দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
কুমিল্লার সংবাদপত্র ও সাময়িকী

কুমিল্লার সংবাদপত্র ও সাময়িকী

   বিশেষ প্রতিবেদন।।

সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পন। দর্পনে যেমন নিজের চেহারা প্রতিবিস্বিত হয় তেমনি দেশ, জাতি, সমাজ এমনকি সমকালীন বিশ্বের চলমান ঘটনা, জীবন প্রবাহ, চিন্তা-চেতনা, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমুহ অত্যন্ত সুনিপুনভাবে সংবাদপত্রে ছাপা হয়। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ, জাতি ও সমাজ গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে সংবাদপত্র জগতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় এবং বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞানের আশির্বাদে তড়িৎ সেবা প্রদানে সক্ষম হওয়ায় সংবাদপত্রের গুরূত্ব অনেকগুণ বেড়েছে। রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের যুগেও প্রিন্টিং মিডিয়ার গুরূত্ব এতটুকুও হ্রাস পায়নি। বরং কাগজের পাতায় ছাপার অক্ষরে চিরস্থায়ী লেখাগুলো হয়ে থাকবে কালের সাক্ষী। সংবাদপত্র প্রকাশে সবচেয়ে বড় ও গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সাংবাদিকরা। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সেজন্য সাংবাদিকদের সমাজের অতন্দ্র প্রহরী বা ‘গেইট কীপারস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁরা জাতির বিবেক হিসেবে সমাদৃত।

কুমিল্লা জেলায় সংবাদপত্র ও সাময়িকীর উদ্ভব ঘটে উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত জেলা গেজেটিয়ারের বর্ণনা মতে কুমিল্লা জেলা সদরে তখন একটি সাপ্তাহিক এবং দু’টি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর থেকেও একটি করে সংবাদপত্র প্রকাশিত হত। এ দৃষ্টিকোন থেকে বলা যায়, ১৮৮৩ খ্রীষ্ঠাব্দে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা হিতৌষী’। ত্রিপুরা তথা কুমিল্লার প্রথম পাক্ষিক এবং প্রথম মাসিক সংবাদপত্র যথাক্রমে- ‘ত্রিপুরা পত্রিকা’ এবং ‘ত্রিপুরা জ্ঞান প্রকাশনী’।

কালের বিবর্তনে নতুন চিন্তা-চেতনা ও প্রয়োজনের তাগিদে কুমিল্লা জেলায় সংবাদপত্রের প্রসার ঘটেছে। প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক সংবাদপত্র ও সাময়িকী। বর্তমানে এগুলো আর প্রকাশিত না হওয়ায় দুঃস্প্রাপ্য বলা যেতে পারে। তবে নানান আঙ্গিকে এখন অনেক দৈনিক ও সাময়িক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। ইতিহাসের ধারক ও বাহন হিসেবে কুমিল্লা জেলা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।

সাপ্তাহিক ত্রিপুরা হিতৌষীঃ কুমিল্লার কৃতিসন্তান গুরুদয়াল সিংহ সম্পাদিত ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা হিতৌষী’ই ত্রিপুরা তথা কুমিল্লা জেলার প্রথম সংবাদপত্র। গুরুদয়াল ‍সিংহের মৃত্যুর পর পত্রিকাটি যথাক্রমে তাঁর পুত্র কমনীয় কুমার সিংহ এবং পুত্রবধু উর্মিলা ‍সিংহের সম্পাদনায় ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল। খুব সম্ভব উর্মিলা ‍সিংহই ছিলেন কুমিল্লা তথা সারা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সংবাদপত্র সম্পাদক।

ত্রিপুরা প্রকাশঃ সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা প্রকাশ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘উষা’ পত্রিকার পরবর্তী সংস্করণ। মাসিক উষা পত্রিকার স্বত্ত্ব ত্যাগ ঘোষণায় সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা প্রকাশ’ এর উল্লেখ থাকলেও ১৯৭৭ সালে জেলা গেজেটিয়ারে ‘ত্রিপুরা বিকাশ’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার উল্লেখ রয়েছে। নাম বিভ্রাটের সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও মাসিক ‘উষা’র বিজ্ঞপ্তি সুত্রে বলা যায়, সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা প্রকাশ’ই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

সাপ্তাহিক প্রতিনিধিঃ রজত রায় নন্দীর সম্পাদনায় কুমিল্লার ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত জগৎ সুহৃদ প্রেস থেকে সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত ও মুদ্রিত ৪ পৃষ্ঠার এ সাপ্তাহিক ‘প্রতিনিধি’ নামে পত্রিকাটির দুই পৃষ্ঠা বাংলায় এবং দুই পৃষ্ঠা ইংরেজীতে ছাপা হত। এটিই ছিল কুমিল্লা থেকে ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত  প্রথম পত্রিকা।

