দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
আমি লিখতে চাই কিন্তু লিখতে পারি না

আমি লিখতে চাই কিন্তু লিখতে পারি না

মো. সাজ্জাদ হোসেন।। আমি লিখতে চাই। লিখতে আমার খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু আমি কি বিষয় নিয়ে লিখব। লেখার বিষয় আমি খুঁজে পাই না। আমার মেধা বুদ্ধি, দক্ষতা একেবারে নিম্নমানের। আমার মেধা বুদ্ধি দিয়ে জটিল কেন, কোন সহজ সমস্যার সমাধান করাটাও খুব কঠিন। তবুও আমি সমাজের সাধারণ মানুষ হয়ে আমার ভাবনা চিন্তার জগত থেকেই লিখতে চাই। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে লিখতে চাই। আমি যে বিষয় নিয়ে লিখব এবং যাদের বিরুদ্ধে লিখব তারা খুব শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে লিখতে হলে ১০টা মাথা এবং ১০ জোড়া হাত থাকতে হবে। একটি দু’টি মাথা এবং দু’চারটি হাত না থাকলেও অন্তত বেঁচে থাকা যাবে। কিন্তু আমার মত যাদের একটি মাথা এবং দুটি হাত তারা বেঁচে থাকবে কিভাবে।
আমি যদি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলি তাহলে সমস্ত ধর্ষকসমাজ এক জোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। ধর্ষক কোন মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা নয় আমাদের পাশের মানুষজন। সবার অতি পরিচিতজন। যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি তাহলে সকল দুর্নীতিবাজরা আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। যদি অসৎ রাজনীতিবিদ এবং ঠকবাজ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কথা বলি, তাহলে সমাজে টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে। ধর্মব্যবসায়ী অথবা মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে শরীর থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে যাবে। রাষ্ট্রের অসৎ ব্যক্তি, অসৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কথা বললে মামলার বেড়াজালে বন্দি থাকতে হবে। ঘুষখোর, সুদখোর, মাদক বিক্রেতা, মাদক গ্রহীতা কারও বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সুযোগ নেই। অন্যায়কারির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য প্রমাণ লাগে। প্রমাণ দেওয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ। যারা লোক ঠকায় তারাও অনেক শক্তিশালী। নারী ও শিশুনির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না। লম্পটদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। ইভটিজারদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না।
ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। মাদক বিরোধী সমাবেশে মাদক সেবীদের অংশগ্রহণ। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার হয়। জাতীয়সংসদ সদস্যদের চরিত্রও আজ কলুষিত। আইন প্রণেতারাও আইন লঙ্ঘনে ব্যস্ত। দুনীর্তির বিরুদ্ধে সবসময় যাদের কন্ঠ সর্বদা সোচ্চার তারাও আজ দুনীর্তিতে নিমজ্জিত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অধর্মের কাজ। সৎ ব্যবসায়ীর ছদ্দবেশে অসৎ কর্মকান্ড। সকল ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য। সততার মুখোশের আড়ালে অসৎ লোকের ছড়াছড়ি।
সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা উক্তিটি আজ শুধুমাত্র বইপুস্তকে শোভা পাচ্ছে। মানুষের ব্যক্তি জীবনকে তা শোভা বর্ধন করতে পারে না। মানুষের মনে অসৎচিন্তা। মুখে অশ্লীল কথাবার্তা।
সততার বুলি মানুষের মুখেমুখে। নৈতিক আদর্শের চর্চা ব্যক্তি জীবনে খুঁজে পাওয়া যায় না। যেটা দেখা যায় সেটা মুখ না মুখোশ। মুখোশের আড়ালের মুখ অনেক ভয়ঙ্কর। সব জায়গায় মিথ্যের জয়জয়কার। সত্য আজ নির্বাসিত। ক্ষমতা বানের কাছে মানুষ জিম্মি। সাধু এবং সজ্জন ব্যক্তিরা আজ সমাজে মূল্যহীন। ভন্ডমুখোশধারী মানুষদের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই আজ কঠিন। ঠকবাজ মানুষেরা প্রতিনিয়ত মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছে। ঠকবাজ দুষ্টু মানুষদের প্রতিরোধের শক্তি আজ ম্রিয়মান। তাদের শক্তির কাছে মানুষ অসহায়।
প্রবাদে বলা হয়েছে “অসির চেয়ে মসি বড়।” কিন্তু এই প্রবাদটি আজ উল্টে হয়েছে। মসির চেয়ে অসি বড়।
সাধারণ মানুষ আজ নিপীড়িত নির্যাতিত। পদে পদে তারা লাঞ্ছিত। জনক্লার্ক বলেছেন- “অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পায় না।”
লেখকঃ প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান, লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com