দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
বন্ধ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।। ভ্যাকসিনের আশায় মানুষ

বন্ধ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।। ভ্যাকসিনের আশায় মানুষ

ছবিঃ মো’ মাহবুবুল আলম

মাহবুবুল আলম ।। করোনার কারণে প্রায় ৭ মাস যাবত দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে । এরই মধ্যে সকল পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ৫ দফায় ছুটি বাড়ানো হয়! শিক্ষার্থীদের দুরন্তপনায় অস্থির অভিভাকরা আশায় ছিলেন সহসাই সরকার হয়তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবে। কিন্তু তা আর হলো না! এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকার। সরকারের এক ঘোষণায় কওমি মাদ্রাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশের সিংহভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং লেখাপড়ায় সিরিয়াস শিক্ষার্থীরা হতাশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে চলতি বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি ও জেডিসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে আগেই। ১ এপ্রিলে পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। একাডেমি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। দীর্ঘ দু’বছরের পাঠ শেষে নিজেকে প্রমাণের ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা সময়মত না হওয়ায় অনিশ্চিয়তায় শিক্ষার্থীদের জীবন। অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিল, পরীক্ষা শেষে ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী কেউ বিজ্ঞানী, এদিকে দুপুরে এই সিদ্ধান্ত জানার পর অনেককেই ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। ৫ অক্টোবর ২০২০ দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন এইচএসসিতে এবার ফরম পূরণ করা নিয়মিত শতভাগ শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হচ্ছে। এ ছাড়া গত বছর কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারা মানোন্নয়নের এবং বিভাগ পরিবর্তনকারী পরীক্ষার্থীদেরও পাস করিয়ে দেয়া হবে। এই ঘোষণায় নিচের সারির ছাত্র ছাত্রীরা খুশি হলেও মেধাবী ও মধ্যম সারির শিক্ষার্থীরা খুশি হতে পারেনি। এ নিয়ে সারাদেশে শিক্ষার্থ অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়যার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পৌনে ৩ কোটি। ইতিমধ্যে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বড় শহরে কিছুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস নিলেও সেগুলোর বেশির ভাগে পাঠদান এখন পর্যন্ত মানসম্মত হয়নি। কারণ, আগে থেকে প্রস্তুতি ছিল না। সংকট প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত থাকলেও বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে। সেখানেও রয়েছে কয়েক কোটি শিক্ষার্থী। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে, যদিও উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তাছাড়া দেশের সিংহভাগ এলাকায় ইন্টারনেটের কম গতির কারণে ক্লাস শুনতে ও বুঝতে মারাত্মক অসুবিধার সন্মুখিন হচ্ছে। তাই অনেকেই বিরক্ত হয়ে অনলাইন ক্লাস রেখে ভিডিও গেইম বা চ্যাটিং করে সময় পার করছে। অনলাইনে পাঠদানে বৈষম্যও আছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পড়াশোনায় এগিয়ে থাকে। শহর ও গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ পাচ্ছে না। সরকার গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের রেকর্ড করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করছে। কিন্তু টেলিভিশনের ক্লাস খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা একে তো ছোট, তার ওপর এই দুই স্তরে বাসায় থেকেও পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে না। খেলাধূলা ও আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে। কেউ কেউ কিশোর গ্যাং এর অবৈধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এমন কী কেউ কেউ ধর্ষণের মতো ঘটনায়ও অংশ গ্রহণ করছে।বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরা খবর ও ইলেক্টনিক মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ
প্রতিবেদন থেকে জানা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এখন দেশের সর্বত্রই কোচিং বাণিজ্য চলছে। প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে দিয়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে পড়তে যান। তা যেন কেউই দেখছে না। দেখেও না দেখোর ভান করে থাকেন।
হাট-বাজার, শপিংমল, বিয়ে বাড়ি, খেলার মাঠ, পর্যটনকেন্দ্র, মানব বন্ধন, নির্বাচনের ক্যাম্পেইন, সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ, ধর্মশালা, বাস বা ট্রেনে ঠাসাঠাসি করা চলাচলকারী যাত্রীরা বলতে কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কারও যেনো কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি এবং কভিড-১৯ নিয়ে সরকারের সব নির্দেশনা সব পন্ড হয়ে গেছে। সরকারের কোনো প্রচারনায়ই কেউ কান দিচ্ছে না, যে যার মতো করে চলছে।শহর বন্দর গ্রামে- গঞ্জে কোথায় এর কোনো প্রভাব নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সারা দেশে মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো তৎপরতা নেই। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ কোনো নিয়মকানুন মানছেন না বললেই চলে। ঢাকার বাইরে দেশের অন্য ছোট-বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামীণ হাট-বাজার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। লোকজন মাস্ক ব্যবহারে মোটেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আর সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি এখন কেবল কাগজে-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ছাত্র-ছাত্রিদের অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, করোনাপরবর্তী সময়ে পিতা-মাতার আর্থিক দৈন্যে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও প্রকট হবে। খরচ জোগাতে না পেরে অনেক অভিভাবকই সন্তানের লেখাপড়া চালাতে পারবেন না। তাছাড়া করোনাকালের দীর্ঘ ছুটিতে পড়াশোনায় আগ্রহ কমছে ছাত্রছাত্রীদের। অনেক দিন বাইরের আলো-বাতাসে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ না পেয়ে বরং ঘরবন্দী থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ের প্রতি তৈরি হয়েছে অনীহা। যার ফলে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও বড়সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভবনা এখনই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ছেলেরা যে যার মতো রোজগারে লেগে পড়েছে, আর