সাপ্তাহিক নববঙ্গঃ কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর মহকুমা থেকে প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘নববঙ্গ’। ১৯১০ সালের জেলা গেজেটিয়ারের তথ্য মতে চাঁদপুর নববঙ্গ প্রেস থেকে হরেন্দ্র কিশোর চৌধুরীর সম্পাদনায় পত্রিকাটি ১৯১০ সালের পূর্বেই প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল।

সাপ্তাহিক চাষীর কথাঃ মুহম্মদ আরাতুল্লা সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘চাষীর কথা’ পত্রিকাটি ১৯৩০ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক ত্রিপুরা গাইডঃ কাদম্বরী গুপ্তা কর্তৃক সম্পাদিত জেলার প্রধান প্রধান সংবাদের আধার সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা গাইড’ পত্রিকাটি ১৯৩৪ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর প্রকাশিত হয়ে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

সাপ্তাহিক ত্রিপুরাঃ ১৯৩২ সালের ২৩ নভেম্বর শঙ্করী মোহন চট্টোপাধ্যায় ও অমরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের যৌথ সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে সাপ্তাহিক ‘ত্রিপুরা’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক বাংলার দাবীঃ শশাঙ্ক শেখর ঘোষ সম্পাদিত ‘বাংলার দাবী’ পত্রিকাটি প্রথম ফেনী থেকে পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর কার্যালয় কুমিল্লায় স্থানান্তরিত করে সাপ্তাহিকে রূপান্তরিত করা হয়। পত্রিকাটি ১৯৪০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক গুণবতীঃ উনবিংশ শতাব্দীর ত্রিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল্লা থেকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও চাঞ্চল্যকর খবরের আলোকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘গুণবতী’ পত্রিকাটি বেশ পাঠক সমাদৃত ছিল।

সাপ্তাহিক জনমত তওহীদঃ ননীগোপাল চ্যাটার্জী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘জনমত’ এবং মোহাম্মদ হাসান ইমাম সম্পাদিত ‘তওহীদ’ পত্রিকা দু’টি ১৯৪০ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। জনমত পত্রিকাটি বছর পাঁচেক টিকে ছিল। অপরদিকে পাকিস্তান আন্দোলন ও মুসলিম লীগের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘তওহীদ’ পত্রিকাটি রেনেসাঁয় রূপান্তরিত হয়।

সাপ্তাহিক নবজাগরণ/অভিযাত্রিক/ইতিহাস/সাথীঃ ১৯৪২ সালে কুমিল্লার তৎকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনকে ঘিরে একই সাথে ৪টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগলো হলো গোলাম নবী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘নবজাগরণ’, প্রিয়দাস সম্পাদিত ‘অভিযাত্রিক’, শশধর বণিক সম্পাদিত ‘ইতিহাস’ এবং অনীল দাস সম্পাদিত ‘সাথী’।

সাপ্তাহিক কষাঘাতঃ কুমিল্লার জগৎ সুহৃদ প্রেস থেকে প্রকাশিত ধীরেন সেন কর্তৃক সম্পাদিত নির্ভিক চিত্তের অপূর্ব নিদর্শন সাপ্তাহিক ‘কষাঘাত’ পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ৭ পৌষ, ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

সাপ্তাহিক হিন্দুঃ কুমিল্লার জগৎ সুহৃদ প্রেস থেকে মুদ্রিত অমল দাস কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘হিন্দু’ পত্রিকাটি ছিল মুলতঃ পূর্ববঙ্গ ও আসামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মুখপত্র। ১৯৪১ সালে প্রকাশিত এ পত্রিকাটির অস্থায়ী কার্যালয় ও প্রচার শেল ছিল শিলং।

সাপ্তাহিক ত্রিপুরার কথাঃ বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তড়িৎমোহন দাস গুপ্তের সম্পাদনায় সাপ্তিাহিক ‘ত্রিপুরার কথা’ পত্রিকাটি কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশনার কিছুকাল পরেই তা বন্ধ হয়ে পায়।

