দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাসে কিশোর গ্যাং সোহেলের সস্ত্রাসী তান্ডব।। ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত।। দাওয়াই আপনাকেই দিতে হবে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন! স্বাস্থ্যবিধি উধাও সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বোপরি সরকার আগে জীবন পরে জীবিকা- ওবায়দুল কাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে।। পিছিয়ে যেতে পারে আরো দু’মাস লকডাউনে নতুন ৬ শর্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারে মতো শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী মার্কেট ও শপিংমলে ভিড়ের দৃশ্য দেখে মনে হয় না দেশে করোনা মহামারি চলছে!
প্রযুক্তির অবাধ বিচরণ থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখুন!

প্রযুক্তির অবাধ বিচরণ থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখুন!

ছবিঃ জাগাঙ্গীর আলম জাবীর

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।। আজকের শিশুরা আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য, চিন্তা-চেতনা, মনন ও মানসিকতা যত উন্নত হবে ভবিষ্যৎ দেশ-জাতি তত সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিশুদের সুস্থ মানসিকতা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন বেশির ভাগ শিশু গবেষক, সচেতন মহল এবং অভিভাবকগণ।
আর এই উদ্বেগের মূল কারণ হলো মোবাইল ও প্রযুক্তির অযাচিত ব্যবহার। প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য। নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির বহুমাত্রিক দিক রয়েছে। প্রযুক্তির অনেক অনেক ভালো দিক যেমন রয়েছে, রয়েছে তেমনি দুই একটি মন্দ দিকও। তার মধ্যে একটি ক্ষুদ্র দিক নিয়েই আমি আলোচনা করতে চাই।
মানব শিশুর মন কাঁদামাটির মতোই কোমল থাকে। শিশুকে যেভাবে, যে পরিবেশে গড়ে তোলা হবে শিশু সেভাবেই বেড়ে উঠবে। কাঁদামাটি যতটা নরম থাকে এই কাঁদামাটি দিয়ে গড়া ইট কিন্তু ততটাই শক্ত হয় অর্থাৎ পরিবেশের কারণে শিশু মনে কোনো অভ্যাস একবার স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসলে তা থেকে বের হয়ে আসা কঠিন। আমাদের দেশে একটি শিশু ৫-৭ বছর বয়সে ঘরোয়া পরিবেশে যত সহজে বাংলা শিখতে পারে, তার পরবর্তী ৫-৭ বছর প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েও কিন্তু তত সহজে ইংরেজি শিখতে পারে না। এ থেকেও বোঝা যায় পরিবেশ বা পারিপার্শ্বিকতা শিশু মনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।
নিজের সন্তানকে কে না ভালোবাসে। সন্তানকে ভালোবাসতে গিয়ে যে শিশুটি ‘মা-বাবা’ শব্দটি ভালো করে উচ্চারণ করতে পারে না তাকে কানে মোবাইল ফোন ধরিয়ে বলি ‘নাও তোমার আন্টির সঙ্গে কথা বলো’। হয়তো কান্না থামাতে গিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও গান দেখাই। কান্না থামে। ভালো, কিন্তু এই শিশুটিই ৫-৭ বছর বয়সে অধীর আগ্রহ নিয়ে মোবাইলে ভিডিও গান দেখে অথচ এই বয়সে মোবাইল ফোন দেখে তার ভয় পাওয়ার কথা। মোবাইল হাত থেকে নিতে গেলে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করে। বলা হয়ে থাকে, ‘অভ্যাস মানুষের দাস,’ অভ্যাসের দরুণ সময়ের পরিক্রমায় এক সময় মোবাইল-ই হয়ে ওঠে শিশু-কিশোরদের নিত্যদিনের বহুমাত্রিক বিনোদনের সঙ্গী। মোবাইল ছাড়া এ জগত তার কাছে একদম সাদা-কালো মনে হয়।
১২-১৪ বছরের ছেলে বা মেয়ের আজকাল ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থাকে। ইন্টারনেটে তার অবাধ বিচরণ। টাকা দিয়ে মেগাবাইট কিনে। সহপাঠী বা বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারে কোন সাইটে কি পাওয়া যায়। বুঝলাম, ইন্টারনেটে শিক্ষণীয় অনেক কিছুই আছে কিন্তু আপনার ১৪ বছরের কিশোর বয়সী ছেলে বা মেয়েটি যে ইন্টারনেটের ভাল সাইটগুলো দেখছে এর কোনো গ্যারান্টি কি আপনি দিতে পারেন? আপনার ছেলে বা মেয়ে অর্ধরাত বা সারা রাত জেগে জেগে এফএম রেডিও শুনছে যেখানে ভালোবাসা, বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড শব্দগুলো কমন। অথবা কোনো ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে রাত ১২টার পর কথা বলছে, আপনি কি তার খবর রাখছেন? ভয়ঙ্কর কথা হলো, যৌবনের শুরুতে যার ডার্ক সাইটের সর্বত্র বিচরণ। ব্যক্তিগত মোবাইলের নামে যার হাতে ব্লু-ফিল্মের বাক্স, বিকৃত অভিলাষে অসামাজিক কার্যকলাপ এমনকি খারাপ কিছুতে জড়ালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি?
