দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
জনজীবন স্বাভাবিক হলেও করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিক!

জনজীবন স্বাভাবিক হলেও করোনা সংক্রমণের হার অস্বাভাবিক!

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই থেকে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপর এর মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহার চাঁদ দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ঈদ উদযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেয়া হয় এবং ২৩ জুলাই ভোর ছয়টা থেকে পুনরায় কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই ভোর ছয়টা পর্যন্ত স্বাভাবিক করে দেয়া হয়েছে জনজীবন।
লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সরকার ঈদুল আযহার কথা ভেবে এবং জনজীবন ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কঠোর লকডাউন সত্ত্বেও মানুষের ঈদযাত্রা আগেও রোধ করা যায়নি, এবারও হয়তো থামানো যাবে না। তবে সংশয় ও শংকার বিষয় হলো ঈদযাত্রায় মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে, যদি মাস্ক পরিধান না করে তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বিষেশজ্ঞদের মতে, সবকিছু খুলে দেয়ায় করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যেই মানুষজন ঘর থেকে বের হবে, ঈদের কেনাকাটা করার জন্য শপিংমল, মার্কেট, কাঁচাবাজারে ভিড় করবে, কোরবানির পশু কেনার জন্য গরু হাটে যাবে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করবে ইত্যাদি নানা রকম প্রবণতা এবং মেলামেশাগুলো বাড়বে। ফলে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের যে সামাজিক সংক্রমণ তা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করায় পুরোদমে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাস-ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল। রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর গণপরিবহনে চড়ে অফিসে আসতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। এছাড়া দূর পাল্লার বাস ও ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় মানুষ ছুটছে নিজনিজ গন্তব্যে। কাঙ্খিত টিকেট না পেয়ে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছে। ঈদের ছুটি শুরু না হতেই সড়ক মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ অনেক। তবে দীর্ঘদিন পর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল চালু হওয়ায় খুশি পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রাত থেকেই বাস-লঞ্চ ও ট্রেন টার্মিনালে কর্মীদের কর্ম ব্যস্ততা শুরু হয়। অনেক দিন পর বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষও।
দোকানপাট, শপিংমল, বাস, ট্রেন, লঞ্চ চালু হওয়ায় যেমন সন্তুষ্ট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তদ্রুপ খুশি সাধারণ জনগণ নির্বিঘ্নে চলাচল করার সুযোগ পাওয়ার জন্য। কিন্তু এর মাশুল যে পরবর্তীতে গুণতে হতে পারে সেদিকে কারো কোন খেয়াল আছে বলে মনে হয় না। কুরবানির পশুর হাটের দিকে নজর দিলে তা এখন স্পষ্ট। সামাজিক দুরূত্ব বজায় রাখা দুরে থাক অত্যাবশ্যকীয় মাস্ক পরিধানেও অনিহা। তাছাড়া ঈদের ছুটিতে শহরে বসবাসরত মানুষ গ্রামে গিয়ে সবার সাথে অবাধে মেলামেশার কারণে সামাজিক সংক্রমণ আরও প্রবল হতে পারে। এহেন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের হার ঈদের পর অস্বাভাবিক রূপ পরিগ্রহ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা।
গত এপ্রিল থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ পালন এবং গত ১৪ দিন কঠোর লকডাউন থাকা সত্ত্বেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বেশ কিছুদিন যাবৎ করোনার উচ্চ সংক্রমণ হার বিরাজ করছে। দৈনিক মৃত্যু দু’শতাধিক যা উদ্বেগের বিষয়। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আযহা যেন দেশবাসীর জন্য আরও উদ্বেগের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে বিষয়টি খেয়াল রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং মাস্ক পরিধান করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অবশ্যই পালনীয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com