দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া শিক্ষা জাতীয়করণ ‘সোনার পাথর বাটি’ পিতার স্বপ্ন ছিল শিক্ষা জাতীয়করণ কন্যার হাতে হোক বাস্তবায়ন হোমনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি এবং একাশির ১৭ মে বাঙালির ইতিহাসে দু’টি স্মরণীয় দিন হোমনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধিকে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক-৪ সমাজের দুর্গন্ধটুকু এখন আর কারো নাকে লাগেনা বাংলাদেশের বর্তমান শীতল রাজনীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শ্রেষ্ঠ সময় হোমনায় আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে-শেখ হাসিনা ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে এক নম্বর পিলার হচ্ছে বাংলাদেশ-নরেন্দ্র মোদি
বাদল রায়।। একটি নক্ষত্রের প্রয়াণ অব্যক্ত বয়ান

বাদল রায়।। একটি নক্ষত্রের প্রয়াণ অব্যক্ত বয়ান

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। ২০১৭ সাল থেকে রোগব্যাধির সাথে লড়াই করে ধরাধাম থেকে চিরবিদায় নিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াঙ্গণের উজ্জ্বল নক্ষত্র বাদল রায়। আজ রোববার বিকেল ৫.৩৫ মিনিটে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যালে চিকিৎসারত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ক্রীড়াঙ্গণের প্রিয়মুখ বাদল রায়।
সাবেক এ তারকা ফুটবলারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে বাদল রায়ের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদল রায়কে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। বাংলাদেশের সাড়াজাগানো ফুটবলার এবং সংগঠক বাদল রায় লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই পেটে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়। গত ১৫ নভেম্বর লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বাদল রায়। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ক্যানসার ধরা পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে উঠলেও সেই অসুস্থতা ছাপ ফেলে যায় তাঁর শরীরে। গত আগস্টে আক্রান্ত হন কোভিডে। অসুস্থ অবস্থাতেও ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। বাফুফের বিভিন্ন ব্যাপারে সোচ্চার হতে দেখা গেছে তাঁকে। ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর মোহামেডানের পুনর্গঠনে রাখেন বড় ভূমিকা। সর্বশেষ বাফুফে নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচনও করেছেন কাজী সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। এর আগে বাফুফের সহ সভাপতি হিসেবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন বাদল রায়।
বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে বাদল রায় আশির দশকে মোহামেডান স্পোর্টিংয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন। জাতীয় দলেও ছিল সমান আধিপত্য। ছিলেন অধিনায়কও। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সংগঠক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রিয় ক্লাব মোহামেডানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমৃত্যু। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে যুগ্মসম্পাদক হিসেবে কাজ করার পর টানা তিনবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে সহ-সভাপতি ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাবেক ফুটবলার ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা এবং বৃহত্তর দাউদকান্দি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিতকরণে বাদল রায়ের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। একজন সুহৃদ ও রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে খুব কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে জাতি একজন কৃতি খেলোয়ার ও সংগঠকই নয়, একজন ভালো মানুষকেও হারিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com