দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃঢ়চেতা বঙ্গবন্ধুর আক্ষেপ!

দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃঢ়চেতা বঙ্গবন্ধুর আক্ষেপ!

ছবিঃ সংগৃহিত

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশকে শুধু স্বাধীন করেননি, দেশটির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও অতুলনীয় ভালোবাসা ছিল অগাধ। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে পুনর্গঠনে তাঁর প্রানান্তকর চেষ্টা ছিল নিখাদ। কিছু দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তি তাঁর এ চেষ্টাকে ভুণ্ডুল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। দুরদর্শী বঙ্গবন্ধু তা আঁচ করতে পারলেও রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে। তবে দুর্নীতির ব্যাপারে তাঁর শক্ত অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে।
আজ ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ‘শুদ্ধাচারেই পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবার পালিত হচ্ছে ১৮তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। জাতিসংঘ সারা বিশ্বকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (আনকাক)-এর মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ আনকাকের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। যদিও সরকারিভাবে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দেয়া তাঁর ভাষণে শক্তভাবেই বলেছিলেন, “আজকে করাপশনের কথা বলতে হয়। এ বাংলার মাটি থেকে করাপশন উৎখাত করতে হবে। করাপশন আমার বাংলার কৃষকরা করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ। যারা আজকে ওদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া করেছি। আজ যেখানে যাবেন, করাপশন দেখবেন- আমাদের রাস্তা খুঁড়তে যান-করাপশন। খাদ্য কিনতে যান-করাপশন। জিনিস কিনতে যান-করাপশন। বিদেশ গেলে টাকার ওপর করাপশন। তারা কারা? আমরা যে ৫% শিক্ষিত সমাজ, আমরা হলাম দুনিয়ার সবচেয়ে করাপ্ট পিপল, আর আমরাই করি বক্তৃতা। আমরা লিখি খবরের কাগজে, আমরাই বড়াই করি।…
এই দুঃখী মানুষ যে রক্ত দিয়েছে, স্বাধীনতা এনেছে, তাদের রক্তে বিদেশ থেকে খাবার আনবো সেই খাবার চুরি করে খাবে, অর্থ আনবো চুরি করে খাবে, টাকা আনবো তা বিদেশে চালান দেবে। বাংলার মাটি থেকে এদের উৎখাত করতে হবে।” [তথ্যসূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; জীবন ও রাজনীতি দ্বিতীয় খণ্ড, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা-৮৯০]
পঁচাত্তর থেকে দুই হাজার ২০। পঁয়তাল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু দুর্নীতির অবসান হয়নি। জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পিতার স্বাধীন করা এ দেশটিকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত রাষ্ট হিসেবে ঠাঁই দিতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাঁর চারপাশেও দুর্নীতিবাজরা সদা সোচ্চার। তবে তিনিও পিতার মতো জাগ্রত। শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতীজ্ঞ, যে কোন মূল্যেই এদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবেনই। বঙ্গবন্ধু ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বেড়িয়ে আসতে পারেননি। তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে ঘাতকচক্র সৃষ্টি করেছে পঁচাত্তরের নির্মম ট্র্যাজিডি। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে জাতিকে যেমন কলঙ্কমুক্ত করেছেন, তেমনি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে একটি সুখি ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবেন, এ প্রত্যাশা বাংলার আপামর জনগণের।
লেখকঃ সম্পাদক, সাপ্তাহিক কালপুরুষ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com