সাপ্তাহিক আমোদঃ কুমিল্লার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক ‘আমোদ’ পত্রিকাটি ১৯৫৫ সালের ৫মে প্রথম প্রকাশিত হয়। মোঃ ফজলে রাব্বীর সম্পাদনায় পুরাতন চৌধুরী পাড়া থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতা পূর্ব ও উত্তরকালে কুমিল্লা জেলায় অনেক লেখক ও সাংবাদিক সৃষ্টিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে ‘আমোদ’ পত্রিকাটি। সাপ্তাহিক ইতিহাসঃ ১৯৬৫ সালের ১ আগস্ট মোঃ নুরুল হোসেনের সম্পাদনায় ‘ইতিহাস’ পত্রিকাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পপুলার প্রেস থেকে সম্পাদক কর্তৃক প্রথম মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। একের পর এক ঘাত-প্রতিঘাত ও সম্পাদক বদলের মাধ্যমে পত্রিকাটি এগুতে থাকে। ৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবর্তিত সম্পাদক সামিউল আহমদ খান ফটিকের সম্পাদনায় এক বছর প্রকাশিত হয়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোঃ নুরুল হকের সম্পাদনায় পত্রিকাটি ১৯৬৯ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়। মাত্র ৯টি সংখ্যা প্রকাশের পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। বহুদিন পর ১৯৭৮ সালে তিনি আবার পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

রূপসী বাংলাঃ কুমিল্লার সংবাদপত্র জগতে যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টিকারী পত্রিকা ‘রূপসী বাংলা’। অধ্যাপক আবদুল ওহাব এর সম্পাদনায় পত্রিকাটি ১৯৭২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ‘রূপসী বাংলা’ নামে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৭৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পত্রিকাটি দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। সম্পাদক আবদুল ওহাব শিক্ষকতার মহান ব্রত এর পাশাপাশি তৎকালীন আমলে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই দুঃসাহসিক অভিযান এবং এর সার্থক রূপায়ন তাঁকে কিংবদন্তীর খ্যাতি এনে দিয়েছে। বর্তমানে পত্রিকাটি সম্পাদনা করছেন হাসিনা ওহাব এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আশিক অমিতাভ।

সাপ্তাহিক রণাঙ্গণঃ ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাইফুদ্দিন ঠাকুর সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘রণাঙ্গণ’ পত্রিকাটি কুমিল্লার সমবায় প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। বেশ কিছুদিন প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

সাপ্তাহিক মাতৃভূমি/ইস্তেহার/ধুমকেতুঃ স্বাধীনতার উষালগ্নে ১৯৭২ সালে কুমিল্লা থেকে পরপর তিনটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে- মোঃ মাইনুল হুদা সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘মাতৃভূমি’, জহিরুল হক দুলাল সম্পাদিত ‘ইস্তেহার’ এবং মীর্জা খবির উদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘ধুমকেতু’।

সাপ্তাহিক চাঁদপুর বার্তাঃ চাঁদপুর মহকুমাবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন মিয়া মোহাম্মদ আবদুল খালেক এর সম্পাদনায় ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক ‘চাঁদপুর বার্তা’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। শেখ মতিউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদপুর আইডিয়াল প্রেস থেকে সম্পাদক কর্তৃক পত্রিকাটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক মুক্তিঃ স্বাধীনতা উত্তরকালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম থেকে করুন কুমার দেব রায় এর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় সাপ্তাহিক ‘মুক্তি’ পত্রিকাটি লাকসাম সানাউল্লাহ প্রেস থেকে মুদ্র্রিত হয়। ২৮টি সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

সাপ্তাহিক বঙ্গবার্তাঃ ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সৈয়দা জাহানারা হায়দারের সম্পাদনায় এবং আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম কর্তৃক কুমিল্লার বিচিত্র প্রিন্টার্স থেকে সাপ্তাহিক ‘বঙ্গবার্তা’ পত্রিকাটি প্রথম মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি বেশিদিন এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেনি।

সাপ্তাহিক প্রতিবেদনঃ ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসেই মশিউর রহমান খানের সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফাইন আর্ট প্রেস থেকে সাপ্তাহিক ‘প্রতিবেদন’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে হারুনুর রশিদ দুলালের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’। পত্রিকাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফাইন আর্ট প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়।

সাপ্তাহিক রঙধনুঃ কুমিল্লা সমবায় ইউনিয়নের মুখপত্র হিসেবে ১৯৮১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আলী হোসেনের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘রঙধনু’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

সাপ্তাহিক সমাজকণ্ঠঃ ১৯৮১ সালের জুন মাসে কুমিল্লার টমছম ব্রীজ থেকে শা. জা. দেলোয়ার জাহিদের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সমাজকণ্ঠ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। মুগলটুলি নাজেরিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত এ পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোঃ আবদুল খালেক।

সাপ্তাহিক ফলকঃ ১৯৮৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আফতাবুর রহমানের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘ফলক’ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি কুমিল্লার বিষ্ণুপুর থেকে ফলক প্রেস এন্ড পাবলিসার্স থেকে সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত ও মুদ্রিত হয়।

