দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট

জুলিও কুরি শেখ মুজিব

ছবিঃ সংগৃহিত

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ শেখ শেখ মুজিব-লও লও লও সালাম, টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব-লও লও লও সালাম, রাখাল রাজা শেখ মুজিব-লও লও লও সালাম, জুলিও কুরি শেখ মুজিব-লও লও লও সালাম শ্লোগানগুলো যখন রাজপথে দিতাম তখন গা শিহরে উঠত। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মন ভরে উঠত। নিজকেও তখন অনেক উচ্চতায় ভাবতাম। কেননা বিশ্বনেতার নামে শ্লোগান দেয়ার সৌভাগ্য ক’জনারই বা হয়। আমার হয়েছে, তাই আমি ধন্য। যেমনটি বাংলাদেশ ধন্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক প্রাপ্তির জন্য।
বাংলার নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ পরিহার করে কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব এ নীতির আলোকে দেশ পরিচালনা করে বিশ্বে বেশ সমাদৃত হন। বিশ্ব শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত করে।
ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। রেডিওলজির ওপর উইলিয়াম রঞ্জেনের আবিষ্কারের পথ ধরে কুরি দম্পতি তাদের গবেষণা চালিয়ে যান এবং পলোনিয়াম ও রেডিয়ামের মৌল উদ্ভাবন করেন। তাদের উদ্ভাবন পদার্থবিদ্যায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে। বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে এ বিজ্ঞানী দম্পতির মহান অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে, মানবতার কল্যাণে শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।
বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাঁর এ প্রচেষ্টা তিনি শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। বদ্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও তিনি তাঁর এ দর্শন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায়ই উপমহাদেশে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ভেতর সৎ প্রতিবেশীসূলভ সম্পর্ক স্থাপন ও শান্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। এ উপমহাদেশে উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি স্থাপনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। ভারত-সোভিয়েত শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা-চুক্তি ১৯৭১ এবং বাংলাদেশ-ভারত শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা-চুক্তি ১৯৭২ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
পারস্পারিক মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক জোট নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ এবং শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের নীতির ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব সভায় একটি ন্যায়ানুগ দেশের মর্যাদা লাভ করে। কারো সাথে বৈরীতা নয়, সবার প্রতি বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি ঘোষণা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর বৃহত্তম শক্তি যে অর্থ ব্যয় করে মারনাস্ত্র তৈরি করছে, সেই অর্থ গরিব দেশগুলোকে সাহায্য দিলে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’
শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতা জাগ্রতকরণে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির সভায় বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলন এবং বিশ্ব শান্তির সপক্ষে বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদানের জন্য শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পৃথিবীর ১৪০টি দেশের শান্তি পরিষদের ২০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শান্তি পরিষদের ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ১৯৭৩ সালের মে মাসে এশিয়ান পিস এন্ড সিকিউরিটি কনফারেন্স অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ঢাকায় দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনের আয়োজন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্ব শান্তি পরিষদের শাখাগুলোর বহু প্রতিনিধি এ সভায় যোগ দেন। এসব প্রতিনিধি ছাড়াও আপসো, পিএলও, এএমসি সোয়াপো ইত্যাদি সংস্থার অনেক প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছিল।
অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন ২৩ মে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের উত্তর প্লাজায় উন্মুক্ত চত্বরে সুসজ্জিত প্যান্ডেলে বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের বিশাল সমাবেশে বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধুর আগে যাঁরা ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- ফিদেল ক্যাস্ট্রো, হো চি মিন, ইয়াসির আরাফাত, সালভেদর আলেন্দে, নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা, কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা, জওহরলাল নেহেরু, মার্টিন লুথার কিং, ব্রেজনেভ প্রমুখ।
বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। জাতির এ শুভলগ্নে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। আছে তাঁর মহান আদর্শ, উদ্দেশ্য এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন তাঁর আদর্শ লালন করা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের অন্তরে। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে লোকান্তরের বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বীর বাঙালি তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি বিশ্বশান্তি ও মানবতার অগ্রদুত গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আজ অনেক উচ্চতায় আসীন করেছেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীরকাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com