দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে সংসদে আপনাদের বক্তব্য চাই করোনা বৃত্তান্ত।। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্ত শনাক্ত দু’টোই বেড়েছে করোনার গ্যাঁড়াকলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।। বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি চরম বিপাকে বেসরকারি শিক্ষকরা সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব পরিকল্পনা জরুরি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তলানীতে! আমি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এ নহে মোর অপরাধ মোবাইল গেমসঃ একটি ভয়াবহ ব্যাধি তিতাসে বাংলাদেশ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের বৃক্ষ রোপণ এ বছরও হজ্বযাত্রী পাঠানো বন্ধ থাকবে- সংসদে অর্থমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিন ৫০ বছরে ৭৮৬ কোটি থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ হাজার কোটি টাকার বাজেট
কুমিল্লার স্মরণীয় বরণীয়- সেলিমা আহমাদ মেরী

কুমিল্লার স্মরণীয় বরণীয়- সেলিমা আহমাদ মেরী

ছবিঃ জাতীয় সংসদে বক্তব্যরত সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি (ফাইল ফটো)

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর নারী কবিতায় লিখেছেন, “সাম্যের গান গাই- আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোন ভেদাভেদ নাই। বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর-অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতার এ মর্মবাণী যেন বৃহত্তর কুমিল্লার নারী সমাজ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পেরেছিল অথবা তাঁদের কারো অমর কীর্তিই নজরুলের কলমে প্রতিভাত হয়েছিল। শিক্ষার নবজাগরণে, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে, সমাজ হিতৌষী কাজে, সর্বোপরি স্বাধীনতা যুদ্ধে কুমিল্লার নারী সমাজের অগ্রণী ভূমিকা এ জেলার ইতিহাসকে করেছে সমৃদ্ধ। কৃষিক্ষেত্রেও পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা অতুলনীয়। কুমিল্লা জেলার হোমনা-তিতাস নির্বাচনী এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী যেন তাদেরই একজন।
বাংলাদেশের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি। তার বাবার নাম এ কে এম ফজলুল হক এবং মাতা রহিমা হক। সেলিমা আহমাদের ছোটবেলা কাটে খুলনায়। খুলনার ফাতেমা হাইস্কুল থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই তার বিয়ে হয় মাতলুব আহমাদের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) এবং এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন সেলিমা আহমাদ।
সেলিমা আহমাদ বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। ছোটবেলায় সাংবাদিক বা আর্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন লালন করলেও হলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। বাংলাদেশ উইমেনস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন সেলিমা আহমাদ। নিটল-নিলয় গ্রুপ বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। এ গ্রুপের ২৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রয়াত্ব জনতা ব্যাংকেরও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গণে বিচরণ বেশি দিনের নয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে বাবার বাড়ি হোমনায় এসে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ ঘটান। স্বীয় দক্ষতা বলে কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বনে যান এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। নির্বাচনে চমক সৃষ্টি করে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালে ব্যবসায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি অসলো বিজনেস ফর পিস পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশে প্রথম কোনো নারী এ পুরস্কার পেলেন। এশিয়া মহাদেশে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও তিনি এ পুরস্কার পান। ব্যবসার সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। তাছাড়া তিনি প্রিয়দর্শিনী পুরস্কার-২০১২, বিজনেস এক্সপ্রেস পুরস্কার-২০০৯ এবং বেস্ট বিজনেস উইমেন পুরস্কার-২০০০, ২০০২, ২০০৩ লাভ করেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর উইমেনের বৈশ্বিক দূত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষক।
শুধু ব্যবসা ক্ষেত্রেই নয় পারিবারিক জীবনেও তিনি অত্যন্ত সফল। সেলিমা আহমাদের স্বামী দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মাতলুব আহমাদ। তিনি নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে তিনি ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দুই সন্তান আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ নিটল এবং আবদুল মারিব আহমেদ নিলয়। দুই ছেলের ডাক নামেই গ্রুপের নাম রাখা হয়েছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। নারী উদ্যোক্তা এবং নারীনেত্রী হিসেবে সেলিমা আহমাদ আগামী দিনের নারীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বলতে দ্বিধা নেই, কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকার (হোমনা-তিতাস) উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি প্রয়াত এম কে আনোয়ার। হোমনা ও তিতাসের ব্যাপক উন্নয়ন করে তিনি দু’টি উপজেলার মানুষের হৃদয়ে ঠাই করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে হোমনা ও তিতাসের উন্নয়নে ভাটা পড়ে যায়। ক্ষমতার বলয় থেকে ছিটকে পড়ায় এম কে আনোয়ারও কাঙ্খিত উন্নয়নের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন। ফলে হোমনা ও তিতাসবাসী অনেকটা অভিভাবক শুন্যতায় ভূগতে থাকেন। এমনি এক পরিস্থিতিতে হোমনা ও তিতাসবাসীর ভাগ্যাকাশে উদয় হন সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি। ইতমধ্যে তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ের গভীরে ইতিবাচক দাগ কাঁটতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও ভরসার স্থল যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য উত্তরসূরি গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী, বিশ্ব মানবতা ও শান্তির অগ্রদুত, বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের সুনিপুন কারিগর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; তেমনি তিতাস ও হোমনাবাসীর আশা-আকাঙ্খা ও ভরসার স্থল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনারই আশির্বাদপূষ্ঠ সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি, এটি এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার। আকাশে চাঁদ উঠলে যেমন সর্বলোকে দেখে, তেমনি তিতাস ও হোমনাবাসীর ভাগ্যাকাশে এ উজ্জ্বল জ্যোতিস্কের অবির্ভাবও এখন সুষ্পষ্ট।
পরিশেষে শুধু এটুকু বলতে চাই, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার- সময় এখন হোমনা-তিতাসবাসীর মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।” এ অসাধ্য কাজটি অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুনতার সাথে সম্পন্ন করার গুরুদায়িত্ব এখন সেলিমা আহমাদ মেরীর কাঁধে অর্পিত হয়েছে। প্রত্যাশা করছি তিনি বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সাফল্যের আলোকে হোমনা-তিতাসবাসীর স্বপ্ন পূরণেও সফল হবেন।
লেখকঃ সম্পাদক সাপ্তাহিক কালপুরুষ, প্রধান শিক্ষক- পীর কাশিমপুর আর. এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com