পাক্ষিকত্রিপুরা পত্রিকাঃ কুমিল্লা জেলার প্রথম পাক্ষিক ‘ত্রিপুরা পত্রিকা’ ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এ সম্পর্কে আর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাক্ষিক প্রজাবন্ধুঃ পূর্ণচক্র চক্রবর্তীর সম্পাদনায় পাক্ষিক ‘প্রজাবন্ধু’ পত্রিকাটি ১৯২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির সম্পাদকের মালিকানাধীন জুবিলী প্রেস থেকে মুদ্রিত হত। এটি কিছুদিন মফিজউদ্দিন ভূঁইয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত হত। এরপর ১৯৬৪ সালে কথাশিল্পী মিন্নত আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রায় এক বৎসর। মিন্নত আলীর পর পুনরায় মফিজউদ্দি ভূঁইয়ার সম্পাদনায় পত্রিকাটি যথারীতি প্রকাশিত হয়।

পাক্ষিক নাজাতঃ মোহাম্মদ সেকান্দর আলীর সম্পাদনায় ১৯২৬ সালের নভেম্বর মাসে ত্রিপুরা খেলাফত কর্মী সংঘের মুখপত্র হিসেবে পাক্ষিক ‘নাজাত’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

পাক্ষিক দরদীঃ কুমিল্লার অত্যন্ত জনপ্রিয় উন্নতমানের সাহিত্য পত্রিকা পাক্ষিক ‘দরদী’ ১৯৩৮ সালে জগৎ সুহৃদ প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পত্রিকাটি পরিচালিত হলেও এর রচনাশৈলী ছিল অত্যন্ত উন্নত মানের। এতে গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাটক, কৌতুক, চিঠিপত্র ছাড়াও সাহিত্য বিষয়ক সংবাদ প্রকাশিত হত।

পাক্ষিক দি টিচারঃ বিংশ শতাব্দীর প্রায় মাঝামাঝি সময়ে অধ্যাপক আহসাব উদ্দিন আহমদের সম্পাদনায় কুমিল্লা সিংহ প্রেস থেকে হোয়াইট প্রিন্টে ছাপা ইংরেজী পাক্ষিক ‘দি টিচার’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আখতার হামিদ খানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত এটি প্রকাশিত হয়। পূর্ববাংলার কলেজ শিক্ষকদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এ ইংরেজী পাক্ষিকটির নির্বাহী দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আলী নওয়াজ এবং ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্যানরোমা লাইব্রেরীর স্বত্ত্বাধিকারী আবু মিয়া।

পাক্ষিক ডিটেকটিভঃ ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন রিয়াজউদ্দিন আহমদ এর সম্পাদনায় পাক্ষিক ‘ডিটেকটিভ’ পত্রিকাটি কুমিল্লার মোগলটুলি নাজেরিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত এবং সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

পাক্ষিক আলো/নতুন আলোঃ আবদুর রাজ্জাকের সম্পাদনায় ১৯৫৮ সালে কুমিল্লা থেকে পাক্ষিক ‘আলো’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশের পরই এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৬৯ সালে আবদুল কুদ্দুসের সম্পাদনায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের মুখপত্র হিসেবে পাক্ষিক ‘আলো’ নামেই আরেকটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতার পর এটিও বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে পাক্ষিক ‘নতুন আলো’ নামে একটি পত্রিকা কুমিল্লার লাকসাম থেকে অনন্ত কৃষ ধরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল।

পাক্ষিক পরিচয়ঃ ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল প্রখ্যাত কথাশিল্পী মিন্নত আলীর সম্পাদনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাক্ষিক ‘পরিচয়’ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এ পত্রিকাটি মহকুমা প্রশাসক এন.এন.চৌধুরী সিএসপি কর্তৃক প্রকাশিত এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পপুলার প্রেস হতে মুদ্রিত হত। এতে যথারীতি সংবাদ ছাড়াও ‘সাহিত্যিক’ নামে একটি সাহিত্য বিভাগ এবং কিশোরদের মানষিক উৎকর্ষ সাধনে ‘কিশলয় বিভাগ’ ঠাঁই পেয়েছিল।

পাক্ষিক চাষীর খবরঃ বিংশ শতাব্দীর ষাট দশকের দিকে মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসের সম্পাদনায় কৃষি বিষয়ক পত্রিকা পাক্ষিক ‘চাষীর খবর’ কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

পাক্ষিক লালমাই গোমতীঃ ১৯৬৭ সালে তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় আতিকুর রহমানের সম্পাদনায় কুমিল্লা জেলা পরিষদের মুখপত্র হিসেবে পাক্ষিক ‘লালমাই’ ও ‘গোমতী’ নামে দু’টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মাত্র একটি সংখ্যা প্রকাশের পরই গোমতী বন্ধ হয়ে যায় এবং লালমাই প্রায় দু’বছর প্রকাশিত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায়। তবে সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‍ওয়াহিদুর রহমানের সম্পাদনায় লালমাই মাসিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।

