দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
নজরুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে জাতীয়করণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

নজরুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে জাতীয়করণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

ছবিঃ স্মারকলিপি হাতে বাশিসের সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি।

কালপুরুষ রিপোর্ট।। মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় ও চিরঅম্লান করে রাখার মানসে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ ৬ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দও স্বস্ব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি ও মহাসচিব মেসবাহুল ইসলাম প্রিন্স স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা আর শত বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করেও দেশকে আপনি উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আর আমরা মুজিব সেনা শিক্ষক সমাজ সর্বদা আপনার পাশে আছি। আপনার দক্ষতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিক্ষা পেয়েছে আধুনিকতা। কিন্তু করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষা ও অর্থনীতি আজ ক্ষতির মুখে। করোনার প্রভাবে আজ প্রায় ছয়মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। অভিভাবকগণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি দিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষকরা চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে আপনি বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছেন সেজন্য আপনাকে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজস্বখাত থেকে সামান্য বেতন পেলেও বেতন-বৈষম্যের শিকার। ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ২৫% ঈদবোনাস যা দীর্ঘ ১৬ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষকদের কোন বদলী প্রথা নেই, ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দিয়েও আবার ৪% অতিরিক্ত কর্তন করা হচ্ছে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে। অথচ অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ সঠিক সময়ে অবসরের টাকা পাচ্ছেন না। শিক্ষক-কর্মচারীগণ অবসরে গিয়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন যা অমানবিক।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক, আপনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শ ছিল বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা তথা বৈষম্যহীন শিক্ষা। তিনি বেঁচে থাকলে অনেক আগেই হয়তো শিক্ষা জাতীয়করণ করা হতো। আপনি জানেন শিক্ষা জাতীয়করণ করা প্রয়োজন এদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য, অভিভাবকদের জন্য, শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য তথা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য। শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরির জন্য। শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। আপনিই পারেন এই বাংলাদেশে বৈষম্যহীন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যার ভিত্তি হবে শিক্ষা জাতীয়করণ।
হে মানবতার মা, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আপনার আদেশে ২৭৩০টি ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। কিন্তু আরো প্রায় ৪,৫০০টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে বহু শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। বেসরকারি কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা দীর্ঘ ২৮ বছরেও এমপিওভুক্ত হতে পারে নাই। এছাড়াও এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া সরকারের জন্য অলাভজনক ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তির পদ্ধতি। এমপিও’র টাকা দিয়ে জাতীয়করণ করা সম্ভব। বেতন বৈষম্যসহ নানাবিধ কারণে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির প্রভাবে শিক্ষক নির্যাতন ও দুর্নীতি এখন চরম পর্যায়ে। এতে আপনার শিক্ষাবান্ধব সরকারের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী এবং তা আপনার হাত ধরেই হবে ইনশাল্লাহ্।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেসরকারী অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ফান্ড রয়েছে। এসব ফান্ড রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নিয়ে, ছাত্র বেতন বর্তমানের চেয়ে ১০ টাকা বৃদ্ধি করলে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসাথে জাতীয়করণ করলে আপনার সরকারের রাজস্বের তেমন কোন ঘাটতি হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করেছেন। আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা। আপনিই পারবেন শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা করতে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের সপক্ষে বেশ কিছু যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। শিক্ষা জাতীয়করণ হলে- ০১. জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ছিল অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা তা বাস্তবায়িত হবে। ০২. সরকারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজীকরণ হবে। ৩. ছাত্র, শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকগণ এর সুবিধা পাবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবে রুপ নিবে। ৪. দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনসহ বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে। ৫. শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হবে। ৬. বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানী বন্ধ হবে। ৭. শিক্ষক-কর্মচারীদেরবেতন বৈষম্যসহ নানাবিধ অসন্তোষ দূর হবে। সুতরাং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মুজিববর্ষকে আলোকিত ও অবিস্মরণীয় এবং চিরঅম্লান করে রাখতে আগামী ৫ অক্টোবর “বিশ্ব শিক্ষক দিবসে” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা দিলে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে এবং এদেশের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক তথা আপামর জনতার পক্ষে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com