মেয়েদের অনেককেই বাল্য বিবাহ দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার ফলাফলের তথ্যে বলা হয়েছে-“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যয় করলেও এখন ২ ঘণ্টার বেশি কেউই পড়াশোনা করছে না। এতে দেখা গেছে, করোনার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রমের হারও বেড়েছে।” অভাবের তাড়নায় অনেক মা-বাবা তাদের মেয়েদের পরিণত বয়সের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেন। আবার ছেলেসন্তানের হাত থেকে বই-খাতা সরিয়ে তুলে দিয়েছেন সংসারের দায়িত্ব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনার এই মহামারী কেটে গেলেও আর্থিক অনটনের কারণে ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তত ত্রিশ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্কুলে ফিরে আসা কঠিন হবে। কারণ চলমান মহামারীর ফলে অনেক গরিব পরিবার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তাদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতে চাইবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিবারগুলো চিহ্নিত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি নজিরবিহীন। প্রবীণ শিক্ষকনেতা কাজী ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে আর কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকেনি। কোনো পাবলিক পরীক্ষাও বাতিল
হয়নি। সংগত কারণে সরকার আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পথেই হাঁটছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আরেক দফায় ছুটি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে। ’ হয়তো করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার আশায় ছিল সরকার। অথবা সহসাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে করোনা। কিন্তু সাত মাসেও করোনাকে বাগে আনা যায়নি। সে বার বার তার চরিত্র পালিয়ে আরো বেশী আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলতে থাকা শত শত গবেষণার প্রতিটিতেই আশার কথা শোনা যাচ্ছে। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিনের একেক রকম ট্রায়ালের বিষয়ে খরব শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আসলে ভ্যাকসিন কবে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসবে তা জানেন না কেউ। অনেকেই বলছেন আগামী বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন আসবে। তবে কার্যকর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল ও যথাযত অনুমোদন আগামী বছরের মাঝামাঝিও শেষ হবে কিনা তা নিয়ে দেশে দেশে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থাসহ অনেক বিজ্ঞানীই বলেছেন এত দ্রুততম সময়ে আগে কখনই বিশ্বে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। এই জন্য সবাইতে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেই হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিক গবেষনাপত্রসূত্রে জানা গেছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মরণব্যাধি প্লেগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তিন বছর আগেই ১৭টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কথা জানায়। কিন্তু এখনো কোনো ভ্যাকসিনকে লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হয়নি। তা হলে সহজেই বোঝা যাচ্ছে করোনার ভ্যাকসিনও খুব দ্রুত সময়ে পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
১২ অক্টোবর ২০২০ বাংলাদেশ প্রতিদিন এর ‘কবে আসবে ভ্যাকসিন’ শিরেনামের প্রতিবেদনের অংশবিশেষ এখানে উদ্ধৃত করতে চাই- “করোনাভাইরাসের মতোই লক্ষণ নিয়ে ইনফ্লু¬য়েঞ্জা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে ১৯৩০ সাল থেকে গবেষণা করে ১৫ বছর পর পর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়। তবে কিছু দিন পর দেখা গেল সেই ভ্যাকসিন কার্যকর নয়। কারণ ভাইরাস রূপ বদল করে। এখনো ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন প্রতিনিয়ত আপডেট করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশ্বের একটি বিশাল অংশে একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে টাইফয়েড রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিশ্বব্যাপী গবেষণা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। সেই ভ্যাকসিন পরে বাজারে আসে ১৯১৪ সালে। একইভাবে পোলিও ভ্যাকসিন পেতে বিশ্বের সময় লেগেছে ৪৫ বছর। আর ৩৬ বছর ধরে চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি মরণব্যাধি এইডস রোগের ভ্যাকসিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের মনোযোগ, রাষ্ট্রগুলোর বিনিয়োগ, ওষুধ কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ও বিশ্বব্যাপী চাহিদা এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি খবরের প্রতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। “বিশ্ব সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে যে ভ্যাকসিনের দিকে সেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড ভ্যাকসিন গবেষণার ২৫ জনের মধ্যে থাকা বাঙালি কন্যা চন্দ্রাবলী দত্ত এখন কলকাতায়। সেখানে চন্দ্রাবলী দত্ত বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনা ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। সেই ভ্যাকসিন ২০২১-এর ফেব্রুয়ারি নাগাদ ভারতেও পৌঁছে যাবে বলেই বিশ্বাস চন্দ্রাবলীর। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, বর্তমানে এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল চলছে। যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত জয়েন্ট কমিটি একটি বিশেষ প্রটোকলের উন্নয়ন করেছে। তবে ভ্যাকসিন বাজারে আনার বিষয়ে রাশিয়া ও চীনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এদের ভ্যাকসিন হয়তো আগামী নভেম্বরের শেষ ভাবে নয়তো ডিসেম্বরের মধ্যভাগে রাশিয়া ও চীনের ইতিমধ্যেই একটি করে ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়ার খবর এসেছে।
শেষ করতে চাই এই বলেই যে, তাই ঝরে পড়া রোধ এবং পড়ার টেবিলে শিক্ষার্থীদের ফেরাতে এখনি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরী। আর মানবেতর জীবনযাপনকারী নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং প্রাইভেট স্কুলগুলোকে প্রণোদনায় আওতায় আনতে হবে। এদের প্রতি সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা খোলার পরে শিক্ষক স্বল্পতায় অনেক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এতে দেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখা শিক্ষাসেক্টর ক্ষতির সন্মুখিন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
লেখকঃ কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com