দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
জান দিয়া দিমু আপা! আপনি শুধু মাথায় হাত বুলাইয়া দ্যান-শেখ হাসিনাকে নুর হোসেন

জান দিয়া দিমু আপা! আপনি শুধু মাথায় হাত বুলাইয়া দ্যান-শেখ হাসিনাকে নুর হোসেন

কালপুরুষ রিপোর্ট।। ‘ওরা টোকাই কেন’ গ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হচ্ছে নূর হোসেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে নূর হোসেন নামটি চিরস্মরণীয়। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর শেখ হাসিনা আহুত ঢাকা অবরোধের দিনে বুকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শ্লোগান এঁটে এগিয়ে চলছে এক টকবগে তরুণ। শেখ হাসিনার প্রখর দৃষ্টি পড়ে ঐ যুবকের ওপর। অজানা আশংকায় বুক কেঁপে উঠে তাঁর। এ সম্পর্কে ‘নূর হোসেন’ প্রবন্ধে শেখ হাসিনা তাঁর স্মৃতির আলোকে লিখেছেন, “কে একজন গিয়ে তাকে কাছে নিয়ে এলো, জানালো এর নাম নূর হোসেন, মনে পড়ে আমি তাকে বলেছিলাম, জামাটা গায়ে দাও, একি সর্বনাশ করেছো, ওরা যে তোমাকে গুলি করে মারবে’। নূর হোসেন মাথাটা এগিয়ে দিলো আমার কাছে, বলল-জান দিয়া দিমু আপা, আপনি শুধু মাথায় হাত বুলাইয়া দ্যান। আমি ভীষণভাবে তার কথার প্রতিবাদ করলাম। বললাম-না জীবন দেবে ক্যানো, আমি আর শহীদ চাই না, আমি গাজী চাই। ও কথা আর মুখে আনবে না। জামাটা গায়ে দাও। ওরা তোমাকে গুলি করবে, বলে নূর হোসেনের মাথা ভরা ঝাকড়া কালো চুলে হাত বুলিয়ে দিলাম। চুলগুলো মুঠো করে ধরে আবার বোনের দাবী নিয়ে অনুরোধ করলাম জামাটা পরতে। তারপর কখন যেন জনতার র্যাললীতে হারিয়ে গেল।” পরক্ষণেই স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশের গুলিতে ঝাঝরা হলো নুর হোসেনের বুক। তার রক্তে রাজপথ হলো রঞ্জিত। শহীদের তালিকায় যোগ হলো আরও একটি নাম শহীদ নূর হোসেন। কবি শামসুর রহমান নূর হোসেন সম্পর্কে লিখে গেলেন একটি কবিতা বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়। শেখ হাসিনা লিখলেন, ‘কত তাজা প্রাণ রাজপথে বুকের রক্ত দিয়ে লিখে যাচ্ছে-এই সমাজ বদলে দাও, আমরাও মানুষ, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চাই। আমাদের মুক্তির সংগ্রাম চলবেই চলবে’। বইটিতে তিনি নূর হোসেনকে এবং তার মা-বাবার দুঃখ কষ্টকে নিজের উপলদ্ধিতে যেভাবে তুলে ধরেছেন তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com