দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
”বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন-শিক্ষাব্যবস্থা করতে হবে জাতীয়করণ” হাজার হাজার শিক্ষকের শ্লোগানে মুখরিত প্রেসক্লাব অঙ্গণ

”বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন-শিক্ষাব্যবস্থা করতে হবে জাতীয়করণ” হাজার হাজার শিক্ষকের শ্লোগানে মুখরিত প্রেসক্লাব অঙ্গণ

ছবিঃ কালপুরুষ

কালপুরুষ রিপোর্ট।। মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখার মানসে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে সারাদেশ থেকে আগত বেসরকারি শিক্ষকদের পদভারে মুখরিত ঢাকার রাজপথ। ”বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন শিক্ষাব্যবস্থা করতে হবে জাতীয়করণ” শ্লোগানে মুখরিত প্রেসক্লাব অঙ্গণ। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি এবং শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি শোভিত দৃষ্টিনন্দন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহণকারী হাজার হাজার শিক্ষকের কণ্ঠে একই আওয়াজ শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য নিরসনকল্পে এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। আজ ৫ অক্টোবর সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) সভাপতি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনির সভাপতিত্বে এ শিক্ষক সমাবেশ অনষ্ঠিত হয়। নজরুল ইসলাম রনি বলেন, বাংলাদেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান পাহাড়সম বৈষম্য নিরসনে শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের প্রত্যাশা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ ঘোষণা দেবে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে দাবিটি আরও জোড়ালো হয়ে উঠে। কিন্তু ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করলেও জাতীয়করণের কোন ঈঙ্গিত না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকরা বেশ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আমরা মনে করি হতাশার কোন কারণ নেই। বাজেটে থাক বা না থাক শিক্ষা জাতীয়করণে সরকারের আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আজকের সমাবেশে উপস্থিত সারা বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের আকুতি শিক্ষকবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভূত হবে এবং তিনি মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য বিরাজমান। সরকারি চাকরিজীবীরা ২০১৫ সাল থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা পেয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশির্বাদে ২০১৮ সাল থেকে। তাও আবার কোনরকম বকেয়া ছাড়াই। একই অবস্থা বৈশাখী ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও। মরার উপর খাড়ার ঘা! এ আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই অতিরিক্ত ৪% কেটে নেয়া হচ্ছে বাড়তি কোন সুবিধা প্রদান ব্যাতিরেকেই। অবিশ্বাস হলেও সত্য যে, বেসরকারি শিক্ষকরা মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। তাদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা একেবারেই নেই। তাদের চাকরিতে কোন বদলী নেই। যেখানে শুরু সেখানেই শেষ! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল, শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এদেশের ভূখানাঙ্গা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো। তাদের অধিকার আদায়ের জন্যই তিনি লড়াই করেছেন, জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় জেলে অন্তরীণ থেকেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন একটি বৈষম্যহীন ও সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মেসবাহুল ইসলাম প্রিন্সের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ ফজর আলী, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার, মোঃ বজলুর রহমান, শাহনাজ সুলতানা, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (দেলোয়ার) এর প্রতিষ্ঠাতা আফজালুর রশিদ এবং মহাসচিব আলমগীর কবির, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী মঞ্চের মহাসচিব আবুল বাশার নাদিম, বাংলাদেশ বেসকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মজিবুর রহমান ও মহাসচিব বোদরুজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মোড়ল, মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব প্রকৌশলী আবুল বাশার, বাশিসের অতিরিক্ত মহাসচিব অরুপ কুমার সাহা, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ নাসির আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ মনসুর ইকবাল, সাহেদুল ইসলাম, প্রদীপ কুমার দেবনাথ, বাশিসের সহকারি মহাসচিব মোঃ মঈনুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হান্নান সরদার, প্রচার সম্পাদক এ বি সিদ্দিক, অর্থ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক তরফদার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক খান মোঃ মামুন হোসাইন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসমিন বেগম, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম এ মতিন, বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম খান, বাশিস কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি মোঃ হারুন উর রশিদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ লুৎফর রহমান, মোঃ আমির হোসেন, নরসিংদী জেলার সভাপতি মোঃ আমিনুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মানিকগঞ্জ জেলার সভাপতি মোঃ আইয়ুব খান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সভাপতি উষা আলো চাকমা, বাশিস ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, গাজীপুর জেলার সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বশির উল্লাহ, নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান, কুমিল্লা জেলার সভাপতি প্রশান্ত কুমার সরকারসহ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com