দৃষ্টি আকর্ষণঃ
আমাদের ভূবনে স্বাগতম। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের পাথেয়।
সংবাদ শিরোনাম
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকরা জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত।। দাওয়াই আপনাকেই দিতে হবে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন! স্বাস্থ্যবিধি উধাও সংকটের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষকদের জীবন শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বোপরি সরকার আগে জীবন পরে জীবিকা- ওবায়দুল কাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে।। পিছিয়ে যেতে পারে আরো দু’মাস লকডাউনে নতুন ৬ শর্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারে মতো শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী মার্কেট ও শপিংমলে ভিড়ের দৃশ্য দেখে মনে হয় না দেশে করোনা মহামারি চলছে! খাল খনন প্রকল্পের নামে নয়-ছয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবধান বাণী
‘অপরাজিতা শেখ হাসিনা’ বেসরকারি শিক্ষায় বৈষম্য নিরসনে করছি আপনার হস্তক্ষেপ কামনা

‘অপরাজিতা শেখ হাসিনা’ বেসরকারি শিক্ষায় বৈষম্য নিরসনে করছি আপনার হস্তক্ষেপ কামনা

ছবিঃপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ( ফাইল ফটো)

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার।। পরিপ্রেক্ষিত এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীর তাঁর ‘অপরাজিতা শেখ হাসিনা’ শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক কলামে লিখেছেন, “যখনই বাংলাদেশে সংকট ঘনীভূত হয়, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মেঘ জমা হয় তখনই একজন মানুষ অদম্য দৃঢ়তা, কঠোর নিষ্ঠায় শঙ্কার মেঘ সরিয়ে দেন। যখনই মনে হয় সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে, দুঃসময়ের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে আমরা চোখ বন্ধ করি তখনই একজন ত্রাণকর্তা নিপুণ দক্ষতায় দুঃসময়ের দুঃস্বপ্ন দূর করেন। সেই মানুষটির নাম শেখ হাসিনা। একজন প্রধানমন্ত্রী কিংবা একজন রাজনৈতিক নেতার চেয়েও তাঁর বড় পরিচয় তিনি একজন যোদ্ধা, একজন অভিভাবক, একজন ক্রাইসিস ম্যানেজার। তিনি হার মানতে জানেন না। বাংলাদেশে এখন প্রায় সব মানুষই স্বীকার করবেন, হার না মানার নামই শেখ হাসিনা।”
প্রখ্যাত লেখক সৈয়দ বোরহান কবীরের এ মন্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। শেখ হাসিনা অনন্য অসাধারণ। তিনি খ্যাতির চূড়ায় আসীন। যে কোন সংকট মোকাবিলায় তিনি এক বিকল্পরহিত সত্ত্বা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। করোনার থাবায় গোটা শিক্ষাক্ষেত্র তছনছ, বিপর্যস্ত শিক্ষাপঞ্জি, চরম বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দুর্দশার অন্ত নেই। তারা না পাছে কইতে না পারছে সইতে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জনদরদী, অপরের দুঃখে আপনার প্রাণ কাঁদে। কিন্তু আমরা যারা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রহস্যজনক কারণে আপনার কৃপা দৃষ্টিলাভ এবং আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি! সংখ্যায় আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এবং দেশের ৯৮ ভাগ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও আমরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। সরকারি কর্মচারিরা ২০১৫ সাল থেকে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও আপনার আশির্বাদে আমরা পেয়েছি ২০১৮ সালে। তাও আবার কোনরূপ বকেয়া ছাড়া। একইভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বৈশাখী ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আপনার কাছে সমান। বাঙালি স্বভাবতই উৎসব প্রিয় জাতি। বেসরকারি শিক্ষকরা এর বাইরে নয়। সমাজের আট দশটা মানুষের মত আমাদেরও স্বাদ-আহ্লাদ আছে। সন্তান-সন্ততি আছে। ঈদের কেনাকাটার শখ তাদেরও আছে। আমি নিজে একজন প্রধান শিক্ষক। আমার বেতন স্কেলের ২৫% ঈদবোনাস মাত্র ৮৭২৫/- টাকা। এ নামমাত্র টাকায় স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঈদের কেনাকাটা আদৌ সম্ভব কিনা এ প্রশ্ন জাতির কর্ণধার আপনার কাছেই রাখলাম। লজ্জাস্কর হলেও সত্য আমরা মাত্র ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাই যা দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই কোথাও নাই। আমাদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০/- টাকা, বদলী সোনার হরিন! চাকরি যেখানে শুরু সেখানেই শেষ।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা এখন হতাশায় ভূগছে। তারা এখন জাতীয়করণ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। তাছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছর ব্যাপী ২৫% উৎসব ভাতা পেয়ে তারা এখন হতাশাগ্রস্ত। নির্ধারিত ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নিয়েও তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। ইতমধ্যে লালমনিরহাটের সরল খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রশিদুল আলম বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতার ১৫০০ টাকা চালানের মাধ্যমে মাউশির ডিজি বরাবরে ফেরত দিয়েছেন। বাকিবিল্লাহ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক কলেজ প্রভাষক বাড়ি ভাড়ার এক হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। এখন ২৫% উৎসব ভাতার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য সারাদেশের অনেক এমপিওভূক্ত শিক্ষক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি একটি অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা বলেই আমার কাছে মনে হয়। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক এখন হতাশায় ভূগছি। এতে শুধু আমরা নই, সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চাওয়া-পাওয়ার এ ফোবিয়া আক্রান্ত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন বোধ করছি। জাতির সংকটময় মুহুর্তে আপনাকে দেখেছি কান্ডারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে। শিক্ষাবান্ধব তকমাটিও আপনাকেই মানায়। তাই আমাদের এ দুঃসময়ে আপনাকেই ত্রাণকর্তা হিসেবে কাছে পাবো এ প্রত্যাশা করছি। আপনি সবই জানেন এবং বুঝেন। তাই প্রত্যাশা করছি করোনায় বিপর্যস্ত বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীত উপলক্ষে আমরা উপহার হিসেবে পেতে চাই বহুল প্রত্যাশিত জাতীয়করণের ঐতিহাসিক ঘোষণা। মুজিববর্ষ বয়ে আনুক আলোকবর্ষ।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক, পীর কাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়, মুরাদনগর, কুমিল্লা। ০১৮১৮৬৬৪০৩৪, E-mail: alauddinhm71@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 www.kalpurushnet.com