পাক্ষিক অন্যগ্রামঃ কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর মহকুমার জনসংযোগ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নাজিম সেলিম সম্পাদিত পাক্ষিক ‘অন্যগ্রাম’ পত্রিকাটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে আইয়ুব শাহীর মৌলিক গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ফিরিস্তিই ঠাঁই পেত বেশি। সঙ্গত কারণেই মৌলিক গণতন্ত্রের অবসানের সাথে পত্রিকাটিও বন্ধ হয়ে যায়।

পাক্ষিক রক্তপলাশঃ স্বাধীনতার উষালগ্নে ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার চাঁদপুর মহকুমা থেকে শাহ মোঃ ওবায়দুল্লাহর সম্পাদনায় পাক্ষিক ‘রক্তপলাশ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। মাত্র দু’তিনটে সংখ্যা প্রকাশের পরেই এটি বন্ধ হয়ে যায়।

পাক্ষিক কুমিল্লা সংবাদঃ ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি মোহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার এর সম্পাদনায় কুমিল্লার লাকসাম রোড থেকে পাক্ষিক ‘কুমিল্লা সংবাদ’ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৮১ সালের ২৭ এপ্রিল পত্রিকাটি সাপ্তাহিক ‘বাংলাদেশ সংবাদ’ নামে রূপান্তরিত হয়।

পাক্ষিক সভ্যতাঃ ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসে সৈয়দ মেঃ আফজলের সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাক্ষিক ‘সভ্যতা’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

মাসিক ত্রিপুরা জ্ঞান প্রকাশনীঃ ত্রিপুরা জেলার প্রাচীনতম সাময়িকী হিসেবে সমধিক পরিচিত মাসিক ‘ত্রিপুরা জ্ঞান প্রকাশনী’ পত্রিকাটি ১৮৬০ সালে কৈলাসচন্দ্র সরকারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এটি ত্রিপুরা জ্ঞান প্রকাশনী সভার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হত।

মাসিক উষাঃ ব্রাহ্মনবাড়িয়া মহকুমার প্রথম সাহিত্যপত্র কুমিল্লা জেলার প্রাচীনতম মাসিক ‘উষা’ পত্রিকাটি ১৮৯৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হিতৌষিনী যন্ত্রে শ্রী অনুকুল চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক প্রকাশিত ও মুদ্রিত হয়। পত্রিকাটির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন শ্রী নবচন্দ্র দত্ত।

মাসিক হীরাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শ্রী অনুকুলচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত মাসিক ‘হীরা’ পত্রিকাটি একটি বৈচিত্র্যময় মাসিক সাময়িকী। পত্রিকাটির সম্পাদক সম্পর্কে সুষ্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষ্ময়কর যে, হীরা পত্রিকাটিতে সম্পাদকীয় শব্দটির পরিবর্তে সুচনা শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং প্রথম সংখ্যা ব্যাতিত আর কোন সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়নি। পত্রিকাটির অনন্য বৈশিষ্ট ছিল এতে কোন বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হত না। তৎকালীন সমাজচিত্র পরিস্ফুটনে পত্রিকাটি বেশ সমাদৃত ছিল।

মাসিক সবুজ বাংলাঃ ১৯০০ খ্রীষ্ঠাব্দে খান সাহেব ওসমান আলী সম্পাদিত মাসিক ‘সবুজ বাংলা’ পত্রিকাটি দাউদকান্দি থানার জামালকান্দি গ্রাম থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০ বছর পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

মাসিক প্রতিনিধিঃ ১৯০১ খ্রীষ্ঠাব্দে শ্রীরজনী নাথ নন্দী বি.এল এর সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে মাসিক ‘প্রতিনিধি’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকা হিসেবে পরিচিত ২৪ পৃষ্ঠার মাসিক প্রতিনিধি কুমিল্লার বীনা যন্ত্র মুদ্রণালয় থেকে শ্রী শশীভূষণ দে কর্তৃক প্রকাশিত ও মুদ্রিত হত।

মাসিক যোগী সম্মিলনীঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ শ্রী রাধা গোবিন্দনাথের সম্পাদনায় ১৯১২ সালে কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে মাসিক ‘যোগী সম্মিলনী’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। যোগী সম্প্রদায়ের মুখপত্র হিসেবে পত্রিকাটি ১৯২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল।

মাসিক সন্তানঃ ১৯১৩ সালে শ্রী জীতেন্দ্রলাল দত্তের সম্পাদনায় এবং শ্রীযুক্ত রামকানাই দত্তের উপদেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান প্রেস থেকে মাসিক ‘সন্তান’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

