দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয়করণ আমার অধিকার — মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার বর্তমান সংসদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারাগারের রোজনামচা ও কাউয়া সমাচার সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবার।। প্রয়োজন লেজুরবৃত্তি পরিহার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জীবন-জীবিকা মখোমুখি! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকের মুখে হাসি নেই।। অনেকেই নিরবে চোখের জল ফেলছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।। আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই মানুষ গড়ার কারিগর বেসরকারি শিক্ষকরা! বাশিস এবং নজরুল ইসলাম রনি জাতীয়করণ প্রশ্নে আপোষহীন
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি (ফাইল ফটো)

কালপুরুষ প্রতিবেদন ॥ করোনা মহামারির মধ্যে ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে পারস্পারিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সহযোগিতামূলক ঐকমত্য রয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে দুই দেশই নিজ নিজ অর্থনীতি আরও সংহত করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতাকে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। অপরদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে ‘এক নম্বর পিলার’ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার এ নীতি দায়িত্ব নেয়ার প্রথমদিন থেকেই আমার অগ্রাধিকারে রয়েছে।
১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বৈঠকে যোগ দেন। তাদের এ বৈঠকের আগে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিসহ সাতটি বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে সাতটি কাঠামো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ভার্চুয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব চুক্তি স্বাক্ষর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এ ভার্চুয়াল বৈঠকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে রেল করিডোরেরও সুইচ টিপে উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ওই রেলপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের পোস্টার ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি স্মারক ডাক টিকেট যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু-বাপু (মহাত্মা গান্ধী) ডিজিটাল এক্সিবিশনও উদ্বোধন করেন দুই দেশের সরকার প্রধান।
চলতি বছরের মার্চে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তবে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে মূল আয়োজন বাতিল হওয়ায় তার আর আসা হয়নি। আগামী বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিজয়ের মাসে এ বৈঠক করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও ২০১৯ সালের অক্টোবরে দিল্লীর হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে তার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ অতিক্রম করছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করছে। তার কয়েক মাস আগে, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশে উদ্যাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, বাংলাদেশে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকেট অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগ একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করা হবে। এ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানমালা যৌথভাবে উদ্যাপনের জন্য আগ্রহী হওয়ায় ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করলেও ১৭ ডিসেম্বর আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। কারণ ১৭ ডিসেম্বরও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অধীনে আমার মা, ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ রাসেল ও আমি এবং চার মাসের জয় বন্দী ছিলাম। ভারতের কর্নেল অশোক তারা এসে ১৭ ডিসেম্বর আমাদের পাকবাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত করেন। আজকেই সেই দিন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হয়, কিন্তু আমরা মুক্ত হয়েছিলাম ১৭ ডিসেম্বর। এ সময় তিনি কর্নেল অশোক তারাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার এবং ভারতের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সেইদিন আমরা যারা মুক্ত হয়েছিলাম তাদের মধ্যে শুধু রেহানা, জয় এবং আমি বেঁচে আছি। আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই।
ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যের শুরুতেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। আগামী বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের একদিন পরে এ শীর্ষ বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের যে, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আমি আপনার সঙ্গে একসঙ্গে উদ্যাপন করছি। দু’দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি জাতীয় ওয়ার মেমোরিয়াল পরিদর্শন করি এবং একটি বিজয় মশাল প্রজ্বালন করি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী নীতির প্রথম পিলার। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী ও দৃঢ় করার বিষয়টি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথমদিন থেকেই তার অগ্রাধিকার। চলমান এই বছরটি মহামারীর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে এরমধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাল সহযোগিতা ছিল এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আছে এবং আমরা দু’দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com