আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে তার বিরূদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে কল্পকাহিনী সাজিয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ফেসবুক পেজে এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ শিক্ষকদের ধারণা জাতীয়করণ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই নজরুল ইসলাম রনির বিরূদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ প্রসংগে নজরুল ইসলাম রনি বলেন, অপপ্রচার করে আমাকে জাতীয়করণের আন্দোলন থেকে একচুলও নড়ানো যাবে না।
শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণে ও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে সোচ্চার বলেই আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। অতীতেও এমনটি হয়েছিল। মহামান্য হাইকোর্ট আমার পক্ষে ছিল। অতীতের রুপকথা আর কাল্পনিক গল্প এখন সামনে আনার যত সব অপচেষ্টা চলছে। এসবের কোন ভিত্তি নেই। নজরুল ইসলাম রনি আরও বলেন, মুজিববর্ষেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। ২৫% উৎসব ভাতা দীর্ঘ ১৭ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ উৎসব ভাতা পান ৫০% কিন্তু শিক্ষকগণ ২৫% উৎসব ভাতা পান, এটি কেমন বৈষম্য। সবাইর উৎসব ভাতা হবে শতভাগ। অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক কিন্তু কেউ সঠিক জিনিসটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করছে না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। প্রত্যাশা করছি আসন্ন ঈদুল ফিতরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান করে আমাদেরকে কৃতার্থ করবেন।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতির পিতার রক্ত যাঁর শিরা উপশিরায় প্রবাহিত, তিনি একদিন না একদিন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করবেনই। ইতমধ্যে তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ জাতীয়করণ করেছেন। প্রত্যাশা করছি মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার মানসে অচিরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com