মাসিক পল্লী প্রদীপঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত কালীকচ্ছ গ্রাম থেকে ১৯২০ সালে রমনী মোহন চক্রবর্তীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক ‘পল্লী প্রদীপ’। ১৯৪০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত এ পত্রিকাটিতে শিক্ষামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধই বেশি প্রাধান্য পেত।

মাসিক বাণিজ্য বার্তাঃ ১৯২৪ সালে শ্রীউপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় দেশীয় কৃষি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক মাসিক ‘বাণিজ্য বার্তা’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শ্রী ইউ.এন মুখার্জী কর্তৃক কুমিল্লার সিংহ প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকাটির প্রধান শ্লোগান ছিল- ‘নিরন্ন জাতির অন্ন সংস্থানই প্রকৃত দেশ সেবার উদ্দেশ্য’।

মাসিক চুণ্টা প্রকাশঃ ত্রিপুরা জেলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী মাসিক পত্রিকা ‘চুণ্টা প্রকাশ’ ১৯২৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার সরাইল থানার চুণ্টা গ্রাম থেকে শ্রীযুক্ত অপূর্ব চন্দ্র ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ত্রিপুরার মহারাজ কুমার নবদ্বীপ দেব বর্মণ, মন্ত্রী রাধা বোধজং বাহাদুর, চাঁদপুর গান্ধী খ্যাত হরদয়াল নাগ পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশকালে শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন। পত্রিকাটি ত্রিপুরা মহারাজার আর্থিক আনুকল্য লাভ করেছিল। তিন পর্যায়ে প্রকাশিত পত্রিকাটির প্রথম পর্যায়ে সম্পাদক ছিলেন অপূর্ব চন্দ্র ভট্টাচার্য, দ্বিতীয় পর্যায়ে অবিনাশ চন্দ্র ভট্টাচার্য এবং তৃতীয় পর্যায়ে গণেষ দত্ত। প্রায় বিশ বৎসরাধিকাল একনাগারে প্রকাশের পর অগ্নিকাণ্ডে যাবতীয় কাগজপত্র ভষ্মীভূত হওয়ার কারণে এর প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়।

মাসিক রায়ত বন্ধুঃ দ্বিজদাস দত্তের সম্পাদনায় ১৯২৯ সালে কুমিল্লা থেকে মাসিক ‘রায়ত বন্ধু’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। দু’বছর পরেই পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

মাসিক ত্রিপুরাঃ অমীয় চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ১৯৩০ সালে কুমিল্লা থেকে মাসিক ‘ত্রিপুরা’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এর দু’বছর পর ১৯৩২ সালে শঙ্করী মোহন চট্টপাধ্যায় ও অমরেন্দ্র নাথ মূখার্জীর সম্পাদনায় ‘ত্রিপুরা নামেই ভিন্ন একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

মাসিক পূর্ব্বাশাঃ কুমিল্লা তথা বাংলা ভাষা অধ্যুষিত অঞ্চলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাহিত্য সাময়িকী মাসিক ‘পূর্ব্বাশা’ শ্রী অজয় ভট্টাচার্য এবং অজিত কুমার গুহ কর্তৃক সম্পাদিত হত। কুমিল্লার সিংহ প্রেস থেকে শ্রী নারায়ন চৌধুরী কর্তৃক পত্রিকাটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত হত। দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের লেখনী পত্রিকাটিকে অনেক খ্যাতি ও যশ এনে দিয়েছিল।

মাসিক পূবালীঃ অজিতবন্ধু দেব কর্তৃক সম্পাদিত একটি উন্নত মানের মাসিক সাময়িকী ১৯৩৪ সালে ‘পূবালী’ নামে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়।

মাসিক ত্রিপুরা লক্ষ্নী/ত্রিপুরা নোয়াখালী লক্ষ্নীঃ ত্রিপুরা জেলার ইউনিয়ন বোর্ডসমুহের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত মাসিক ‘ত্রিপুরা লক্ষ্নী’ পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে ভূপেন্দ্রনাথ বিএ (সাহিত্যভূষণ) এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। কুমিল্লার কান্দিরপাড়স্থ লক্ষ্নী গোবিন্দ নিবাস থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটি এক বৎসর পরই ‘ত্রিপুরা নোয়াখালী লক্ষ্নী’ নামে রূপান্তরিত হয়।

মাসিক বাংলাদেশঃ কুমিল্লা জেলার সংবাদপত্র জগতের ইতিহাসে একটি স্বনামধন্য সাহিত্য সাময়িকী হচ্ছে মাসিক ‘বাংলাদেশ’। ১৯৩৮ সালে শৈলেন চক্রবর্তীর সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে সাময়িকীটি প্রকাশিত হয়। এটি ১৯৫৯ সাল নাগাদ টিকে ছিল।

