দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
টিকা গ্রহণের পরও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ জরুরি

টিকা গ্রহণের পরও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ জরুরি

ছবিঃ লেখকের দুই ডোজ টিকা গ্রহণের চিত্র।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় টিকা নেয়া আবশ্যক। টিকার কোন বিকল্প নেই। বিশ্বের অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। সেসব দেশে অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে জীবনযাত্রা। তবে টিকা নেয়ার পরও অনুসরণ করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কেননা টিকা মানবদেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে না। ভাইরাসকে সর্বোচ্চ দুর্বল করতে পারে মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা নেয়ার পরও অনেকেই এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছেন। এমনকি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েও ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না অনেকেই। অনেকের ধারণা ভ্যাকসিন নিলেই ভাইরাস তাদের সংক্রমিত করতে পারবে না। তবে তাদের এই ধারণা ভুল। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা ভাইরাসকে দুর্বল করতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে কিন্তু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে না।
করোনা এমন একটি ভাইরাস যে প্রতিনিয়ত নিজের প্রজাতি পরিবর্তন করে চলছে। যার কারণে টিকা নিলেও এর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে বেশ কয়েকটি বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে, অন্যথা টিকা নেয়ার পরও আপনি এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারেন। তাই টিকা নেয়ার পরও প্রত্যেককে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো।
প্রথমতঃ নিজকে সুরক্ষায় অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। টিকা গ্রহণের পর অনেকেই মনে করে মাস্ক পরতে হবে না। তাদের এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কেননা টিকা গ্রহণের পরেও আপনি ভাইরাসটি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নন। টিকা সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করে ঠিকই, তবে ভাইরাস থেকে একেবারে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। তাই টিকা নিলেও মাস্ক ছাড়াই জনসমাগমে যাওয়া আদৌ ঠিক নয়।
দ্বিতীয়তঃ যাদের ইমিউনিটি দুর্বল, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তাদের জন্য টিকা খুবই কার্যকরি। তাদের মাঝে ভাইরাসের সংক্রমণের হারও খুব কম। কিন্তু দুর্বল ইমিউনিটিসম্পন্ন ব্যক্তি বা যাদের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি ভালো নয়, তাদের জন্য এ টিকাগুলো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সুতরাং, এ শ্রেণির ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়তঃ করোনা সংক্রমণ থেকে নিজকে রক্ষায় সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করার কোন বিকল্প নেই। করোনা সংক্রমণ শুরুর প্রথম থেকেই সামাজিক দূরত্ব যথায়থভাবে না মানায় বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়েছে সামাজিক সংক্রমণ। তাই আমাদের সচেতন থাকা উচিত। আমরা যদি সমস্ত নিয়ম ঠিকভাবে মেনে চলি, তাহলেই এ ভাইরাস থেকে নিজেদের সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। তাই টিকা নেয়ার পরেও বিয়ে, পার্টি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ, গ্রাম্য সালিশ, বিনোদন কেন্দ্র, হাটবাজার বা শপিংমল, গণপরিবিহন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামাজিক দুরূত্ব বজায় রাখা জরুরি।
চতুর্থতঃ দীর্ঘ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। লকডাউন তুলে নিলেই মানুষ এদিক-ওদিক ঘুরতে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তবে নিজকে সুরক্ষায় দীর্ঘ ভ্রমণ না করাই উচিত। কোভিড-১৯ ডেল্টা ভেরিয়্যান্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় ভ্রমণ সতর্কতা অবলম্বন করা একান্তই আবশ্যক।
সুপ্রিয় বিদগ্ধ পাঠক, করোনা একটি মরণঘাতি ভাইরাস। এর গতিপ্রকৃতি ও ধরন অত্যন্ত বিচিত্র্য। মানবদেহে আক্রমণের মাধ্যমেই এরা বেঁচে থাকে। মানুষকে কাছে না পেলে এদের বেঁচে থাকা কঠিন। তাই নিজকে সুস্থ্য রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা দুরে রাখুন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail:alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com