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, ফেসবুক শিশু-কিশোরদের জন্য আরেক আতঙ্কের নাম। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানির শিকার হয়। এর মধ্যে একাধিকবার হয়রানির শিকার হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং এসব কারণে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। ৮১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সময় দেয় এবং ৮০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো হয়রানির শিকার হয়নি।
জরিপটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে এখনও শিশু-কিশোরদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তির এ যুগে শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। তাই বলে প্রযুক্তিতে অবাধ বিচরণের সুযোগ প্রদান করাও ঠিক নয়। দেশে, বিশেষ করে রাজধানীতে খেলাধুলার পরিসর বা খেলার মাঠ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে শিশু-কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রযুক্তিতে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা প্রযুক্তি কোনো কিছু জানা বা শেখার জন্য ব্যবহার করছে কি-না সে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ বিচরণের সুযোগ থাকলে শিশু না বুঝে ডার্ক ওয়েবে ঢুকে পড়তে পারে।
আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে প্রযুক্তি যেন আমাদের ব্যবহার না করে। বিশেষ করে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারে। ব্যবহারের শুরু থেকে সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে এটি শুধু খেলার মাধ্যম নয়, বরং জানার মাধ্যমও। এ জন্য অভিভাবকদেরও শিশুদের সামনে প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের কোনোভাবেই প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে দেয়া উচিত নয়। তাদের সামনে প্রযুক্তি পণ্য উন্মোচন করাও উচিত নয়। শিশুর বয়স ৩ থেকে ৫ বছর হলে দৈনিক একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করতে দেয়া যেতে পারে।
উন্নত দেশে সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য বেশকিছু প্রযুক্তি বা অ্যাপস রয়েছে। শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করে এমন দুটি দাতব্য সংস্থা হল চাইল্ড লাইন ও এনএসপিসিসি। এসব সংস্থা শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট জগত তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এমন সংস্থার অভাব রয়েছে।
শিশুদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে প্রযুক্তির অবাধ, খোলামেলা, লাগামহীন বিচরণ হতে আমাদের সন্তানদের বুঝাতে বা দূরে রাখতে হবে। নৈতিক শিক্ষায় জোর দিতে হবে। আর এই কাজটি করতে চার দেয়ালের মধ্যের উপাদান অর্থাৎ মা-বাবা-ভাই-বোনকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ডিজিটাল বিশ্ব গড়ে তুলতে গিয়ে যাতে শিশুর জীবন বিপদের দিকে ঠেলে দেয়া না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা ইন্টারনেট ব্যবহার যাতে নিজের সন্তানের জীবন বিপন্ন করে তুলতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরকেই। পাশাপাশি, অভিভাবকদের অনুরোধ করব- নৈতিক, ধর্মীয় শিক্ষা এবং দেশপ্রেমে আপনার সন্তানকে উজ্জীবিত ও উৎসাহিত করুন।
লেখক : কলামিস্ট, সাংবাদিক, সংগঠক ও চেয়ারম্যান, গাউছিয়া ইসলামিক মিশন, কুমিল্লা। মোবাইলঃ01718-228446

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com