মাসিক ধুমকেতুঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের “ধুমকেতু যে পুচ্ছ তুলে ছুটে, গর্জন শিখা তারই ঘিরে জোটে” বিখ্যাত চরণ দু’টি ললাটে ধারণ করে ১৯৩৮ সালে কানু সেনের সম্পাদনায় মাসিক ‘ধুমকেতু’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বেশিদিন ছুঠতে পারেনি।

মাসিক কল্যানীঃ ধর্মীয় কল্যান সাধনার মহান ব্রত নিয়ে ১৯৩৯ সালে শ্রী ক্ষীরোদ বিহারী চক্রবর্ত্তীর সম্পাদনায় মাসিক ‘কল্যানী’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। সব ধর্মের কল্যাণ কামনায় প্রকাশিত হলেও পত্রিকাটি মূলত: হিন্দু ধর্মের প্রচার, প্রসার ও জনমানসে এর স্থায়ী আসন নির্মাণের প্রত্যয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

মাসিক নিউ এ্যকুয়িটিঃ আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে কর্মচারীদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত মাসিক ‘নিউ এ্যকুয়িটি’ পত্রিকাটি ১৯৩৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কামিনী মোহন পাল বিএ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। কুমিল্লা জগৎ সুহৃদ প্রেস থেকে মুদ্রিত পত্রিকাটির জন্মলগ্নে কল্যাণ কামনায় বাণী পাঠিয়েছেন পণ্ডিত জহর লাল নেহেরু, সুরেশচন্দ্র ব্যানার্জী, অখিলচন্দ্র দত্ত, শিবনাথ ব্যানার্জী, ব্রজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী, শরৎচন্দ্র বোস প্রমূখ এমএলএ।

মাসিক জয়ন্তীঃ উন্নত রচনাশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম সাহিত্য সাময়িকী মাসিক ‘জয়ন্তী’ ১৯৩৯ সালে শ্রীধীরেশ্বর ভট্টাচার্য বিএ এবং শ্রীশচীন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীনা আর্ট প্রেস থেকে শ্রীগণেষ দাস ভট্টাচার্য কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

মাসিক সংস্কৃতিঃ কুমিল্লা সাধারণ পাঠকদের মুখপত্র খ্যাত মাসিক ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকাটি ১৯৪০ সালে জ্যোৎস্না রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। সংস্কৃতি ও সাহিত্যরসে ভরপুর পত্রিকাটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, অন্নদাশংকর রায়, মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, দীনেশ দাস প্রমুখ প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকদের লেখায় অলংকৃত হয়েছিল।

মাসিক নবযুগঃ সমাজতন্ত্র বিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কবিতায় সমৃদ্ধ মাসিক ‘নবযুগ’ পত্রিকাটি সম্ভবত বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের প্রথম দিকে অপূর্ব কাঞ্চন দত্ত রায়ের সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। মাসিক ত্রিপুরা বান্ধবঃ অনিলচন্দ্র ভট্টাচার্য, সুবোধচন্দ্র নন্দী এবং দুর্গা দাস গঙ্গোপাধ্যায় এ ত্রয়ীর সম্পাদনায় ১৯৪২ সালে কুমিল্লা থেকে মাসিক ‘ত্রিপুরা বান্ধব’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে শিশুদের জন্য ‘খোশবাগ’ নামে একটি আলাদা বিভাগ ছিল।

মাসিক কোরকঃ শিশু-কিশোর পত্রিকা হিসেবে খ্যাত মাসিক ‘কোরক’ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে কবি শহীদুল্লাহ এবং আবুল বশর এর সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। শিশু-কিশোরদের উৎসাহ উদ্দীপনা দানে বিভিন্ন কবিতা, গল্প ও রম্যরচনায় ভরপুর পত্রিকাটির ললাটে অংকিত থাকত- “ছোট্ট যারা আজকে তারা হতে পারে অবুঝ-কিন্তু তাদের পরাণখানি কাঁচা যেন সবুজ”

মাসিক সমযাত্রাঃ কুমিল্লা কোতয়ালি থানার কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মুখপত্র খ্যাত মাসিক ‘সমযাত্রা’ পত্রিকাটি ১৯৬৭ সালে মোহাম্মদ উল্যার সম্পাদনায় সমবায় প্রেস থেকে মুদ্রিত এবং সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত হত। দরিদ্র কৃষক ও মজদুরদের দুঃখ-দুর্দশা ও আশা-আকাঙ্খার বার্তা এবং সমবায় সম্পর্কিত বিচিত্র সংবাদ সমৃদ্ধ পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যায় প্রথম পৃষ্ঠায় আখতার হামিদ খানের বাণী প্রকাশিত হত। পত্রিকাটির দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্পাদক হন কাজী মোজাম্মেল হোসেন।

