দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা।। সভাপতি তুষার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ৫ অক্টোবর শুভদিন শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন কমেছে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে শনাক্তের হার! শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন।। মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ দুঃসংবাদের ভিড়ে সুসংবাদ।। ভ্যাকসিন থেকে কেউ বাদ যাবে না-প্রধানমন্ত্রী বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ চাই–মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার ২৩ জুলাই থেকে সত্যিই সর্বাত্মক লকডাউন! বঙ্গবন্ধু পরিষদ তিতাস উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা ও মাস্ক বিতরণ শেখ হাসিনার জীবন বড়ই কষ্টের এবং বেদনাদায়ক!
করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। উত্তরণে চাই শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব সমন্বিত পরিকল্পনা

করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি।। উত্তরণে চাই শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব সমন্বিত পরিকল্পনা

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা।। করোনা মহামারি হতে দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে সরকারকে। এ লক্ষে হাসপাতাল শয্যা, আইসিউ, অক্সিজেন ইত্যাদির ব্যবস্থা করলে মানুষের প্রাণ বাঁচবে। দোকানপাট, শপিংমল, শিল্পকারখানা খোলা রাখলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। কিন্তু শিক্ষা? জাতিকে বাঁচাতে হলে শিক্ষাকে বাঁচাতে হবে। করোনার হিংস্র থাবায় যেমন অচল জীবন জীবিকা ও অর্থনীতির চাকা, তেমনি বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি। চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দুর্দশার অন্ত নেই। একদিন করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে যাবে, জনজীবন আবার স্বাভাবিক হবে, অর্থনীতির চাকাও সচল হবে। কিন্তু শিক্ষার যে অপুরণীয় ক্ষতি হলো তার রেশ থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে কোচিং সেন্টারও। দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। এতে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চলেছে। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষায় একটি গতি এসেছিল। শহর এবং গ্রামের মধ্যে শিক্ষায় ব্যবধান কমে এসেছিল। সেটি এখন প্রচন্ড হোঁচট খাবে। শ্রমজীবী অনেক পরিবারের সন্তানদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা আছে। বেড়ে যেতে পারে বাল্যবিবাহের হার। আরও নানা সমস্যা হবে যা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমখি করে তুলবে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করে বাস্তবতার নিরিখে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে শিক্ষাপঞ্জিকে।
করোনা মহামারিতে প্রায় ১৬ মাস ধরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান। বন্ধ আছে সব ধরনের পরীক্ষা। থমকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম। তবে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে নিতে অনলাইনে ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির পাঠদান চলছে। কিন্তু তাতে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। বরং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দফায় দফায় পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ। করোনা সংক্রমণের বর্তমান হার বজায় থাকলে আগামী ৩১ জুলাইয়ের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব নাও হতে পারে। সার্বিক বিশ্লেষণে পৌনে ৪ কোটি ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনায় শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং সুদূরপ্রসারী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা চরম নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। তাই সার্বিক শিক্ষা পুনরুদ্ধারে সুচিন্তিত পরিকল্পনা নেয়া খুবই জরুরি।
কীভাবে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়ে সব উন্নয়নশীল দেশই হিমশিম খাচ্ছে। এটি আমাদের জন্যও বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশে মূল্যায়ন হয় শ্রেণিকক্ষে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু করোনার কারণে সব থমকে গেছে। এখন এ ধকল কাটিয়ে উঠতে উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব প্রয়োজন ও বাস্তবতার নিরিখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের জন্য অনলাইনে ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে বিকল্প পাঠদান পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব শিক্ষার্থীর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিজস্ব কক্ষপথ থেকে অনেকটাই বিচ্যুত। কবে আবার দৈনন্দিন শিখন-শিক্ষণ কর্মসূচিতে ফিরিবে, বলা কঠিন। শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও তা এখন সর্বজনবিধিত নয়। যার স্মার্টফোন আছে, ইন্টারনেট সংযোগ আছে, সর্বোপরি ইন্টারনেট-সংযুক্ত এলাকায় যে শিক্ষার্থীর বসবাস, তার জন্যই শিক্ষা অধিকার। ডিজিটাল সুবিধায় তারতম্যের জন্য গ্রাম ও শহর, সরকারি বিদ্যালয় ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভেও হেরফের পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৈষম্যের যাঁতাকলে এখন শিক্ষার্থীরাও।
সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মাঝে বিরাজমান বৈসম্যের কারণে এমনিতেই শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজ করছে নাজুক পরিস্থিতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা করোনাকালে প্রাপ্য সুবিধাদি ষোল আনা পেলেও বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, স্বল্প বেতনভোগী বেসরকারি শিক্ষকরা সাধারণত প্রাইভেট টিউশনী ও কোচিংয়ের এর উপর নির্ভর করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে থাকেন। যা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে কিছু বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বন্ধ থাকায় এখন এটাও নেই বললেই চলে। বিশেষ করে নন-এমপিও এবং কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকরা আছেন চরম বিপাকে। মোদ্দাকথা বেসরকারি শিক্ষকরা এখন মোটেও ভালো নেই। তারা না পারছে কইতে না পারছে সইতে। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। শিক্ষা ও শিক্ষককে বাঁচাতে না পারলে জাতিকে কঠিন মাশুল গুণতে হবে।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com