দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
আগামীর প্রত্যাশা-শিক্ষা হোক অবৈতনিক শিক্ষক বৈতনিক

আগামীর প্রত্যাশা-শিক্ষা হোক অবৈতনিক শিক্ষক বৈতনিক

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের কাকতালীয় বিধিধিান প্রচলিত রয়েছে। এতে শিক্ষক অসুন্তুষ্টি ক্রমশ বাড়ছে। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলেও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে প্রাপ্য সুবিধাদির বৈষম্য শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া সরকারি বিদ্যালয় গুলোতে নামমাত্র টিউশন ফি দিয়ে পড়ালোখা করছে বিত্তবানদের সন্তানেরা। অথচ উচ্চ হারে টিউশন ফি দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব কৃষক তথা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা পড়ছে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ শিক্ষাবছর থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ালেখাও অবৈতনিক হচ্ছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মতো ষষ্ঠ শ্রেণিতেও স্কুলে বেতন দিতে হবে না শিক্ষার্থীদের। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর টিউশন ফি পরিশোধ করবে সরকার।  গত ২৩ মে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এসইডিপি প্রকল্পের এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি ছিল। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি দেয়া হবে। এছাড়াও পাবলিক পরীক্ষার ফি প্রদান, বই কেনা, উপবৃত্তি ও টিউশন ফি এবং স্টকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টশন প্রদান করা হবে।   মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন কল্পে পাঁচ বছর মেয়াদী এসইডিপি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এই এসইডিপি প্রকল্পের অধীনে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পযায়ক্রমে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেবে সরকার। 

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অবৈতনিক শিক্ষা চালুর কর্মপন্থা তৈরির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০২০ সাল থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ টাকা করে টিউশন ফি দেওয়ার প্রিাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে সপ্তম শ্রেণিতে,   ২০২২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণিতে অবৈতনিক শিক্ষা চালু হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষায় উপবৃত্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় হ্রাসে সরকারের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু শিক্ষার চালিকা শক্তি শিক্ষকদের প্রতিও তো নজর দিতে হবে। সকলেই জানে এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা শতভাগ বেতন সরকারি কোষাগার থেকেই পান। ক’জনই বা জানেন যে, শিক্ষকরা আসলে বেতনই পান না! যা পান তা বেতনের নামে অনুদান মাত্র। তাও আবার বেতন স্কেলের শতভাগ থেকে ১০% অনুদান অবসর ও কল্যাণের নামে কেটে রাখা হয়। বাড়িভাড়া নামমাত্র ১০০০/- টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০/- টাকা, উৎসব ভাতা খণ্ডিত, মাত্র ২৫%। বদলি নেই, যেখানে শুরু সেখানেই শেষ। তাই বলছি, শিক্ষা যেহেতু অবৈতনিক হচ্ছে, শিক্ষকদেরও সরকারিকরণ করে বৈতনিক করা হোক। অনুদানের নামে গুলি ছাড়া  রাইফেল ধরিয়ে দিয়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা দুরূহ। এসইডিপি প্রকল্পে সরকার যে পরিমান অর্থ বরাদ্ধ দিচ্ছে তার কিঞ্চিৎ পরিমান বরাদ্ধ দিলে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ সম্ভব। দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা জাতীয়করণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com