দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাসে কিশোর গ্যাং সোহেলের সস্ত্রাসী তান্ডব।। ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত।। দাওয়াই আপনাকেই দিতে হবে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন! স্বাস্থ্যবিধি উধাও সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বোপরি সরকার আগে জীবন পরে জীবিকা- ওবায়দুল কাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে।। পিছিয়ে যেতে পারে আরো দু’মাস লকডাউনে নতুন ৬ শর্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারে মতো শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী মার্কেট ও শপিংমলে ভিড়ের দৃশ্য দেখে মনে হয় না দেশে করোনা মহামারি চলছে!
গৃহবন্দি থেকে পালিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন শেখ জামাল

গৃহবন্দি থেকে পালিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন শেখ জামাল

কালপুরুষ রিপোর্ট।। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল গৃহবন্দি থেকে পালিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালও গৃহবন্দি ছিলেন। সেখান থেকে পালিয়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। শেখ জামাল ধানমন্ডি থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথচলা শেষে ভারতের আগরতলা পৌঁছান এবং সেখানে মুজিব বাহিনীতে (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সেস, বিএলএফ) যোগদান করে প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ করেন।
শেখ জামাল ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লং কোর্সের প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার। ১৯৭৪ সালে শেখ জামাল যুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে ঢাকা সেনানিবাসস্থ দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলে চাকরিকালে স্বল্প সময়েই অফিসার ও সৈনিকদের মাঝে তিনি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা ও আন্তরিকতার ছাপ রেখেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই শেখ জামাল অফিসার ও সৈনিকদের মাঝে প্রিয়জন বনে যান। ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, রণকৌশলের ক্লাসে, অবস্টাকল ক্রসিংয়ে অংশ নিয়ে সৈনিকদের মুগ্ধ করেন। ব্যাটালিয়ন বক্সিং টিমের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট ব্যাটালিয়ন ডিউটি অফিসার হিসেবে ক্যান্টনমেন্টে নিজ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ঐ দিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফিরে আসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন শেখ জামাল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের ৬৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমী এবং একজন ক্রীড়াবিদ।
শেখ জামালের জীবন ছিল খুব সংক্ষিপ্ত; ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ থেকে ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫। শেখ জামাল এখন ঘুমিয়ে আছেন বনানী কবরস্থানে। তাঁর পাশেই ঘুমিয়ে আছেন প্রাণপ্রিয় স্ত্রী রোজী জামাল, যাঁর হাতের তাজা মেহেদির রং বুকের তাজা রক্তে একাকার হয়ে গিয়েছিল। শেখ জামাল বেঁচে থাকলে জাতিকে আরও অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com