দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
পঁচিশ সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান সোচ্চার হলে জাতীয়করণ সময়ের ব্যাপার মাত্র

পঁচিশ সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান সোচ্চার হলে জাতীয়করণ সময়ের ব্যাপার মাত্র

ছবিঃ ফাইল ফটো, জাতীয়করণের দাবিতে বাশিসের সভায় বক্তব্য রাখছি।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। দেশের প্রায় পঁচিশ সহস্রাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে আমি নিজেও একজন। সরকারি অনুদান এবং বিদ্যালয় প্রদত্ত বেতন মিলে টাকার অংকে বেশ ভালোই পাচ্ছি। কিন্তু এতে তৃপ্তি কতটুকু? আমি সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত। স্কেল অনুযায়ী আমার প্রাপ্য মর্যাদা কোথায়? সরকার আমাদের রাইফেল দিয়েছে, কিন্তু গুলি দেয়নি। তাই শুধু শুধু রাইফেল কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি। এখন আবার বাটটিও কেড়ে নেয়া হয়েছে।
সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরাও গেজেটেড অফিসারের মর্যাদা ভোগ করে। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একেবারেই তলানীতে। আর সহকারি শিক্ষকদের কথা নাই বা বললাম। একদিকে সরকারি অবহেলা অন্যদিকে স্থানীয় অযাচিত হস্তক্ষেপে নাস্তানাবুদ। তাই বলছি মুখ বুঝে ঘরে বসে না থেকে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হই। অস্বীকার করার উপায় নেই এক্ষেত্রে আমরিা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনেক পিছিয়ে। সহকারি শিক্ষকরা প্রায়শই অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জাতীয়করণে আন্তরিক নয়। তাদের অভিযোগ অমূলক নয়। আমার ধারণাও তাই।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পঁচিশ সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান একযোগে সোচ্চার হলে জাতীয়করণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। মনে রাখবেন ভারবাহী হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আসুন সময়ের কাজ সময়েই করি। আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম রনি সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পঁচিশ সহস্রাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান একজন করে সহকারি শিক্ষক নিয়ে ঢাকায় এলে ৫০ হাজার শিক্ষকের সমন্বয়ে এক বিশাল সমাবেশ হতে পারে। প্রশ্ন আসতে পারে আমরা সবাই তো আর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাথে জড়িত নই। এক্ষেত্রে আমি বলব জাতীয়করণের স্বার্থে দলমতের উর্ধ্বে উঠে আসুন আমরা সবাই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আহুত সমাবেশকে সফল করি। পরিশেষে এটুকু বলতে চাই স্বপ্ন যখন দেখেছি, স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাবান্ধব একথা দিবালোকের মতো সত্য। তবে একথাও সত্য যে, শিশু না কাঁদলে মাও নিজ সন্তানকে দুধ দেয় না। তাই আমাদেরকে চাওয়ার মতো চাইতে হবে। শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করছি অচিরেই জাতীয়করণের যৌক্তিকতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভূত করুন। যিনি এ কাজটি সর্বাগ্রে করবেন তিনিই সকল শিক্ষকদের কাছে পূজনীয় হবেন। আর এ কাজটিই আমরা ঠিকমত করছি কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আশা করছি শিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবির প্রতি সদয় হয়ে অচিরেই শিক্ষা জাতীয়করণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। মুজিববর্ষই হোক আমাদের মুক্তির সোপান। মুজিববর্ষ বয়ে আনুক আলোকবর্ষ।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয় মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com