মাসিক ময়নামতিঃ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিমনস্ক দল নিরপেক্ষ সাময়িকী হিসেবে সমাদৃত মাসিক ‘ময়নামতি’ ১৯৬৫ সালে শামসুন্নাহার রাব্বীর সম্পাদনায় কুমিল্লার চৌধুরী পাড়া থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ইতিহাসনির্ভর লেখা এবং শিশুদের রচনাও ঠাঁই পেত।

মাসিক সমাজ পাড়িঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা প্রশাসক মোফাজ্জল করিমের পৃষ্ঠপোষকতা এবং আশাদ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯৬৮ সালে মাসিক ‘সমাজ’ নামক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। কাকতালীয়ভাবে সমাজ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পরই এটি ‘পাড়ি’ নামে রূপান্তরিত হয় এবং পাড়িরও এক সংখ্যা প্রকাশের পরই বন্ধ হয়ে যায়।

মাসিক মাঃ নারী সমাজ সমাদৃত উন্নত চিন্তন শক্তির বাহন প্রগতিশীল সাহিত্য সাময়িকী মাসিক ‘মা’ পত্রিকাটি ১৯৬৮ সালে জমিলা বেগমের সম্পাদনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত হয়।

মাসিক অলক্তঃ কুমিল্লা জেলার সৌখিন সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে খ্যাত মাসিক ‘অলক্ত’ তিতাস চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯৭২ সালে ১৩৭৯ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে প্রথম প্রকাশিত হয়। দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এবং দৈনিক ও সাময়িকীর প্রশংসাস্তুতিতে ধন্য ‘অলক্ত’ পত্রিকাটি প্রথমে শঙ্খচিল সাহিত্য পরিষদ এবং পরে অলক্ত সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত। ভারতের মেদিনীপুর থেকে প্রকাশিত অব্যক্ত পত্রিকা ও প্রকাশনী কর্তৃক আয়োজিত সকল বাংলা পত্রিকা প্রতিযোগিতায় ‘অলক্ত’ শ্রেষ্ঠ পত্রিকা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং ১৯৭৮ সালে ‘অব্যক্ত সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেছে।

মাসিক চিরকুটঃ কুমিল্লার তরুণ সমাজের উচ্ছ্বাস ও আবেগ প্রকাশের অনন্য মাধ্যম কবিতা সংকলন হিসেবে সমধিক পরিচিত মাসিক ‘চিরকুট’ ১৯৭৪ সালে ফজল মাহমুদের সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। বেশ ক’টি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

দ্বিমাসিক দি জার্ণাল অব দি ইস্ট পাকিস্তান একাডেমী ফর ভিলেজ ডেভেলপমেন্টঃ কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর ব্যবস্থাপনায় ১৯৬৫ সালে সিরাজুল ইসলামের সম্পাদনায় ইংরেজি ভাষায় ‘দি জার্ণাল অব দি ইস্ট পাকিস্তান একাডেমী ফর ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট’ নামে দ্বি-মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল।

দ্বিমাসিক পরিচয়ঃ ‘সে আমি তুমি’ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে দ্বি-মাসিক ‘পরিচয়’ পত্রিকাটি ১৯৭৭ সালে ফখরুল হুদা হেলালের সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। নিলুফার ইসলাম নেলী কর্তৃক প্রকাশিত এ পত্রিকাটি তিনটি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়।

ত্রৈমাসিক রবিঃ কিশোর সাহিত্য সমাজের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ত্রৈ-মাসিক ‘রবি’ পত্রিকাটি ১৯২৪ সালে মহারাজ কুমার নরেন্দ্রকিশোর দেব বর্মণের সম্পাদনায় কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায় সম্পাদক কর্তৃক কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে রচিত কবিতা ‘রবি মঙ্গল’ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি টিকে ছিল।

ত্রৈমাসিক নেয়ামতঃ কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার রাজাপুর থেকে ১৯৪০ সালে আবদুস সালাম মিয়ার সম্পাদনায় ত্রৈ-মাসিক ‘নেয়ামত’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল।

ত্রৈমাসিক কুমিল্লা নাট্যমঃ ৯৮২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফখরুল হুদা হেলালের সম্পাদনায় কুমিল্লার সিংহ প্রেস থেকে মুদ্রিত ত্রৈ-মাসিক ‘কুমিল্লা নাট্যম’ পত্রিকাটি সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

(সুত্র: কুমিল্লা জেলার ইতিহাস)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com