দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
বাশিসের সংবাদ সম্মেলন।। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ

বাশিসের সংবাদ সম্মেলন।। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ

ছবিঃ কালপুরুষ

কালপুরুষ রিপোর্ট।।মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখার মানসে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) এর উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশ সফল করার লক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস।
২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলার অবিসংবাদিত নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের স্বাধীনতার রূপকার ও স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ছিল বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা। পঁচাত্তরের নির্মম হত্যাকাণ্ড না ঘটলে বহু আগেই শিক্ষা জাতীয়করণ হতো।
লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম রনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান পাহাড়সম বৈষম্য নিরসনে শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের প্রত্যাশা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ ঘোষণা দেবে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে দাবিটি আরও জোড়ালো হয়ে উঠে। কিন্তু ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করলেও জাতীয়করণের কোন ঈঙ্গিত না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকরা বেশ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আমরা মনে করি হতাশার কোন কারণ নেই। বাজেটে থাক বা না থাক শিক্ষা জাতীয়করণে সরকারের আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। জাতির মেরুদন্ড ঠিক রাখার দায়িত্ব সাধারণত রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। দাবিটা শিক্ষকদের হলেও প্রয়োজনটা যে রাষ্ট্রের এতেও কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সর্বোপরি সরকার। কিন্ত এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরকার ইতমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ জাতীয়করণ করেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে জাতীয়করণ করে তেমন কোন সুফল পাওয়া যাবে না। একটু গভীরে চিন্তা করলে দেখা যায় শিক্ষা জাতীয়করণে লাভ বহুমাত্রিক। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে জাতীয়করণে বেশ সুফল পাওয়া যাবে। যেমন-
১. বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য বিরাজমান। সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও আমরা বেসরকারি শিক্ষকরা পেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদে ২০১৮ সাল থেকে। তাও আবার কোনরকম বকেয়া ছাড়াই। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও। মরার উপর খাড়ার ঘা! এ আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই অতিরিক্ত ৪% কেটে নেয়া হচ্ছে বাড়তি কোন সুবিধা প্রদান ব্যাতিরেকেই। অবিশ্বাস হলেও সত্য যে, বেসরকারি শিক্ষকরা মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। তাদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা একেবারেই নেই। আমাদের চাকরিতে কোন বদলী নেই। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এদেশের ভূখানাঙ্গা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো। তাদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি লড়াই করেছেন, জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় জেলে অন্তরীণ থেকেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন একটি বৈষম্যহীন ও সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
২. বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক স্তরে পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার সন্তোষজনক হলেও শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নাতীত নয়। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতায় আগ্রহী হবে এবং নিঃসন্দেহে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
৩. দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে সরকারি স্কুল-কলেজের সংখ্যা অতি নগণ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ সুবিধা বেশি থাকলেও সাধারণ জনগণের ছেলেমেয়েরা ভর্তির সুযোগ পায় না বললেই চলে। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানেরা স্বল্প খরচে সরকারি স্কুল কলেজে লেখাপড়া করার সুযোগ পেলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা উচ্চহারে বেতন দিয়ে বেসরকারি স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যয় অনেকাংশে হ্র্রাস পাবে এবং ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
৪. সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। কিন্তু শিক্ষা বেসরকারি রেখে এ লক্ষমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় লক্ষমাত্রা অর্জনে শিক্ষা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই।
উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলো বিবেচনায় সার্বিকভাবে বলা যায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই অনতিবিলম্বে শিক্ষা জাতীয়করণ করা উচিত। আমরা মনে করি সে মাহেন্দ্রক্ষণ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
নজরুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ছাড়া এদেশে কোন কিছুই হয় না। সবকিছু আপনাকেই করতে হয়। কথাটি আপনার মনঃপুত না হলেও দেশবাসীর মনের কথা এটি। বেসরকারি শিক্ষকদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তিও আপনাকে ছাডা হবে না। তাই আপনার সুহৃদ হিসেবে আমাদের মিনতি ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে তাদের চোখের পানি মুছে দিন। প্রত্যাশা করছি আপনার ঐতিহাসিক আরও একটি সিদ্বান্ত জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দুর। আপনি পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন। আপনার কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আপনি নিজেও খ্যাতির চূড়ায় আসীন।
বাসিসের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিবাদর্শে অনুপ্রাণিত শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) এর উদ্যোগে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পূরণের আশায় এবং মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখার মানসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রক্ত যাঁর শিরা উপশিরায় প্রবাহিত তিনি সকল বৈষম্যের অবসান কল্পে একদিন না একদিন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক এখন জাতীয়করণ ঘোষণার আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত। একজন শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার শিক্ষকরা আপনা পানে তাকিয়ে আছে। জাতির সংকটময় মুহুর্তে আপনাকে দেখেছি কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে। শিক্ষাবান্ধব তকমাটিও আপনাকেই মানায়। তাই প্রত্যাশা করছি, আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখবেন। মুজিববর্ষই হউক বেসরকারি শিক্ষকদের মুক্তির সোপান। মুজিববর্ষ বয়ে আনুক আলোকবর্ষ।
বাশিসের মহাসচিব মেসবাহুল ইসলাম প্রিন্সের সঞ্চালনায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাশিসের প্রধান উপদেষ্টা সাইদুল হোসেন সাহেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ ফজর আলী, মোঃ বজলুর রহমান, শাহনাজ সুলতানাসহ বাশিসের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com